ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উৎসবমুখর আয়োজনে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা, বাবাকে গুরুতর জখমের অভিযোগ দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়া হলেও আলোচনা করছে না সরকার:বিরোধীদলীয় নেতা ‘জঙ্গি’ নাটকের কারিগড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সেই নিলুফার সুলতানা বদলি বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ পিপিএম-সেবা পদক পেলেন আরএমপি কমিশনার কবির ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জামায়াতকে জড়িয়ে রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রিডা)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির যৌথ আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং রাজশাহীর সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে নগরীর সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেন, রাজশাহী মহানগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে নগরীকে আরও বেশি সবুজ করে তুলতে হবে। দীর্ঘ দুই থেকে তিন দশক ধরে রাজশাহীকে সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার ফলেই আজ নগরী একটি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীকে সবুজায়নের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নেই। জেলা ও মহানগরের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণের কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাই বহু বছরের অর্জিত এ গৌরব ও সুনাম ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নগর উন্নয়নের সঙ্গে সবুজায়নের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি আগে থেকে থাকা গাছপালার সুরক্ষা ও পরিচর্যাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় গত ১৭ বছরে রাজশাহী মহানগরী বিভিন্ন সময়ে সারা বাংলাদেশে ১৪ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিক অর্জনের কারণে রাজশাহী বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর এ অর্জন শুধু পরিবেশ বা পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। একটি সুন্দর, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন নির্গত করার মাধ্যমে পরিবেশকে প্রাণ ধারণের উপযোগী রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকলে পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য নিয়মিত বৃক্ষরোপণকে প্রত্যেকের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। শুধু একটি চারা রোপণ করাই যথেষ্ট নয়; সেটিকে যত্নের মাধ্যমে বড় করে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করাও প্রয়োজন। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে নগরীর সবুজায়নে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন ভূমিমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের অবদানের জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রিডা)-এর সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি নগরকে বাসযোগ্য রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত গাছপালা, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি। নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন বাড়ানো না গেলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজশাহী মহানগরীর সবুজ পরিধি আরও বিস্তৃত করা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নগরবাসীর মধ্যে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নগরীর দীর্ঘদিনের ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে অর্জিত পরিচিতি ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারা বিতরণের মাধ্যমে নগরবাসীকে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আরও বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রিডা)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির যৌথ আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং রাজশাহীর সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে নগরীর সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেন, রাজশাহী মহানগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে নগরীকে আরও বেশি সবুজ করে তুলতে হবে। দীর্ঘ দুই থেকে তিন দশক ধরে রাজশাহীকে সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার ফলেই আজ নগরী একটি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীকে সবুজায়নের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নেই। জেলা ও মহানগরের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণের কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাই বহু বছরের অর্জিত এ গৌরব ও সুনাম ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নগর উন্নয়নের সঙ্গে সবুজায়নের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি আগে থেকে থাকা গাছপালার সুরক্ষা ও পরিচর্যাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় গত ১৭ বছরে রাজশাহী মহানগরী বিভিন্ন সময়ে সারা বাংলাদেশে ১৪ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিক অর্জনের কারণে রাজশাহী বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর এ অর্জন শুধু পরিবেশ বা পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। একটি সুন্দর, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন নির্গত করার মাধ্যমে পরিবেশকে প্রাণ ধারণের উপযোগী রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকলে পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য নিয়মিত বৃক্ষরোপণকে প্রত্যেকের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। শুধু একটি চারা রোপণ করাই যথেষ্ট নয়; সেটিকে যত্নের মাধ্যমে বড় করে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করাও প্রয়োজন। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে নগরীর সবুজায়নে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন ভূমিমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের অবদানের জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রিডা)-এর সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি নগরকে বাসযোগ্য রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত গাছপালা, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি। নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন বাড়ানো না গেলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজশাহী মহানগরীর সবুজ পরিধি আরও বিস্তৃত করা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নগরবাসীর মধ্যে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নগরীর দীর্ঘদিনের ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে অর্জিত পরিচিতি ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারা বিতরণের মাধ্যমে নগরবাসীকে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আরও বৃদ্ধি পাবে।