ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:  প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার ফিরিস্তি তুলে ধরল এনসিপি লংমার্চ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে ১১ দলের বৈঠক সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন, নেপথ্যে কী ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেত্রী ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফেক পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রতিবাদ মহিলা জামায়াতের

পে-স্কেলে সুখবর: গেজেট পেছালেও জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন বেতন কাঠামো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে ত্রুটির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পে-স্কেলে সুখবর: গেজেট পেছালেও জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন বেতন কাঠামো

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
প্রসঙ্গ নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে ত্রুটির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।