ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত নিজের নির্বাচনি এলাকায় না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান, বিস্মিত জামায়াত আমির নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে শিবিরের সাথী পদ হারায় আম্মার প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত মিরপুরে উচ্ছেদ চলমান থাকবে, ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক ঢাবির মুজিব হলের গেট থেকে মুছল ওসমান হাদির নাম মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকা ভুয়া বিদ্যুত বিল, জিএম বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ রাড্ডায় ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মিষ্টির বিষয় তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাথমিকের নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে পাবেন প্রার্থীরা, তবে…?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যোগদান শুরু হওয়ার আগে এবং প্রয়োজন হলে এরপরও পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তবে ফৌজদারি মামলা, জাল সনদপত্র এবং ভুল ঠিকানা দেওয়া প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পাবেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি. এম. আলমগীর কবির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দ্বিতীয়বার নিয়োগপত্র ইস্যুর জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মোতাবেক যারা কাগজপত্র দাখিল করেছিল, তাদের সকলকে দিয়েছি। তবে এর মধ্যে একজনের একটি মামলা ছিল। তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।’

ঢাকা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের নিয়োগপত্র নতুন করে ইস্যু করতে বলা হয়েছে। ১ অক্টোবর যোগদান শুরু। এর আগ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এছাড়াও ১ অক্টোবরের পরেও দেওয়া হতে পারে।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করে সরকার। ওই দিনই শত শত প্রার্থী অভিযোগ করেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও তারা নিয়োগপত্র পাননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম নিয়োগের তালিকায় না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের সব জেলা থেকে ২৪০০ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে সব জেলার তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা এ হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সরকারি প্রাথমিকে নিয়োগের আগে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। প্রার্থীর আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পুলিশ।

তিনি বলেন, আগেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিভিন্ন কারণে প্রার্থী বাদ পড়েছেন। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা হত্যা মামলা থাকা, আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া কিংবা এক উপজেলার প্রার্থী অন্য উপজেলায় আবেদন করার মতো বিভিন্ন কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না।

মান্নান বলেন, কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারতেন। পরে তার আবেদন ও ভেরিফিকেশনের তথ্য যাচাই করে দেখা হতো। ভুল বা অসংগতির কারণে নিয়োগ না দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হতো এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদনও দেওয়া হতো।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তদন্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার সরকার।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত হয়েছে।’

এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘এটার কারণ আমার জানা নেই। তবে সরকার যদি নিয়ম করে, সেটাকে অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। ডেফিনেটলি পুলিশ ভেরিফিকেশনেও সবাই শ্রদ্ধাশীল ছিল।’

ফেসবুকে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও এর আগে ১ অক্টোবরের মধ্যে সবাই নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে এক অ্যাডমিন পোস্টে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রী বলেন, ‘১ অক্টোবর (২০২৬) পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে।’

পরে তিনি বলেন, ‘১ অক্টোবর (২০২৬) পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে সেটি পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।’

নিয়োগপত্রের দাবিতে টানা আট ঘণ্টা শাহবাগে অবস্থান
এদিকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে টানা প্রায় আট ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। পরে রাত ৮টার দিকে শাহবাগ ত্যাগ করেন।

প্রার্থীদের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও তারা নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়েও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

প্রার্থীরা জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে গত দুই দিন ধরে তারা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

দ্বিতীয় দফায় ২৫ জেলার নিয়োগপত্র
কর্মসূচী পালন করার মধ্যেই সুখবর পেতে শুরু করেন বঞ্চিতরা। দ্বিতীয় দফায় দেশের ২৫ জেলার প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে এসব জেলার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো—রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল, যশোর, শরিয়তপুর, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, মাগুরা, নাটোর, চট্টগ্রাম, নীলফামারি ও সিরাজগঞ্জ।

তবে এসব জেলার তালিকা প্রকাশের পরও আরও কয়েকটি জেলার প্রার্থীরা নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।

রবিবার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির পরও যদি বাকি জেলার নিয়োগপত্র প্রকাশ না হয় এবং বঞ্চিতদের বিষয়ে সমাধান না আসে, তাহলে আগামীকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে আবারও অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের প্রত্যেকের বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে কারণ জানাতে হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রাথমিকের নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে পাবেন প্রার্থীরা, তবে…?

