মিথ্যা মামলা করায় বিএনপি নেতাকে জরিমানা, অর্থ পাবেন আসামি আ.লীগ নেতা-কর্মীরা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সাজ্জাদ হোসেন (৪৬)। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামে তার বাড়ি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তিনি কারাগারে ছিলেন। অথচ সেদিন ভোট দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দাবি করে মিথ্যা মামলা করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের দামকুড়া থানায় মামলাটি করেন সাজ্জাদ হোসেন। মামলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বাদলসহ দলটির ১৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।
এজাহারে সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট দেওয়ার জন্য সাজ্জাদ হোসেন কসবা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। এ সময় আসামিরা তাঁকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এরপরও তিনি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল পিস্তল দেখিয়ে তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন এবং অন্য আসামিরা সাজ্জাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে রজব নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামি বাবর আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহাগ ও মো. রাজিব তাঁদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে বাদীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তখন গুলি তাঁর পাশ দিয়ে চলে যান। আসামি বাদলসহ অন্যরা তাঁদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, হাঁসুয়া ও পাসলি দিয়ে তাঁকে মারপিট করে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করেন। পরে তাঁর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এ সময় আসামিরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অথচ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাই তার দায়ের করা মামলার ঘটনার বিবরণ সন্দেহাতীতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, মামলার ঘটনার তারিখে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। অথচ ওই তারিখে তাঁকে ভোটকেন্দ্রে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
তিনি জানান, এই মিথ্যা মামলায় দুজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। জরিমানার অর্থ তারা ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। তা না হলে বাদীকেই এক মাস কারাভোগ করতে হবে।
মামলার বাদী বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আদালত উল্টো আমাকেই এক লাখ টাকা জরিমানা করে দিয়েছেন। ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে হবে। তা না হলে এক মাস জেল খাটতে হবে। এখন কী করি দেখি।’
মামলাটি মিথ্যা কি না জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি তো আসলে রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম। মামলা করার সময় বিষয়টা মনে ছিল না। আদালতে যখন প্রমাণিত হয়েছে, তখন মামলা মিথ্যাই ছিল।’




















