ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যার বিচার দাবি ছাত্রশিবিরের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত দেশব্যাপী বর্বরোচিত গণহত্যার বিচার, নিহতদের স্বীকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নৃশংস ও কলঙ্কিত অধ্যায়। সেদিন কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও ন্যায়ভ্রষ্ট রায় ঘোষণার প্রতিবাদে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু শান্তিকামী জনতার ওপর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র পেটুয়া বাহিনী মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে এক বর্বরোচিত গণহত্যার সূচনা হয়। স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো এই পৈশাচিক হামলায় সেদিন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭০ জন শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তী কয়েক দিনের টানা রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় এই সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক সুপরিকল্পিত নীলনকশা।

তারা আরো বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন: ‘নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পৈশাচিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সেই সময় সরকারকে এই দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানালেও ফ্যাসিস্ট সরকার তা উপেক্ষা করে। দুঃখজনক হলেও ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সরকারের আমলেও শহীদ ও আহত পরিবারগুলো আজও ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এমনকি এই খুনিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বিচারহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি শহীদের রক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্তনাদ আজও বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত জাতি এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

শিবির নেতারা ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক নিরস্ত্র জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যায় শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, হত্যাযজ্ঞের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারে পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যার বিচার দাবি ছাত্রশিবিরের

আপডেট সময় : ০৩:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত দেশব্যাপী বর্বরোচিত গণহত্যার বিচার, নিহতদের স্বীকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নৃশংস ও কলঙ্কিত অধ্যায়। সেদিন কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও ন্যায়ভ্রষ্ট রায় ঘোষণার প্রতিবাদে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু শান্তিকামী জনতার ওপর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র পেটুয়া বাহিনী মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে এক বর্বরোচিত গণহত্যার সূচনা হয়। স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো এই পৈশাচিক হামলায় সেদিন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭০ জন শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তী কয়েক দিনের টানা রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় এই সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক সুপরিকল্পিত নীলনকশা।

তারা আরো বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন: ‘নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পৈশাচিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সেই সময় সরকারকে এই দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানালেও ফ্যাসিস্ট সরকার তা উপেক্ষা করে। দুঃখজনক হলেও ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সরকারের আমলেও শহীদ ও আহত পরিবারগুলো আজও ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এমনকি এই খুনিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বিচারহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি শহীদের রক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্তনাদ আজও বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত জাতি এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

শিবির নেতারা ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক নিরস্ত্র জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যায় শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, হত্যাযজ্ঞের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারে পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।