ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঠিন শর্তে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট এক দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রায় এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারই কঠোর শর্তযুক্ত ‘নন-কনসেশনাল’ বা অনমনীয় ঋণ। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে রাখা হবে, যা জরুরি আর্থিক চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় কঠিন শর্তের এসব ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট সহায়তার আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অর্থের সুদহার তুলনামূলক বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং পরিশোধ সময়সীমা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় এগুলোকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

জানা গেছে, ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, সাবপ্রোগ্রাম-২’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কনসেশনাল ঋণ। আর বাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার তাদের অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) থেকে দেওয়া হবে, যা অত্যন্ত অনমনীয় হিসেবে বিবেচিত। কনসেশনাল অংশে সুদহার দুই শতাংশ, পরিশোধকাল ২৫ বছর এবং পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। সে সঙ্গে এডিবির সঙ্গে সহ-অর্থায়নকারী হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এআইআইবি। এটিকে অত্যন্ত কঠিন ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ মোকাবিলায় জাইকার কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব প্রশাসন জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ১০০ মিলিয়ন ডলারও একই সহায়তা প্যাকেজে যুক্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাইকার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় তিন দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, পরিশোধকাল ৩০ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। এআইআইবির ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় পাঁচ দশমিক শূন্য আট শতাংশ, মেয়াদ ৩৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। ওপেক ফান্ডের ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় তিন দশমিক ছয় শতাংশ, মেয়াদ ১৮ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড তিন বছর।

বাজেট সহায়তার বাইরে ঢাকা-কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক বিনিয়োগ (ট্রাঞ্চ-২)’ প্রকল্পের জন্য এডিবির আরো ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে তিন হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা এবং এডিবি দেবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কনসেশনাল ঋণ পাওয়া সম্ভব না হলে তবেই নন-কনসেশনাল ঋণ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ অথবা সরকারি রাজস্বের ১৫ শতাংশ—দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেটাতে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। একইসঙ্গে মোট অনমনীয় বৈদেশিক দায় জিডিপির ১০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কঠিন শর্তে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট এক দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রায় এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারই কঠোর শর্তযুক্ত ‘নন-কনসেশনাল’ বা অনমনীয় ঋণ। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে রাখা হবে, যা জরুরি আর্থিক চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় কঠিন শর্তের এসব ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট সহায়তার আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অর্থের সুদহার তুলনামূলক বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং পরিশোধ সময়সীমা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় এগুলোকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

জানা গেছে, ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, সাবপ্রোগ্রাম-২’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কনসেশনাল ঋণ। আর বাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার তাদের অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) থেকে দেওয়া হবে, যা অত্যন্ত অনমনীয় হিসেবে বিবেচিত। কনসেশনাল অংশে সুদহার দুই শতাংশ, পরিশোধকাল ২৫ বছর এবং পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। সে সঙ্গে এডিবির সঙ্গে সহ-অর্থায়নকারী হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এআইআইবি। এটিকে অত্যন্ত কঠিন ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ মোকাবিলায় জাইকার কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব প্রশাসন জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ১০০ মিলিয়ন ডলারও একই সহায়তা প্যাকেজে যুক্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাইকার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় তিন দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, পরিশোধকাল ৩০ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। এআইআইবির ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় পাঁচ দশমিক শূন্য আট শতাংশ, মেয়াদ ৩৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। ওপেক ফান্ডের ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণে সুদহার প্রায় তিন দশমিক ছয় শতাংশ, মেয়াদ ১৮ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড তিন বছর।

বাজেট সহায়তার বাইরে ঢাকা-কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক বিনিয়োগ (ট্রাঞ্চ-২)’ প্রকল্পের জন্য এডিবির আরো ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে তিন হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা এবং এডিবি দেবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কনসেশনাল ঋণ পাওয়া সম্ভব না হলে তবেই নন-কনসেশনাল ঋণ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ অথবা সরকারি রাজস্বের ১৫ শতাংশ—দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেটাতে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। একইসঙ্গে মোট অনমনীয় বৈদেশিক দায় জিডিপির ১০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।