ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

পাকিস্তানের পতনের কারন: পুঁজিবাদী শিবিরে প্রবেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক , হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহ আনহুর আমলে পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের পর সমস্ত পৃথিবীতে দুটি শক্তির অস্তিত্ব দেখতে পায় , একটি হল রোমান সাম্রাজ্য যাকে খ্রিস্টান শক্তি নামে আমরা অবহিত করতে পারি। অপরটি হল ইসলামী শক্তি , এই ইসলামী শক্তি এবং খ্রিস্টান শক্তির মধ্যে দন্ড ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল । ১৯১৭ সালে আল আকাবার যুদ্ধের পর ওসমানীয় খেলাফত বা ইসলামী শক্তি তার আবেদন হারিয়ে ফেলে এবং এর পতন অনিবার্য হয়ে যায়।

খিলাফত পতনের প্রাক্কালে খ্রীষ্টান শক্তির বিপরীতে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয় সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই সমাজতান্ত্রিক মতবাদ পূথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল এবং সমাজতান্ত্রিক শিবির খ্রিষ্টান শক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ১৯১৭ সালে ইসলামের শক্তির পতনের পর পাশ্চাত্যের বিরোধিতা করার জন্য আরেকটি শক্তির আবির্ভাব হয় যেটা সোভিয়েত ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে সমাজতান্ত্রিক শক্তির আবির্ভাব হয় ।

এদিকে খ্রীষ্টান শক্তি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদীদের খপ্পরে পড়ে পুরোদস্তুর পুঁজিবাদী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের রাজনৈতিক মঞ্চে আমেরিকার আবির্ভাব ঘটে। এই আমেরিকা ইহুদিবাদী শক্তির দ্বারা পরিচালিত। ইসলামী শক্তির পতনের পর ইহুদীদের উখান মুসলমানদের জন্য উপনিবেশিক শাসন অপেক্ষা অধিকতর বিপদজনক হয়ে উঠে। উপনিবেশ আমলে বায়তুল মোকাদ্দাসের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে ছিল। কিছু পুঁজিবাদী শাসনামলে মুসলমানদের উপর বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসন চলতে থাকে।

পাঠক, আমি সবসময় বলে আসতেছি যে, পাকিস্তান নিছক একটি রাষ্ট্র নয় । এটি ছিল মুসলমানদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিক । কিন্তু পাকিস্তান হবার কয়েক দিন পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পুঁজিবাদী শিবিরে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের পতনকে ত্বরান্বিত করে। কারণ পুঁজিবাদী শিবিরে প্রবেশ মাত্রই রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান টিকে থাকার জন্য স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলমানদের একটি আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল যে মুসলমানরা পাশ্চাত্য এবং সমাজতন্ত্রের শক্তির বিপক্ষে একটি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে ।

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি আমেরিকা শিবিরে প্রবেশ করার পর মুসলমানদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা একেবারে চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে যায়, কারণ মুসলমানরা তখন নিজস্ব সাহিত্য সংস্কৃতির বদলেতে পুঁজিবাদের আলোকে নিজেদের অর্থ ব্যবস্থা সাজাতে শুরু করে এই হল পাকিস্তান পতনের অন্যতম কারণ। আপনি ইসলামের নামে রাষ্ট্র গঠিত করে পুঁজিবাদীর আলোকে রাষ্ট্র সাজিয়ে তুলবেন —– এই রাষ্ট্র ঠিকার প্রশ্নই উঠে না।

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির পতনের জন্য ইসলামী আদর্শ পরিত্যাগ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল অন্যতম কারন ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাকিস্তানের পতনের কারন: পুঁজিবাদী শিবিরে প্রবেশ

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক , হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহ আনহুর আমলে পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের পর সমস্ত পৃথিবীতে দুটি শক্তির অস্তিত্ব দেখতে পায় , একটি হল রোমান সাম্রাজ্য যাকে খ্রিস্টান শক্তি নামে আমরা অবহিত করতে পারি। অপরটি হল ইসলামী শক্তি , এই ইসলামী শক্তি এবং খ্রিস্টান শক্তির মধ্যে দন্ড ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল । ১৯১৭ সালে আল আকাবার যুদ্ধের পর ওসমানীয় খেলাফত বা ইসলামী শক্তি তার আবেদন হারিয়ে ফেলে এবং এর পতন অনিবার্য হয়ে যায়।

খিলাফত পতনের প্রাক্কালে খ্রীষ্টান শক্তির বিপরীতে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয় সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই সমাজতান্ত্রিক মতবাদ পূথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল এবং সমাজতান্ত্রিক শিবির খ্রিষ্টান শক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ১৯১৭ সালে ইসলামের শক্তির পতনের পর পাশ্চাত্যের বিরোধিতা করার জন্য আরেকটি শক্তির আবির্ভাব হয় যেটা সোভিয়েত ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে সমাজতান্ত্রিক শক্তির আবির্ভাব হয় ।

এদিকে খ্রীষ্টান শক্তি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদীদের খপ্পরে পড়ে পুরোদস্তুর পুঁজিবাদী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের রাজনৈতিক মঞ্চে আমেরিকার আবির্ভাব ঘটে। এই আমেরিকা ইহুদিবাদী শক্তির দ্বারা পরিচালিত। ইসলামী শক্তির পতনের পর ইহুদীদের উখান মুসলমানদের জন্য উপনিবেশিক শাসন অপেক্ষা অধিকতর বিপদজনক হয়ে উঠে। উপনিবেশ আমলে বায়তুল মোকাদ্দাসের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে ছিল। কিছু পুঁজিবাদী শাসনামলে মুসলমানদের উপর বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসন চলতে থাকে।

পাঠক, আমি সবসময় বলে আসতেছি যে, পাকিস্তান নিছক একটি রাষ্ট্র নয় । এটি ছিল মুসলমানদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিক । কিন্তু পাকিস্তান হবার কয়েক দিন পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পুঁজিবাদী শিবিরে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের পতনকে ত্বরান্বিত করে। কারণ পুঁজিবাদী শিবিরে প্রবেশ মাত্রই রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান টিকে থাকার জন্য স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলমানদের একটি আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল যে মুসলমানরা পাশ্চাত্য এবং সমাজতন্ত্রের শক্তির বিপক্ষে একটি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে ।

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি আমেরিকা শিবিরে প্রবেশ করার পর মুসলমানদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা একেবারে চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে যায়, কারণ মুসলমানরা তখন নিজস্ব সাহিত্য সংস্কৃতির বদলেতে পুঁজিবাদের আলোকে নিজেদের অর্থ ব্যবস্থা সাজাতে শুরু করে এই হল পাকিস্তান পতনের অন্যতম কারণ। আপনি ইসলামের নামে রাষ্ট্র গঠিত করে পুঁজিবাদীর আলোকে রাষ্ট্র সাজিয়ে তুলবেন —– এই রাষ্ট্র ঠিকার প্রশ্নই উঠে না।

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির পতনের জন্য ইসলামী আদর্শ পরিত্যাগ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল অন্যতম কারন ।