ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উৎসবমুখর আয়োজনে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা, বাবাকে গুরুতর জখমের অভিযোগ দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়া হলেও আলোচনা করছে না সরকার:বিরোধীদলীয় নেতা ‘জঙ্গি’ নাটকের কারিগড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সেই নিলুফার সুলতানা বদলি বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ পিপিএম-সেবা পদক পেলেন আরএমপি কমিশনার কবির ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জামায়াতকে জড়িয়ে রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এবার দেশের বাজারেও পড়েছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, গত কয়েক মাসে জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিলে আমদানি বাবদ ব্যয় ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায়। মে মাসে ৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা থেকে আমদানি ব্যয় বেড়ে হয় ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। আগস্টে এই ব্যয় ২ হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপিসির লোকসানও বাড়ছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিলে লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান ছিল ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা এবং জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে বিপিসিকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে আছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতেই প্রয়োজন হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থসংকটের এই চিত্র তুলে ধরে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। সেখানে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত হওয়া লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির অর্থসংকট নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিপিসির লোকসানের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন সংস্থাটির লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেল বিক্রি থেকেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বিপিসির আর্থিক চাপ কিছুটা কমানোর লক্ষ্যেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এবার দেশের বাজারেও পড়েছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, গত কয়েক মাসে জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিলে আমদানি বাবদ ব্যয় ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায়। মে মাসে ৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা থেকে আমদানি ব্যয় বেড়ে হয় ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। আগস্টে এই ব্যয় ২ হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপিসির লোকসানও বাড়ছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিলে লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান ছিল ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা এবং জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে বিপিসিকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে আছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতেই প্রয়োজন হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থসংকটের এই চিত্র তুলে ধরে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। সেখানে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত হওয়া লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির অর্থসংকট নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিপিসির লোকসানের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন সংস্থাটির লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেল বিক্রি থেকেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বিপিসির আর্থিক চাপ কিছুটা কমানোর লক্ষ্যেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।