ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

মসজিদের ইমাম থেকে গীর্জার পাদ্রী, আজ থেকে সবাই পাবেন মাসিক ভাতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ডেস্ক: ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে মাসিক সম্মানী চালু করতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান জানান, এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকদেরও সম্মানী দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা।

প্রতিটি মন্দিরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।

খ্রিস্টান গির্জার ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতি গির্জায় ৮ হাজার টাকার মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ বোনাস দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মসজিদে কর্মরতরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুইবার ১ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের সময় সংশ্লিষ্টদের জন্য ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।

তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হবে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে। আর দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ লাগবে। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৭-২৮-এ ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা বাড়বে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটিতে এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মসজিদের ইমাম থেকে গীর্জার পাদ্রী, আজ থেকে সবাই পাবেন মাসিক ভাতা

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
জাতীয় ডেস্ক: ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে মাসিক সম্মানী চালু করতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান জানান, এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকদেরও সম্মানী দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা।

প্রতিটি মন্দিরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।

খ্রিস্টান গির্জার ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতি গির্জায় ৮ হাজার টাকার মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ বোনাস দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মসজিদে কর্মরতরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুইবার ১ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের সময় সংশ্লিষ্টদের জন্য ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।

তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হবে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে। আর দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ লাগবে। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৭-২৮-এ ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা বাড়বে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটিতে এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।