ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

আলোচনায় হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছাতে যে ক’জন সামরিক কর্মকর্তা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদেরই একজন কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদ।

শেখ হাসিনা ও জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অনুগত ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত এ সেনা কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর এ পদোন্নতি নিয়ে সেনাবাহিনীতে রীতিমতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিতর্কিত এ সেনাকর্মকর্তার পদোন্নতির খবরে গত সাড়ে ১৫ বছরে বঞ্চিত দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তাদের প্রশ্নÑ ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে এ সেনা কর্মকর্তার চাকরিই থাকার কথা নয়, সেখানে তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি। এ পদোন্নতি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তির কাছে ভুলবার্তা যাবে বলে তারা মনে করেন। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলাচনা-সমালোচনা।

জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বিতর্কিত কর্মকর্তা রাজিবের পদোন্নতির পেছনে বর্তমানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত একজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তার হাত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তখনো ওই সামরিক কর্মকর্তার সুপারিশে শান্তিরক্ষা মিশনের মতো প্রাইজ পোস্টিং হয় রাজিবের। তাকে টিম কমান্ডার [Contg Comd. BANBAT-8(66 EB), UNMISS] হিসেবে দক্ষিণ সুদানে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি মিশন সম্পন্ন করে তিনি দেশে ফেরেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জিএম রাজিব আহমেদকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, কর্নেল রাজিব ২০২০ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী সামরিক সচিব (এএমএসপিএম) হিসেবে যোগ দেন। পরে কর্নেল পদে তার পদোন্নতি হয়। একই সঙ্গে তাকে উপসামরিক সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তিনি শেখ হাসিনা ছাড়াও তার বোন রেহানা এবং মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের খুবই অনুগত ও বিশ্বস্ত ছিলেন। আওয়ামী সমর্থক এ সামরিক কর্মকর্তাকে বিশ্বস্ততার কারণেই সরকারের স্পর্শকাতর জায়গায় পদায়ন করা হয়েছিল।

জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে যেসব সামরিক কর্মকর্তা ভূমিকা পালন করেছিলেন তার মধ্যে কর্নেল রাজিব ছিলেন অন্যতম। শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পৌঁছে দিতে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজিবও ছিলেন বলে একটি সামরিক সূত্র জানালেও অন্য একটি সূত্র বলেছে, তিনি সবল প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাননি। তিনি ঢাকায় বসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের নিরাপদ হেফাজতে ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগ রয়েছে জুলাই আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন শেখ হাসিনা এ রাজিবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে হত্যা-নির্যাতনের নির্দেশ দিতেন। এমনই একটি টেলিফোন নির্দেশনাও ৫ আগস্টের পরে ভাইরাল হয়। অডিও কথোপকথনে শোনা যায় শেখ হাসিনা নিজেই ফোন করে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হচ্ছে জানিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাসিনা বলেন, “ওরা কিন্তু জায়গায় জায়গায় জমা হতে শুরু করেছে। শুরুতেই কিন্তু ই… করতে হবে। জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে। অল্প জমায়েত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা করার করতে হবে। তাহলে ওরা আর আসবে না। এবারে আর কোনো কথা নয়। এবার শুরুতেই দেবা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলোচনায় হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি

আপডেট সময় : ০৩:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছাতে যে ক’জন সামরিক কর্মকর্তা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদেরই একজন কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদ।

শেখ হাসিনা ও জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অনুগত ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত এ সেনা কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর এ পদোন্নতি নিয়ে সেনাবাহিনীতে রীতিমতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিতর্কিত এ সেনাকর্মকর্তার পদোন্নতির খবরে গত সাড়ে ১৫ বছরে বঞ্চিত দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তাদের প্রশ্নÑ ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে এ সেনা কর্মকর্তার চাকরিই থাকার কথা নয়, সেখানে তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি। এ পদোন্নতি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তির কাছে ভুলবার্তা যাবে বলে তারা মনে করেন। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলাচনা-সমালোচনা।

জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বিতর্কিত কর্মকর্তা রাজিবের পদোন্নতির পেছনে বর্তমানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত একজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তার হাত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তখনো ওই সামরিক কর্মকর্তার সুপারিশে শান্তিরক্ষা মিশনের মতো প্রাইজ পোস্টিং হয় রাজিবের। তাকে টিম কমান্ডার [Contg Comd. BANBAT-8(66 EB), UNMISS] হিসেবে দক্ষিণ সুদানে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি মিশন সম্পন্ন করে তিনি দেশে ফেরেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জিএম রাজিব আহমেদকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, কর্নেল রাজিব ২০২০ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী সামরিক সচিব (এএমএসপিএম) হিসেবে যোগ দেন। পরে কর্নেল পদে তার পদোন্নতি হয়। একই সঙ্গে তাকে উপসামরিক সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তিনি শেখ হাসিনা ছাড়াও তার বোন রেহানা এবং মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের খুবই অনুগত ও বিশ্বস্ত ছিলেন। আওয়ামী সমর্থক এ সামরিক কর্মকর্তাকে বিশ্বস্ততার কারণেই সরকারের স্পর্শকাতর জায়গায় পদায়ন করা হয়েছিল।

জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে যেসব সামরিক কর্মকর্তা ভূমিকা পালন করেছিলেন তার মধ্যে কর্নেল রাজিব ছিলেন অন্যতম। শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পৌঁছে দিতে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজিবও ছিলেন বলে একটি সামরিক সূত্র জানালেও অন্য একটি সূত্র বলেছে, তিনি সবল প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাননি। তিনি ঢাকায় বসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের নিরাপদ হেফাজতে ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগ রয়েছে জুলাই আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন শেখ হাসিনা এ রাজিবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে হত্যা-নির্যাতনের নির্দেশ দিতেন। এমনই একটি টেলিফোন নির্দেশনাও ৫ আগস্টের পরে ভাইরাল হয়। অডিও কথোপকথনে শোনা যায় শেখ হাসিনা নিজেই ফোন করে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হচ্ছে জানিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাসিনা বলেন, “ওরা কিন্তু জায়গায় জায়গায় জমা হতে শুরু করেছে। শুরুতেই কিন্তু ই… করতে হবে। জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে। অল্প জমায়েত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা করার করতে হবে। তাহলে ওরা আর আসবে না। এবারে আর কোনো কথা নয়। এবার শুরুতেই দেবা।”