ভিপি প্রার্থীদের নিয়ে আমার দেশ এর বিতর্ক: ঢাবির গৌরব ফেরাতে পারে কার্যকর ডাকসু
- আপডেট সময় : ০১:০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বিতর্কে অংশ নিয়ে ডাকসুর শীর্ষপদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধ, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। কোনো ধরনের ছেদ না ঘটিয়ে প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির বিষয়টিরও স্থায়ীভাবে সুরাহা হওয়া দরকার।
বিতর্ক অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের, সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাত, ডাকসু ফর চেঞ্জ প্যানেলের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা, প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী জামাল উদ্দীন খালিদ অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমার দেশ মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান তামান্না মিনহাজ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। প্রচার শুরুর দিনই আমার দেশ এ বিতর্কের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের প্রার্থী উমামা ফাতেমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আসেননি।
অনুষ্ঠানে আবু সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষকরা একটি সংগঠন দ্বারা প্রভাবিত। আচরণবিধি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে একটি ছাত্র সংগঠনকে ফেভার করা হচ্ছে। নির্বাচনে কোনো একটি ছাত্র সংগঠনকে ফেভার দেওয়া অথবা উপর থেকে আরোপিত করে নির্বাচন পরিচালনা হওয়া- এর কোনোটিই আমরা চাই না। শিক্ষকরা- বিশেষ করে যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যদি একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের প্রতি অবস্থান নেন, তাহলে মনে করব তারা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের আশঙ্কাগুলো গত চার-পাঁচ দিনে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রথম দিন চারুকলাসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ফেস্টুনগুলো কিছু দুষ্কৃতকারী বিকৃত করেছে। নারী প্রতিনিধির চেহারা বিকৃত করা হয়েছে। শাহবাগীরা হিজাবফোবিয়া তৈরি করেছিল, সেভাবে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ডাকসু নির্বাচনকে বন্ধ করতে তারা ষড়যন্ত্র করছে। সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। এসব বিষয় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি।
নারী প্রার্থীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার- এর কারণ সম্পর্কে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনে বড় ভূমিকা পালন করেন নারী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তারা যাতে জাতি গঠনে এগিয়ে আসতে না পারে, সেজন্য নানাভাবে বুলিং করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্টরা সাইবার বুলিং করছে। আমাদের চার নারী প্রার্থীকে ক্রমাগত বুলিং করা হচ্ছে। বিজয়ী হলে ডিজিটাল অভিযোগ বক্স চালু করব। নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ শিক্ষাঙ্গনকে নারীবান্ধব করাব।
তিনি বলেন, এনক্লুসিভ ক্যাম্পাস করার জন্য আমরা কাজ করছি। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সহায়তা সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করা, শিক্ষক মূল্যায়ন সিস্টেম চালু করা, কেন্দ্রীয়সহ লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ করা এবং আবাসন সমস্যা দূর করা নিয়ে কাজ করব আমরা। গত এক বছরে আমরা কিছু কিছু করে দেখিয়েছি, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের কার্যক্রম আমরা বাড়াব।
বিদ্যমান ব্যবস্থা উপড়ে ফেলা এবং নতুন ব্যবস্থা হাজির করার দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আব্দুল কাদের বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন যে ছাত্রসংগঠন, সে সংগঠন দুটি দায়বদ্ধতাই সম্পূর্ণ করবে। অনেকে প্রথমটি শেষ করে পরেরটিতে ফিরে গেছে। যাদের কোনো সংগঠন নেই, তারা মনে করছে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে সে দায়বদ্ধতা পূরণ করবে।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রথম আকাঙ্ক্ষা আমূল একটা পরিবর্তন আনা- এমনই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে আমূল একটি পরিবর্তন আনা আর এটা সম্ভব ডাকসু কার্যকর করার মধ্য দিয়েই। যারা কাজ করতে চায়, তাদের জন্য আমরা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, নারীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব মতবিরোধের জায়গা থেকে হয়। স্যরি টু সে, ছাত্রলীগের হাজারো দোষ আছে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নারীদের প্রতি সব থেকে সহানুভূতিশীল ছিল, শ্রদ্ধাশীল ছিল।
আব্দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচিত হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মর্যাদার সেতুবন্ধ তৈরি, ক্যাম্পাসে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির সুরাহা, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার্থীদের খাবারের মান বৃদ্ধি, ছাত্র-শিক্ষকদের মনিটরিং সেল গঠন ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের পথ সুগম করবেন।
