গাইবান্ধায় তেলের পাম্প বন্ধ থাকায় সংঘর্ষ, অবরোধ
- আপডেট সময় : ১০:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার সাত উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের প্রায় সবগুলো তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া তেল সংকটকে ঘিরে বাইকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়াও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
ঈদের দিন শহরের দাড়িয়াপুর সড়কের গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা জিম নাম এম কর্মচারীর মাথায় আঘাত করেছে। আহত ওই কর্মচারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৩ মার্চ) পলাশবাড়ী উপজেলায় সরকার তেল পাম্প পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদের গাড়ির ধাক্কায় রায়হান (৬) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একইদিন (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জে পি ফিলিং স্টেশনের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, পাম্পের মালিকরা সরকারি নিয়ম মেনে মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ করছে না। অথচ খোলা বাজারে অধিক মূল্যে তেল পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গাইবান্ধা শহরের দাড়িয়াপুর সড়কের গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মুকুল মিয়া জানান, ঈদের দিন থেকে পেট্রোল এবং অকটেন শেষ হওয়ায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। আজ তেল আনতে পার্বতীপুর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তেল পাওয়া গেলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।
শহরের প্রধান পাম্পগুলোর একটি এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন। গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার সরকার মিঠু মিয়া জানান, তিন দিন ধরে কোনো তেল নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত পাম্প চালু করা সম্ভব নয়। কম তেল নিয়ে বিক্রি শুরু করলে জনরোষ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।
একই অবস্থা রহমান ফিলিং স্টেশনেও। ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও সংকট বাড়ায় তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। পরে তেল একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে।
সংকট এবং সংঘর্ষ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে করেছেন। এছাড়া গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তার ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক ভিডিও বার্তায় পুলিশ প্রশাসনকে তেলের অবৈধ মজুমদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ এসেছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকেই।
তবে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেল আসা, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ এবং মজুদ করার প্রবণতা সংকটকে তীব্র করেছে। পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে তেল পাওয়ার আশায় শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী বাইকার এনতাজ মিয়া বলেন, ‘‘সরকার বলছে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তবে সব পাম্প বন্ধ। আমরা চরম বিপদে আছি।’’ আরেক গ্রাহক বাবেল রহমান বলেন, ‘‘তিন দিন গাড়ি বের করিনি। আজ বের হয়ে চারটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পেলাম না।’’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংকটের শুরুতে প্রশাসনের তদারকিতে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একে একে সব পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, জেলার ১৭টি পাম্পই এখন প্রায় বন্ধ। কোথাও পেট্রোল-অকটেন নেই। শুরু থেকে চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।





















