সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনআকাঙ্ক্ষা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলির ভয় এবং পদোন্নতির প্রলোভনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের অযাচিত প্রভাব হ্রাস এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমকে পুনরায় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগনের রায় এবং আকাঙ্খাকে অবজ্ঞা করছে। গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
ডাকসু অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। একইসাথে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলাবিধানের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করতে হবে।





















