খিলাফত শূন্যতা ও পথভ্রষ্টতার যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনৈসলামিক ধারার আগ্রাসন
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূইয়া: পাঠক, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি জাতির আত্ব পরিচয়ের সূত্রপাত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যদি কোন জাতি তার নিজ জাতি সত্তা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নজর না দেয়, তাহলে সেই জাতি ধীরে ধীরে তার জাতিসত্তা ভূলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে এই শূন্যস্হান তার বিরোধী সভ্যতা ও সংস্কৃতি দখল করে নেয়। ফলে ধীরে ধীরে তারা আত্ম পরিচয় ভূলে অপরের সা্স্কূতিক গোলামে পরিনত হয় এবং একটি সময়ে নিজেরা অজান্তেই তাদের বিরোধী শক্তির ক্রীড়নক অথবা গোলাম হয়ে যায়।
পাঠক, আজকের মুসলমানদের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব তথা খিলাফত না থাকায় তারা পথভ্রষ্ট ও দিশেহারা হয়ে এমন শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে যা ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ , এমনকি এই শিক্ষার জন্য তারা এমন শক্তিকে তারা মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে যাদের বিরুদ্ধে তাদের পূর্ব পুরুষরা স্গ্রাম করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।
পাঠক , ১৯২৪ সালের খেলাফতের পতনের পর মুসলমানদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের সংকট দেখা দেয় । এই আত্মপরিচয় সংকটের মূল কারণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থার অনৈসলামিকরন । শিক্ষা ব্যবস্থা অনৈসলামিকরন এর ফলে মুসলিম শিশুরা ধীরে ধীরে মুসলিম সভ্যতা এবং সংস্কৃতির প্রতি বিরূপাপন্ন হয়ে পড়ে । এই বিরূপ ভাবাপূর্ণ হওয়া শিশুগুলি পর্যায়ক্রমে একসময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজ কর্মে অধিষ্ঠিত হয় এবং তারা রাষ্ট্রকে ইসলামাইজেশন করতে বাধা স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় ।
যদি মুসলিম দেশগুলিতে শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামীকরণ হত, তাহলে মুসলিম দেশ গুলির রাষ্ট্রীয় কার্যে ইসলাম বিরোধী শক্তির প্রভাব থাকত না। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, মুসলিম দেশ গুলিতে আজ যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং প্রশাসনে বসা আছে তারা হলো ইসলামবিদ্বেষী , এর অন্যতম কারণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামীকরণ নেই ।
এমনকি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার কে ধ্বংস করার জন্য এক শ্রেণীর মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে । পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দ্বীনি মারকাজ এর মাধ্যমে কিছুটা ইসলামের শিক্ষার বিস্তার লাভ করতেছে ।
এর মধ্যে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা এবং মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। কাজেই খিলাফত শূন্য পূথিবীতে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনৈসলামক শক্তির গোলামে পরিনত হয়েছে।





















