ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, বিভক্ত বিরোধী দল, আ.লীগের শোডাউন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমর্থনপুষ্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তাদের নীল প্যানেল নিয়ে লড়ছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সমমনা দলগুলো পৃথক প্যানেল দিচ্ছে। বিগত সময়ে জামায়াত ও এনসিপির ঐক্যবদ্ধ প্যানেল দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। এদিকে, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনে আসার চেষ্টায় শোডাউন করলেও শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনি কৌশল বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির কৌশল নির্ধারণ করা হয়। সেখানে মত এসেছে, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন জাতীয়ভাবে অনেক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬-২৭ সেশনের আসন্ন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরাম থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অপরদিকে মোহাম্মদ আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় সম্পাদক পদে। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমানকে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির এ নির্বাচনকে দেশের বিচারিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হয়। প্রতি বছর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক মেরূকরণ সৃষ্টি হয়। বিগত বছরগুলোয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’ এবং বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ‘প্যানেল’ নির্বাচনি লড়াইয়ে মূল আকর্ষণ ছিল।

তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি কোনো আইনজীবী অংশ নিতে পারবেন না বলে সমিতির সাধারণ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাউথ হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কয়েকশ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলের সমর্থক আইনজীবীরা এ নির্বাচনে সুযোগ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের সরকারি গেজেট ও ২০২৬ সালের আইন অনুসারে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে অযোগ্য।

এবারের নির্বাচনি প্রচারাভিযানের শুরুতে জামায়াত, এনসিপি ও এবি পার্টি মিলে সমন্বিত বিরোধীদলীয় জোটের জন্য চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখছে না বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত লইয়ার্স কাউন্সিল তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। এতে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন, সহসভাপতি পদে মঈনুদ্দিন ফারুকী ও আব্দুল হক, সম্পাদক পদে রেজাউল করিম খন্দকার, সহসম্পাদক পদে তরিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাহাঙ্গীর আলমসহ সবগুলো পদে প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একই ভাবে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স ও এবি পার্টি মিলে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, যার নেতৃত্বে আছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু। তিনি সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া এ প্যানেলে আরো আছেনÑঅ্যাডভোকেট এসএম আজমল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, সহসম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগর শরিফী ও ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. বন-ই-আমিন তাকি, ব্যারিস্টার মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দেওয়ায় নাখোশ দলীয় আইনজীবীরা। গতকাল বুধবার সুপ্রীম কোর্টের অ্যানেক্স ভবন এলাকায় শোডাউন করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় সাংবাদিকদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে কোনো মনোনয়ন দাখিল করেননি। বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিস কোনো প্রার্থীকে না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি মধ্যরাতে মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, উৎসবমুখর আমেজের মধ্য দিয়ে আইনজীবী সমিতিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়। কিন্তু বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অ্যাডহক কমিটি কর্তৃক নজিরবিহীন ও প্রহসনমূলক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্ট বার অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, জুলাইযোদ্ধাসহ অনেকে সুপ্রিম কোর্ট বারে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তারা বলেছেন, যারাই ইতঃপূর্বে আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন, তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, বিভক্ত বিরোধী দল, আ.লীগের শোডাউন

আপডেট সময় : ০৪:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমর্থনপুষ্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তাদের নীল প্যানেল নিয়ে লড়ছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সমমনা দলগুলো পৃথক প্যানেল দিচ্ছে। বিগত সময়ে জামায়াত ও এনসিপির ঐক্যবদ্ধ প্যানেল দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। এদিকে, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনে আসার চেষ্টায় শোডাউন করলেও শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনি কৌশল বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির কৌশল নির্ধারণ করা হয়। সেখানে মত এসেছে, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন জাতীয়ভাবে অনেক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬-২৭ সেশনের আসন্ন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরাম থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অপরদিকে মোহাম্মদ আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় সম্পাদক পদে। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমানকে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির এ নির্বাচনকে দেশের বিচারিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হয়। প্রতি বছর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক মেরূকরণ সৃষ্টি হয়। বিগত বছরগুলোয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’ এবং বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ‘প্যানেল’ নির্বাচনি লড়াইয়ে মূল আকর্ষণ ছিল।

তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি কোনো আইনজীবী অংশ নিতে পারবেন না বলে সমিতির সাধারণ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাউথ হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কয়েকশ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলের সমর্থক আইনজীবীরা এ নির্বাচনে সুযোগ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের সরকারি গেজেট ও ২০২৬ সালের আইন অনুসারে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে অযোগ্য।

এবারের নির্বাচনি প্রচারাভিযানের শুরুতে জামায়াত, এনসিপি ও এবি পার্টি মিলে সমন্বিত বিরোধীদলীয় জোটের জন্য চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখছে না বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত লইয়ার্স কাউন্সিল তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। এতে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন, সহসভাপতি পদে মঈনুদ্দিন ফারুকী ও আব্দুল হক, সম্পাদক পদে রেজাউল করিম খন্দকার, সহসম্পাদক পদে তরিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাহাঙ্গীর আলমসহ সবগুলো পদে প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একই ভাবে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স ও এবি পার্টি মিলে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, যার নেতৃত্বে আছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু। তিনি সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া এ প্যানেলে আরো আছেনÑঅ্যাডভোকেট এসএম আজমল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, সহসম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগর শরিফী ও ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. বন-ই-আমিন তাকি, ব্যারিস্টার মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দেওয়ায় নাখোশ দলীয় আইনজীবীরা। গতকাল বুধবার সুপ্রীম কোর্টের অ্যানেক্স ভবন এলাকায় শোডাউন করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় সাংবাদিকদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে কোনো মনোনয়ন দাখিল করেননি। বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিস কোনো প্রার্থীকে না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি মধ্যরাতে মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, উৎসবমুখর আমেজের মধ্য দিয়ে আইনজীবী সমিতিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়। কিন্তু বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অ্যাডহক কমিটি কর্তৃক নজিরবিহীন ও প্রহসনমূলক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্ট বার অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, জুলাইযোদ্ধাসহ অনেকে সুপ্রিম কোর্ট বারে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তারা বলেছেন, যারাই ইতঃপূর্বে আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন, তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।