ইসলামী শিক্ষার রুপরেখা ( দ্বিতীয় পর্ব ): ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব এবং বর্তমান অবস্থা
- আপডেট সময় : ১০:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, মহান আল্লাহ্ মানুষকে খলিফা হিসেবে প্রেরণ করেছেন । খিলাফতের এই মহান দায়িত্ব পালন করার জন্য ভূ-পৃষ্টের অন্তর্গত সৃষ্ট বস্তু সমূহের নাম গুনাগুন ,বিস্তারিত অবস্থা ও যাবতীয় লক্ষণাদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ব্যতিত বিশ্ব খেলাকত প্রতিষ্ঠান করা সম্ভবপর নহে । হরযত আদম (আঃ)স্বর্গীয় জ্ঞানে পৃথিবীতে খেলাকত প্রতিষ্ঠা করেন এবং পর্যায় ক্রমে নবীগন এই দায়িত্ব পালন করেন । হযরত মোহাম্মদের (দ:) ইন্তেকালের পর খিলাকাত প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব ও র্কতব্য উম্মতে মোহাম্মদীর উপর অর্পিত হয় । শিক্ষা ব্যতিত এই মহান দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব ।
মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন ,“আল্লাহ্ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে , তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন ।তিনি তাদের জন্য তার আয়াত সমূহ পাঠ করেন । বস্তুত ঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথদ্রস্ট । অত্র আয়াতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন শিক্ষার উপর গুরুত্বরোপ করেন । মহান আল্লাহ্ মানব জাতিকে শিক্ষার মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা হতে সত্যের দিকে আসার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন । শিক্ষাই মানুুষকে পথভ্রষ্টতা হতে হেফাজত করতে পারে ।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের অন্যত্র এরশাদ করেন ” আমি প্রেরণ করেছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্য একজন রাসূল । যিনি তোমাদের নিকট আমার বানী সমূহে পাঠ করবেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র করবেন । আর তোমাদেরকে শিক্ষা দিবেন কিতাব ও তার তত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দিবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানত না। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য নিরুপন করে মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন ” বলুন যারা জানে এবং যারা জানে না : তারা কি সমান হতে পারে ?হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করে এরশাদ করেন ” জ্ঞান-অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ । শিক্ষা সংক্রান্ত আরো অসংখ্য কুরআনের বানী এবং হাদীস রয়েছে ।
মুসলমানদের জন্য দুই ধরনের শিক্ষা গ্রহন করা আবশ্যক । প্রথমে ওহীর ইলম যা শরীয়া শাস্ত্রাদি নামে পরিচিত । ইলমে ওহী দ্বারা ইসলাম সম্পর্কে অবগত হয়ে নিজকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করা যায় । অপরটি হল মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শিক্ষা । এই উভয়বিদ শিক্ষার উপরই গুরুত্ব আরোপ করা আবশ্যক । কারন যদি আপনি অমুসলমানদের বিবিধ আক্রমন হতে নিজকে আত্বরক্ষার শিক্ষা গ্রহন না করে শুধুমাত্র শরীয়া শাস্ত্রাদি শিক্ষা গ্রহন করেন , তাহলে আপনার পরিনতি বুখারা, সমরকন্দ, স্পেন এবং বর্তমান যুগে রোহিংগাদের অনুরুপ হবে । ইতিহাসে দেখা যায় যে, যে মুসলিম জনগোষ্টী শুধুমাত্র শরীয়া শাস্ত্রাদি শিক্ষা গ্রহন করেছে এবং অস্তিত্ব রক্ষার শাস্্রাদিকে অবজ্ঞা করেছে — তাদের ঠিকানা হল শরনার্থী শিবির । বর্তমানে রোহিংগাদের অবস্থা বিশ্লেষন করলে দেখতে পারবেন যে, তাদের মধ্যে যে পরিমান শরীয়া শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ রয়েছে ——বাংলাদেশেও এমন যোগ্যতা সম্পন্ন আলেম রয়েছে কি না —–সন্দেহ রয়েছে । অথচ তাদের এহেন পরিনতির জন্য অন্যতম দায়ী হল তারা মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার শাস্ত্রাদিকে অবহেলা করেছে এবং এগুলো অধ্যায়ন করাকে ঘৃনার নজরে দেখত । মুসলমানদের বর্তমান এ অবস্থার জন্য অন্যতম কারন হল মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার শাস্ত্রাদিতে অবহেলা এবং ঘৃনা ।
অনেকেই হয়তবা বলবে যে, কুরআন এবং হাদীস এবং সুন্নাহ মোতাবেক নিজ জীবন পরিচালিত করলেই নিজদের অস্তিত্ব রক্ষা হবে । তাদের জানা উচিত যে, মধ্য এশিয়ায় যে পরিমান শরীয়া শাস্ত্রাদি চর্চা হয়েছে এবং যে পরিমান কিতাবদি সংকলন ও রচিত হয়েছে ———স্পেন ব্যতিত অন্য কোথাও এ যাবতকাল শরীয়া শাস্ত্রাদিতে এত বেশী চর্চা হয়নি । কাজেই যারা শুধুমাত্র শরীয়া শাস্তাদিকেই অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র মাধ্যম মনে করে — তারা নিজ এবং মুসলমানদের বরবাদের অগ্রনায়ক হবেন ।





















