ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

ঈদের উপহার হিসেবে ডেকে নিয়ে গরমে কম্বল বিতরণ !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণের ঘটনা নিয়ে উপকারভোগী ও সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চৈত্র মাসের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পবা উপজেলা মডেল মসজিদের পার্কিং এলাকায় এ কম্বল বিতরণ করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। বড়গাছি ও নওহাটা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মসজিদের ধর্মীয় দায়িত্বশীলদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড়গাছিতে ২০৮ জন এবং নওহাটা পৌরসভায় ২৩০ জনের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মুসলেউদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবং পবা উপজেলা থেকে কম্বল পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিতরণ সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং উপজেলা পর্যায় থেকেই দেরি হয়েছে। সেজন্য আজকে আমরা বিতরণ করছি।”

তবে উপকারভোগীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। কয়েকজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, গরমের সময় কম্বল তাদের কোনো কাজে আসছে না। নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া এলাকার এক মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে বলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এসে দেখি কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এই গরমে কম্বল দিয়ে আমরা কী করবো? শীতের সময় পেলে বেশি উপকার হতো।”

বড়গাছি এলাকার ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন,“এটি একটি চরম অব্যবস্থাপনা। আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে ডেকে নিয়ে এসে এই গরমের সময়ে কম্বল দিচ্ছে। আমরা এই তীব্র গরমের ভিতরে কম্বল নিয়ে কি করবো?

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুঠিয়াপাড়া এলাকার মুয়াজ্জিন কবির হোসেন। তিনি বলেন, “শীতের সময় কম্বল না দিয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো এখন ব্যবহার করা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে তুলে রাখতে হবে। এই দেরির দায় কে নেবে?”

অন্যান্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সময়ে কম্বল না পেলে গরমের সময়ে তো কোন কাজে আসবে না। শীতের কাপড় কি গরমে পরা যায়, এটি শীতের সময়ে দিলে বেশি ভালো হতো। এখন এ কম্বল তাদের কোন কাজে আসবে না।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “পবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আগেই ১,২৫০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। তারা নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছে। যদি বিতরণে দেরি হয়ে থাকে, সেটি তাদের ব্যবস্থাপনার বিষয়। আমরা তাদেরকে অনেক আগেই কম্বল দিয়েছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈদের উপহার হিসেবে ডেকে নিয়ে গরমে কম্বল বিতরণ !

আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণের ঘটনা নিয়ে উপকারভোগী ও সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চৈত্র মাসের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পবা উপজেলা মডেল মসজিদের পার্কিং এলাকায় এ কম্বল বিতরণ করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। বড়গাছি ও নওহাটা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মসজিদের ধর্মীয় দায়িত্বশীলদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড়গাছিতে ২০৮ জন এবং নওহাটা পৌরসভায় ২৩০ জনের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মুসলেউদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবং পবা উপজেলা থেকে কম্বল পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিতরণ সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং উপজেলা পর্যায় থেকেই দেরি হয়েছে। সেজন্য আজকে আমরা বিতরণ করছি।”

তবে উপকারভোগীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। কয়েকজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, গরমের সময় কম্বল তাদের কোনো কাজে আসছে না। নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া এলাকার এক মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে বলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এসে দেখি কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এই গরমে কম্বল দিয়ে আমরা কী করবো? শীতের সময় পেলে বেশি উপকার হতো।”

বড়গাছি এলাকার ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন,“এটি একটি চরম অব্যবস্থাপনা। আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে ডেকে নিয়ে এসে এই গরমের সময়ে কম্বল দিচ্ছে। আমরা এই তীব্র গরমের ভিতরে কম্বল নিয়ে কি করবো?

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুঠিয়াপাড়া এলাকার মুয়াজ্জিন কবির হোসেন। তিনি বলেন, “শীতের সময় কম্বল না দিয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো এখন ব্যবহার করা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে তুলে রাখতে হবে। এই দেরির দায় কে নেবে?”

অন্যান্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সময়ে কম্বল না পেলে গরমের সময়ে তো কোন কাজে আসবে না। শীতের কাপড় কি গরমে পরা যায়, এটি শীতের সময়ে দিলে বেশি ভালো হতো। এখন এ কম্বল তাদের কোন কাজে আসবে না।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “পবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আগেই ১,২৫০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। তারা নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছে। যদি বিতরণে দেরি হয়ে থাকে, সেটি তাদের ব্যবস্থাপনার বিষয়। আমরা তাদেরকে অনেক আগেই কম্বল দিয়েছি।”