ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১৫ বছর ধরে সার সিন্ডিকেট,একই পরিবারের ৭ জনের নামে ডিলারশীপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

একই পরিবারের প্রতিটি সদস্যর নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ নিয়ে সার বানিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাবিনা খাতুন নামে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও পাবনা -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু’র নিকট আত্মীয় ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০০৯ উপক্ষো করে অনিয়মের মাধ্যমে সাবিনা খাতুন তার নিজ নামে সহ তার বাবা, মা, চাচা, মামা ও দুই বোনের নামে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন।

সাবিনা খাতুন উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধীকারী।অভিযোগ  রয়েছে সে দূর্গাপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে বাগিয়েছেন বিসিআইসি ডিলারশীপ। স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার না দেওয়া এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়াসহ বাহিরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়,পানাননগর ইউনিয়নের এসএস এন্টারপ্রাইজের ডিলার কালাম উদ্দিন তার আপন চাচা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনিও সাবিনার মত একই পদ্ধতিতে ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে ডিলারশীপ বাগিয়েছেন।  এরই মধ্যে নানা অভিযোগে এস এস এন্টারপ্রাইজ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই  সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লাইসেন্স সমর্পণ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সার বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি অবৈধভাবে ৮৮ মেট্রিকটন সার পাচার কালে  যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ আটক করে। এ ঘটনায়  সাবিনার চাচা  কালাম উদ্দিন সহ মোট ১১ জনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাবিনা খানেরন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লাইসেন্স গুলো আমার আত্মীয় স্বজনের নামে আছে। লাইসেন্স বের করতে অনেক কাটখড় পোড়াতে হয়েছে এবং তা এখনো টিকিয়ে রেখেছি। নাগরিকত্বের বিষয়ে তিনি জানান উপজেলার আমগ্রামে আমার জমি ও বাড়ি  রয়েছে সেখানে প্রায় ২৫ বছর আগে বসবাস করতাম এখন করিনা ওই সময়ে আমি সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছি।

এদিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রামের ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়ম করেছেন সাবিনা খাতুনের মামা  রাফসান  এন্টারপ্রাইজের  স্বত্বাধিকারী  রেজাউল করিম। নানা অনিয়মের কারনে  তার লাইসেন্স বাতিল করে  কর্তৃপক্ষ ।

এ বিষয়ে দূর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তার বিষয়ে  আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে পানানগর ইউনিয়নের এসএস এন্টারপ্রাইজ এর  নানা অনিয়মের অভিযোগে তার লাইসেন্স স্থগিতের  সুপারিশ  করার পাশাপাশি সার বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে সেসব  ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৫ বছর ধরে সার সিন্ডিকেট,একই পরিবারের ৭ জনের নামে ডিলারশীপ

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

একই পরিবারের প্রতিটি সদস্যর নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ নিয়ে সার বানিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাবিনা খাতুন নামে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও পাবনা -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু’র নিকট আত্মীয় ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০০৯ উপক্ষো করে অনিয়মের মাধ্যমে সাবিনা খাতুন তার নিজ নামে সহ তার বাবা, মা, চাচা, মামা ও দুই বোনের নামে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন।

সাবিনা খাতুন উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধীকারী।অভিযোগ  রয়েছে সে দূর্গাপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে বাগিয়েছেন বিসিআইসি ডিলারশীপ। স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার না দেওয়া এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়াসহ বাহিরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়,পানাননগর ইউনিয়নের এসএস এন্টারপ্রাইজের ডিলার কালাম উদ্দিন তার আপন চাচা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনিও সাবিনার মত একই পদ্ধতিতে ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে ডিলারশীপ বাগিয়েছেন।  এরই মধ্যে নানা অভিযোগে এস এস এন্টারপ্রাইজ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই  সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লাইসেন্স সমর্পণ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সার বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি অবৈধভাবে ৮৮ মেট্রিকটন সার পাচার কালে  যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ আটক করে। এ ঘটনায়  সাবিনার চাচা  কালাম উদ্দিন সহ মোট ১১ জনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাবিনা খানেরন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লাইসেন্স গুলো আমার আত্মীয় স্বজনের নামে আছে। লাইসেন্স বের করতে অনেক কাটখড় পোড়াতে হয়েছে এবং তা এখনো টিকিয়ে রেখেছি। নাগরিকত্বের বিষয়ে তিনি জানান উপজেলার আমগ্রামে আমার জমি ও বাড়ি  রয়েছে সেখানে প্রায় ২৫ বছর আগে বসবাস করতাম এখন করিনা ওই সময়ে আমি সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছি।

এদিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রামের ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়ম করেছেন সাবিনা খাতুনের মামা  রাফসান  এন্টারপ্রাইজের  স্বত্বাধিকারী  রেজাউল করিম। নানা অনিয়মের কারনে  তার লাইসেন্স বাতিল করে  কর্তৃপক্ষ ।

এ বিষয়ে দূর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তার বিষয়ে  আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে পানানগর ইউনিয়নের এসএস এন্টারপ্রাইজ এর  নানা অনিয়মের অভিযোগে তার লাইসেন্স স্থগিতের  সুপারিশ  করার পাশাপাশি সার বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে সেসব  ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।