রাতের ভোট বাস্তবায়নে একাই ৫০ কোটি নেন শহীদুল
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অপর নাম ‘রাতের ভোট’। ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির কারণে নির্বাচনটি এ পরিচিতি পায়। এই কর্মযজ্ঞ আনজাম দেওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। এজন্য ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আট হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। এই অর্থ জোগাড় করা হয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক থেকে চাঁদাবাজি, ভুয়া ঋণ গ্রহণ ও টেন্ডারবাণিজ্যের মাধ্যমে।
ভোট ডাকাতি করতে টাকাগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার দলবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যদিও তহবিলের পাঁচ হাজার কোটি টাকাই আত্মসাৎ করেন চার ব্যক্তি। এ ছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তৎকালীন অতিরিক্ত আইজি মীর শহীদুল ইসলাম একাই ৫০ কোটি টাকা নেন। আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অর্থ বিতরণ করেন যারা
অবৈধ অর্থগুলো বিভিন্ন ইউনিটে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিখুঁত একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচন ঘিরে গড়ে ওঠা ‘অর্থ ডিস্ট্রিবিউশন টিম’ যা ছিল পুলিশের এক গোপন গ্রুপ। কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, রেঞ্জ অফিস, মেট্রোপলিটন ইউনিট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপে যুক্ত ছিল ওই গ্রুপ।
এই গ্রুপে ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার এআইজি আনজুমান কালাম, পুলিশ সুপার (এলআইসি) মীর আবু তৌহিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এলআইসি) ইশতিয়াক উর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এলআইসি) দেবাশীষ দাস এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এলআইসি) নূরে আলম।
বিশেষ ইউনিটে বণ্টন
ভোট ডাকাতির জন্য ডিএমপিকে ৫০ কোটি, সিএমপিকে ১৫ কোটি ও অন্যান্য মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটকে সাত কোটি টাকা দেওয়া হয়। অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজি মীর শহীদুল ইসলাম ৫০ কোটি, ঢাকা এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজি সিদ্দিকুর রহমান ১৫ কোটি, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি শেখ হেমায়েত হোসেন ১০ কোটি, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম ১০ কোটি, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোহাম্মাদ আবুল কাশেম সাত কোটি, অতিরিক্ত আইজি (টিঅ্যান্ডআইএম) ইকবাল বাহার ১০ কোটি, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মহসিন হোসেন সাত কোটি এবং পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার ১০ কোটি টাকা নেন।
পুলিশে অর্থ পৌঁছানোর নেটওয়ার্ক
পুলিশে অর্থ পৌঁছানোর যে টিম গোপনে কাজ করেছিল, তাতে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক ডিআইজি হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিসি (সিটিটিসি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান এবং সাবেক পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ।





