আপডেট সময় : ০২:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যোগদান শুরু হওয়ার আগে এবং প্রয়োজন হলে এরপরও পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তবে ফৌজদারি মামলা, জাল সনদপত্র এবং ভুল ঠিকানা দেওয়া প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পাবেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি. এম. আলমগীর কবির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দ্বিতীয়বার নিয়োগপত্র ইস্যুর জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মোতাবেক যারা কাগজপত্র দাখিল করেছিল, তাদের সকলকে দিয়েছি। তবে এর মধ্যে একজনের একটি মামলা ছিল। তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।’

ঢাকা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের নিয়োগপত্র নতুন করে ইস্যু করতে বলা হয়েছে। ১ অক্টোবর যোগদান শুরু। এর আগ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এছাড়াও ১ অক্টোবরের পরেও দেওয়া হতে পারে।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করে সরকার। ওই দিনই শত শত প্রার্থী অভিযোগ করেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও তারা নিয়োগপত্র পাননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম নিয়োগের তালিকায় না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের সব জেলা থেকে ২৪০০ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে সব জেলার তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা এ হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সরকারি প্রাথমিকে নিয়োগের আগে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। প্রার্থীর আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পুলিশ।

তিনি বলেন, আগেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিভিন্ন কারণে প্রার্থী বাদ পড়েছেন। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা হত্যা মামলা থাকা, আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া কিংবা এক উপজেলার প্রার্থী অন্য উপজেলায় আবেদন করার মতো বিভিন্ন কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না।

মান্নান বলেন, কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারতেন। পরে তার আবেদন ও ভেরিফিকেশনের তথ্য যাচাই করে দেখা হতো। ভুল বা অসংগতির কারণে নিয়োগ না দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হতো এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদনও দেওয়া হতো।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তদন্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার সরকার।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত হয়েছে।’

এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘এটার কারণ আমার জানা নেই। তবে সরকার যদি নিয়ম করে, সেটাকে অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। ডেফিনেটলি পুলিশ ভেরিফিকেশনেও সবাই শ্রদ্ধাশীল ছিল।’

ফেসবুকে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও এর আগে ১ অক্টোবরের মধ্যে সবাই নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে এক অ্যাডমিন পোস্টে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রী বলেন, ‘১ অক্টোবর (২০২৬) পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে।’

পরে তিনি বলেন, ‘১ অক্টোবর (২০২৬) পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে সেটি পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।’

নিয়োগপত্রের দাবিতে টানা আট ঘণ্টা শাহবাগে অবস্থান
এদিকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে টানা প্রায় আট ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। পরে রাত ৮টার দিকে শাহবাগ ত্যাগ করেন।

প্রার্থীদের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও তারা নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়েও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

প্রার্থীরা জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে গত দুই দিন ধরে তারা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

দ্বিতীয় দফায় ২৫ জেলার নিয়োগপত্র
কর্মসূচী পালন করার মধ্যেই সুখবর পেতে শুরু করেন বঞ্চিতরা। দ্বিতীয় দফায় দেশের ২৫ জেলার প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে এসব জেলার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো—রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল, যশোর, শরিয়তপুর, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, মাগুরা, নাটোর, চট্টগ্রাম, নীলফামারি ও সিরাজগঞ্জ।

তবে এসব জেলার তালিকা প্রকাশের পরও আরও কয়েকটি জেলার প্রার্থীরা নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।

রবিবার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির পরও যদি বাকি জেলার নিয়োগপত্র প্রকাশ না হয় এবং বঞ্চিতদের বিষয়ে সমাধান না আসে, তাহলে আগামীকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে আবারও অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের প্রত্যেকের বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে কারণ জানাতে হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।