পুঠিয়ায় হার না মানা দুই শিক্ষার্থী-রুখসানা ও দীপ্তি রানী পেয়েছে জিপিএ-৫
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী পুঠিয়ায় দারিদ্রতা আর অভাব যেন তাদের দুজনের কাছে নিছক বাহানা। অদম্য মেধাবী দুই শিক্ষার্থী সাফল্যের সহিত এসএসসিতে উত্তীর্ণ হলেও এখন এইচএসসিতে ভর্তি নিয়ে রয়েছেন দারুন শংকায়। উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নের নলপুকুড়িয়া গ্রামের মোছাঃ রুখসানা খাতুন পিতার অভাবের সংসারে জন্ম নিয়ে, খেয়ে না খেয়ে মায়ের সাথে কাজ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
রুখসানা পড়াশোনা করে একজন আইনজীবী হয়ে মানুষের সেবা করতে চান কিন্তু সেই স্বপ্ন কিভাবে পূরণ করবেন, যেখানে এইচএসসি তে ভর্তি হওয়ার টাকাই নেই তার ঘরে। এ যেনো অভাবের ঘরে জিপিএ-৫।
রুকসানার পিতা নূর মোহাম্মদ মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করে যে টাকা পায় এবং তার আত্মীয়স্বজনরা যতটুকু দিয়ে সহায়তা করে তা দিয়েই চলে সংসার ও তার পড়াশোনা। ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (মন্টু) বলেন, রুখসানা খুব ভালো ছাত্রী। আমার স্কুল থেকে তাকে সব রকম সহায়তা করা হয়েছে। এমনকি সে রেজিস্ট্রেশনের টাকা পর্যন্ত দিতে পারেনি সেগুলো আমরাই বহন করেছি।
অন্যদিকে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া গ্রামে রুখসানার মতো দীপ্তি রানীও অভাব অনটনকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৪.৯৪ পেয়ে সাফল্যের উত্তীর্ণ হয়েছে। তার ইচ্ছে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা।
কিন্তু দরিদ্র কৃষক পিতা শ্রী সুপদ মন্ডল এর ঘরে জন্ম নিয়ে এতো বড় স্বপ্ন দেখা অদৌ কি পূরণ হবে, এমন হতাশাও সঙ্গে নিয়ে কাটছে দীপ্তির দিন-রাত। দীপ্তি রানী ও রুখসানা খাতুনের পিতা তারা বলছেন, মানুষের জমিতে কাজ করে সংসার চালানো কষ্টকর। আবার মেয়েকে পড়াশোনা করানো এ যেন স্বপ্ন দেখার মতো। স্বপ্ন যখন দেখেছেন তখন যতো কষ্টই হোক তাদের মেয়েকে পড়াশোনা করাবেন বলে পণ করেছেন তারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর আলী বলেন, এমন মেধাবীদের কখনোই ঝরে যাওয়া উচিত নয়। যদিও সরকারি ভাবে শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তেমনভাবে, তেমন কিছু সহায়তা করার সুযোগ নেই। তবুও আমি চেষ্টা করবো ব্যক্তিগতভাবে হলেও সহায়তা করতে।



















