ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

রাশেদ ও গাফফারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছি: হান্নান মাসউদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়ার এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাশেদ খান আর আবদুল গাফফার ভাই দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতেছি। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতেছি।’

এর আগে, বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।’

রাশেদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতা হয় ওই বৈঠকগুলোতে। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন—ওই ব্যক্তি নগদ ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন হান্নান।

রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে গাফফার হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

রাশেদ খানের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর হান্নান মাসউদ ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জিসানের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের একটি অডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। অডিওতে গাফফারকে হান্নান মাসউদের কাছে ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। ওই কথোপকথনে গাফফার অভিযোগ করেন—তাঁকে একটি বক্তব্য শেয়ার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, হান্নানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে ভিডিও বার্তা দেন গাফফার। সেখানে তিনি দাবি করেন, হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে রাশেদ খান যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি ‘শতভাগ সত্য’।

গাফফারের ভাষ্য অনুযায়ী—৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সাবেক এক সংসদ সদস্যকে দেশত্যাগে সহায়তার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই বৈঠকে হান্নান মাসউদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি নিজে ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

ভিডিও বার্তায় গাফফার আরও জানান, হান্নান মাসউদের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ছিল ব্যক্তিগত এবং তিনি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে পরে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে হান্নান মাসউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। ওনার (গাফফার) পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক আছে। উনি ছাত্রদল করেন। তবে যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে রাশেদ খান এবং গাফফার দুজনের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেব। তাদের কাছে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটা সামনে আনুক।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাশেদ ও গাফফারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছি: হান্নান মাসউদ

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়ার এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাশেদ খান আর আবদুল গাফফার ভাই দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতেছি। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতেছি।’

এর আগে, বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।’

রাশেদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতা হয় ওই বৈঠকগুলোতে। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন—ওই ব্যক্তি নগদ ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন হান্নান।

রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে গাফফার হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

রাশেদ খানের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর হান্নান মাসউদ ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জিসানের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের একটি অডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। অডিওতে গাফফারকে হান্নান মাসউদের কাছে ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। ওই কথোপকথনে গাফফার অভিযোগ করেন—তাঁকে একটি বক্তব্য শেয়ার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, হান্নানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে ভিডিও বার্তা দেন গাফফার। সেখানে তিনি দাবি করেন, হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে রাশেদ খান যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি ‘শতভাগ সত্য’।

গাফফারের ভাষ্য অনুযায়ী—৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সাবেক এক সংসদ সদস্যকে দেশত্যাগে সহায়তার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই বৈঠকে হান্নান মাসউদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি নিজে ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

ভিডিও বার্তায় গাফফার আরও জানান, হান্নান মাসউদের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ছিল ব্যক্তিগত এবং তিনি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে পরে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে হান্নান মাসউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। ওনার (গাফফার) পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক আছে। উনি ছাত্রদল করেন। তবে যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে রাশেদ খান এবং গাফফার দুজনের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেব। তাদের কাছে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটা সামনে আনুক।’