ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সহিংসতার জন্য স্টারলিংক ও পশ্চিমাদের দুষলেন ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পুনঃমঞ্চায়ন: সাদিক কায়েমের পোস্ট দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আল্টিমেটাম শাকসু নির্বাচন বানচাল হলে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবিরের তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডা হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ শাকসু নির্বাচন স্থগিত করল হাইকোর্ট বিএনপির পক্ষে ইসি, নির্বাচনে যাবে কিনা পুর্নবিবেচনা করছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ জোটে না থাকলেও ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত কিছু হলেই মব তৈরি করে জামায়াত-এনসিপি: নাছির উদ্দিন নাছির সমঝোতা না মানলে দুই আসনেই নির্বাচন করবেন মান্না

রাবিতে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদানে অনিয়ম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৬ বার পড়া হয়েছে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিয়ম লঙ্ঘন করে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই অনুষদের ডিন ড. কেএম মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে। অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম মোছা. সানজিদা পারভীন।

জানা গেছে, তিনি ওই বিভাগে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। তবে এক বছর গ্যাপ দিয়ে পরের সেশনের (২০১৭-১৮) সঙ্গে পড়াশোনা চালান। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় তাকে এক বছরের জন্য সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত এবং এফ গ্রেড থাকা কেউ ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাবেন না। বিশেষ সুবিধা দিতে এবং ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য আস্থাভাজন শিক্ষার্থীকে অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোভন বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী যেকোনো ছাত্র অকৃতকার্য হলে অথবা রিঅ্যাডমিশন নিলে সে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আমাদের ব্যাচের ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রথমে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হন এবং পরে দুবার রিঅ্যাডমিশন নিয়ে আমাদের সঙ্গে ভর্তি হয়ে পাস করেন। তিনি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য এক বছরের শাস্তিপ্রাপ্ত। ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ উভয় সেশন থেকে যেখানে দুজনকে আগেই ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়, সেখানে ২০১৮-১৯ সেশন থেকে কাউকেই প্রদান করা হয়নি।

আমি ২০১৮-১৯ সেশনের নিয়মিত ব্যাচ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করি। নিয়মানুযায়ী একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে আমি এ অ্যাওয়ার্ডের যোগ্য বলে বিশ্বাস করি। তিনি অরো বলেন, অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এ নীতিমালা অনুসরণ করেই ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের ফ্যাকাল্টির ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেনÑএটাই আমার প্রশ্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ময়জুর রহমান বলেন, আমাদের বিভাগে প্রথমবারের মতো ডিন’স অ্যাওয়ার্ড চালু হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। প্রথম হওয়ায় তাকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কেএম মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দিয়েছি। কোনো নীতিমালা না থাকায় বিষয়টি নজরে আসেনি। আমরা ইতোমধ্যে এটা নিয়ে রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে বসে পুনরায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা মূলত ডিন অফিসের বিষয়। রেজাল্ট প্রথম হিসেবে বিবেচনা করে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা ওনারাই নির্ধারণ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাবিতে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদানে অনিয়ম

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিয়ম লঙ্ঘন করে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই অনুষদের ডিন ড. কেএম মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে। অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম মোছা. সানজিদা পারভীন।

জানা গেছে, তিনি ওই বিভাগে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। তবে এক বছর গ্যাপ দিয়ে পরের সেশনের (২০১৭-১৮) সঙ্গে পড়াশোনা চালান। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় তাকে এক বছরের জন্য সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত এবং এফ গ্রেড থাকা কেউ ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাবেন না। বিশেষ সুবিধা দিতে এবং ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য আস্থাভাজন শিক্ষার্থীকে অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোভন বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী যেকোনো ছাত্র অকৃতকার্য হলে অথবা রিঅ্যাডমিশন নিলে সে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আমাদের ব্যাচের ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রথমে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হন এবং পরে দুবার রিঅ্যাডমিশন নিয়ে আমাদের সঙ্গে ভর্তি হয়ে পাস করেন। তিনি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য এক বছরের শাস্তিপ্রাপ্ত। ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ উভয় সেশন থেকে যেখানে দুজনকে আগেই ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়, সেখানে ২০১৮-১৯ সেশন থেকে কাউকেই প্রদান করা হয়নি।

আমি ২০১৮-১৯ সেশনের নিয়মিত ব্যাচ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করি। নিয়মানুযায়ী একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে আমি এ অ্যাওয়ার্ডের যোগ্য বলে বিশ্বাস করি। তিনি অরো বলেন, অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এ নীতিমালা অনুসরণ করেই ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের ফ্যাকাল্টির ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেনÑএটাই আমার প্রশ্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ময়জুর রহমান বলেন, আমাদের বিভাগে প্রথমবারের মতো ডিন’স অ্যাওয়ার্ড চালু হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। প্রথম হওয়ায় তাকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কেএম মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দিয়েছি। কোনো নীতিমালা না থাকায় বিষয়টি নজরে আসেনি। আমরা ইতোমধ্যে এটা নিয়ে রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে বসে পুনরায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা মূলত ডিন অফিসের বিষয়। রেজাল্ট প্রথম হিসেবে বিবেচনা করে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা ওনারাই নির্ধারণ করবেন।