ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যাঁরা আদালত ন্যায়বিচারের নিরাপদস্থল হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে ইরানকে ফের অনুরোধ আলোচনায় থেকেও বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না যারা বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করায় সরকারকে সাধুবাদ মালিক সমিতির জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৫ মে

মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ’মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা’ শেষে সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন৷

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নের সুরাহা হয়নি মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নের সুরাহা করতে পারি নেই। ৫৪ বছর পরে এসেও আমরা দেখি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের রাজনীতি। গণঅভ্যুথথানের মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের বিভাজনের রাজনীতির সুরাহা হবে। সেই রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে দূর হবে। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি ৫ আগস্টের পরে সেই রাজনীতি আবারও ফিরে এসেছে। যেই রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং মুজিববাদী বামপন্থিরা বাংলাদেশকে সবসময় বিভাজিত করে রেখেছিল, বাংলাদেশে সবসময় একটা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে রেখেছিল।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ১৬ ডিসেম্বরকে নরেন্দ্র মোদি ভারতের বিজয় দিবস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে, বাংলাদেশের জনযুদ্ধকে, বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামকে ভারতের বিজয় হিসেবে দেখানোর মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদি দৃশ্যত ইতিহাস বিকৃতি করেছেন। বংলাদেশের জন্মের সাথে লেগে থাকা ইতিহাসকে বিকৃতির দায়ে নরেন্দ্র মোদীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, এটা কোনো ছেলেখেলা নয়। বাংলাদেশের বিজয়কে ভারতের বিজয় দেখিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করার ছেলেখেলাকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্ব নিয়ে মোদির ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি করতে হবে।

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন সংস্কারের নির্বাচন। আপনারা সংস্কারের পক্ষে থাকবেন, বাংলাদেশের পক্ষে থাকবেন।

এ দিন বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে ’আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা’ শুরু হয়। কাটাবন মোড়, নীলক্ষেত মোড় ও পলাশীর মোড় হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় এই পদযাত্রা। এতে দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় ডেস্ক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ’মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা’ শেষে সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন৷

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নের সুরাহা হয়নি মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নের সুরাহা করতে পারি নেই। ৫৪ বছর পরে এসেও আমরা দেখি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের রাজনীতি। গণঅভ্যুথথানের মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের বিভাজনের রাজনীতির সুরাহা হবে। সেই রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে দূর হবে। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি ৫ আগস্টের পরে সেই রাজনীতি আবারও ফিরে এসেছে। যেই রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং মুজিববাদী বামপন্থিরা বাংলাদেশকে সবসময় বিভাজিত করে রেখেছিল, বাংলাদেশে সবসময় একটা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে রেখেছিল।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ১৬ ডিসেম্বরকে নরেন্দ্র মোদি ভারতের বিজয় দিবস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে, বাংলাদেশের জনযুদ্ধকে, বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামকে ভারতের বিজয় হিসেবে দেখানোর মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদি দৃশ্যত ইতিহাস বিকৃতি করেছেন। বংলাদেশের জন্মের সাথে লেগে থাকা ইতিহাসকে বিকৃতির দায়ে নরেন্দ্র মোদীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, এটা কোনো ছেলেখেলা নয়। বাংলাদেশের বিজয়কে ভারতের বিজয় দেখিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করার ছেলেখেলাকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্ব নিয়ে মোদির ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি করতে হবে।

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন সংস্কারের নির্বাচন। আপনারা সংস্কারের পক্ষে থাকবেন, বাংলাদেশের পক্ষে থাকবেন।

এ দিন বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে ’আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা’ শুরু হয়। কাটাবন মোড়, নীলক্ষেত মোড় ও পলাশীর মোড় হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় এই পদযাত্রা। এতে দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।