ইয়াছিন আরাফাত বলেন, জুলাই বিপ্লব ঐক্যবদ্ধভাবে হয়েছে। আমরা এটা ধারণ করি। আমি এবং আমার প্যানেল নির্বাচিত হলে এ ঐক্য ধরে রাখব, ক্যাম্পাসে ভ্রাতিত্বের পরিবেশ নিশ্চিত করব, কেউ আবার স্বৈরাচার বা আধিপত্যবাদ ফিরিয়ে আনতে চাইলে জীবন দিয়ে প্রতিহত করব, শিক্ষার্থীদের সব অধিকার প্রশাসনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করতে দেওয়া প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রশ্নে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করানোর প্রস্তাবটি একটি কৌশল ছিল। এটি ঠিক না ভুল ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হয়ে নির্বিঘ্নে কাজ করা। কারণ, ওই সময় আমরা পদে পদে বাধার মুখে পড়ছিলাম। এজন্য সবাইকে শত্রু না বানিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। নেতৃত্বের জায়গায় গিয়ে আমাকে সব সময় প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে।
শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, প্রতি বছর একই সময়ে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা, নারীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের জীবনমান ও শিক্ষার মানোন্নয়ন করা, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক ও পরমতসুহিষ্ণুতা নিশ্চিত করা, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের ভারসাম্য চাই।
বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনার চেয়ে আমাদের সর্বত্র জাতীয় রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০১৯ সালের লড়াই আর আজকের ডাকসুর লড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ আমরা সবাই একই গাড়িতে এ টকশোতে এসেছি। কিন্তু ২০১৯ সালে এটা সম্ভব হতো না। ওই সময় শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রার্থী হতে পারেননি। এবার সম্ভব হয়েছে বলেই স্মরণকালের সব থেকে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমি একটি কথা বলতে চাই, ২০১৯ সালে ছাত্রদল ডাকসুর বিপক্ষে ছিল। অন্যদের মধ্যে হয়তো কেউ কম ছিল, কেউ বেশি ছিল। কিন্তু ছাত্রদল একেবারেই বিপক্ষে ছিল। তাদের প্রভাববলয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ডাকসু নিয়ে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সময়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী থাকতে পারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্থ পয়েন্টে। তারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কিংবা ভোট গণনার জায়গায় না থাকলেই ভালো। এটা জাতীয় নয়; বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, সেই পরিচয়টা দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, শিক্ষার্থীদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান বেড ও ওয়ান টেবিল নিশ্চত করতে কাজ করব। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর, পরিবহন বৃদ্ধি এবং মেডিকেল সেন্টার উন্নত করতে কাজ করব। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টিএসসিকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর কাজে সহায়তা করার ওপর জোর দেন তিনি।
জামাল উদ্দীন খালেদ বলেন, রেজিস্ট্রার ভবনের যাবতীয় সেবা একটি সমন্বিত অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়ার ব্যবস্থা করা, পরিবহন সমস্যা দূর করা, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউশনের মেন্যু অনুযায়ী ক্যান্টিন নিশ্চিত করা, ঢাবির স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে আনতে যা করা যায়, তা করবেন তিনি। এছাড়া ডাকসু যাতে নিয়মিতভাবে হয়, সেটির জন্য চেষ্টা করবেন।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, প্রতি বছরই ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। সে হিসাবে ১০০তম ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হচ্ছে মাত্র ৩৮তম নির্বাচন। আগামীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। তারা শুধু রাজনৈতিক চর্চাকেই প্রাধান্য নয়; শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের সমস্যাসহ অন্যান্য অধিকার নিয়ে কাজ করবে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরের বছর ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠিত হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা ‘ডাকসু’ নামকরণ হয় ১৯৫৩ সালে।
ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে ডাকসুকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে ডাকসু ছিল নেতৃত্বের অগ্রভাগে। প্রতি বছর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা কিন্তু স্বাধীনতার পর ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ’৯০-এর নির্বাচনের ৩৯ বছর পর আদালতের আদেশে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এর ছয় বছরের মাথায় আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের ডাকসু নির্বাচনের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পথ ধরে গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর এক বছরের মাথায় হতে যাওয়া এ নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পথ ধরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নির্বাচনে নতুন বাংলাদেশের প্রথম পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে হতে যাওয়া এ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ডাকসুরও প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে। ডাকসুকে বাংলাদেশের রাজনীতির সূতিকাগারও বলা হয়ে থাকে। ডাকসুতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাই পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় জাতীয় রাজনীতিতে যোগ্য নেতৃত্বে এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।





















