ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ : ডাকসু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলাবিধান নিশ্চিতের লক্ষ্যে “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়” প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল” পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে। সর্বশেষ, সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনআকাঙ্ক্ষা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলির ভয় এবং পদোন্নতির প্রলোভনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের অযাচিত প্রভাব হ্রাস এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমকে পুনরায় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগনের রায় এবং আকাঙ্খাকে অবজ্ঞা করছে। গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনীতি সংবাদ আপডেট

ডাকসু অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। একইসাথে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলাবিধানের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ : ডাকসু

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রসঙ্গ অনলাইন: জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলাবিধান নিশ্চিতের লক্ষ্যে “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়” প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল” পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে। সর্বশেষ, সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনআকাঙ্ক্ষা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলির ভয় এবং পদোন্নতির প্রলোভনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের অযাচিত প্রভাব হ্রাস এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমকে পুনরায় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগনের রায় এবং আকাঙ্খাকে অবজ্ঞা করছে। গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনীতি সংবাদ আপডেট

ডাকসু অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। একইসাথে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলাবিধানের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করতে হবে।