ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

খুনিরা পার পেয়ে গেলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত আমির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওসমান হাদির খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না। রোববার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দ্রুত সব ধরনের সন্দেহ ও সংশয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, বিপ্লবীদের খুন করে বিপ্লবের চেতনাকে দমন করা যায় না। বরং সেই আদর্শ আরও বিস্তৃত হয়। মানুষ বিপ্লবকে আরও বেশি আঁকড়ে ধরে। হাদির জানাজায় দেশ-বিদেশের মানুষ মানসিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল, যা প্রমাণ করে হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শের নাম।

হাদির হত্যাকারীদের ‘বাংলাদেশের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাদিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব সংস্কৃতির পক্ষে ছিল। তারা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিল। এ কারণেই হাদির শত্রুরা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই শত্রু।

তিনি বলেন, এই দেশ ও জাতির পাহারাদারি আমাদেরই করতে হবে। কোনো কালো চিলকে আর দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না- এটাই ছিল হাদিদের অঙ্গীকার। তারা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ‘চব্বিশ’ ছাড়তে রাজি হয়নি। এটাই কি তাদের অপরাধ ছিল- আবেগঘন কন্ঠে এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাদির জীবন দর্শনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, হাদি আজীবন ইনসাফের কথা বলেছেন। এমনকি শত্রুর প্রতিও বেইনসাফি করতে চাননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও তিনি কখনো জুলুম করেননি।

খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের কার্যক্রমে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। জানাজার সময় প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে পেরেছেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, হাদির জনপ্রিয়তা হয়তো কেউ কেউ সহ্য করতে পারেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- বিপ্লবীদের হত্যা করা গেলেও তাদের চেতনাকে হত্যা করা যায় না, তারা আরও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। এ সময় জামায়াত আমির আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফারহাদসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খুনিরা পার পেয়ে গেলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওসমান হাদির খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না। রোববার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দ্রুত সব ধরনের সন্দেহ ও সংশয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, বিপ্লবীদের খুন করে বিপ্লবের চেতনাকে দমন করা যায় না। বরং সেই আদর্শ আরও বিস্তৃত হয়। মানুষ বিপ্লবকে আরও বেশি আঁকড়ে ধরে। হাদির জানাজায় দেশ-বিদেশের মানুষ মানসিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল, যা প্রমাণ করে হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শের নাম।

হাদির হত্যাকারীদের ‘বাংলাদেশের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাদিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব সংস্কৃতির পক্ষে ছিল। তারা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিল। এ কারণেই হাদির শত্রুরা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই শত্রু।

তিনি বলেন, এই দেশ ও জাতির পাহারাদারি আমাদেরই করতে হবে। কোনো কালো চিলকে আর দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না- এটাই ছিল হাদিদের অঙ্গীকার। তারা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ‘চব্বিশ’ ছাড়তে রাজি হয়নি। এটাই কি তাদের অপরাধ ছিল- আবেগঘন কন্ঠে এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাদির জীবন দর্শনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, হাদি আজীবন ইনসাফের কথা বলেছেন। এমনকি শত্রুর প্রতিও বেইনসাফি করতে চাননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও তিনি কখনো জুলুম করেননি।

খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের কার্যক্রমে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। জানাজার সময় প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে পেরেছেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, হাদির জনপ্রিয়তা হয়তো কেউ কেউ সহ্য করতে পারেনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- বিপ্লবীদের হত্যা করা গেলেও তাদের চেতনাকে হত্যা করা যায় না, তারা আরও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। এ সময় জামায়াত আমির আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফারহাদসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।