ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে মিলছে রাজশাহী ও বিরিশিরির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার বিভাগীয় পর্যায়ের ‘সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি’। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনের এই কর্মসূচি  ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার শেষ হবে। রাজশা

হী ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর,  বিরিশিরি এলাকার ক্ষুদ্র  নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। রাজশাহীর আদিবাসী কাড়সা ফোক ব্যান্ড, রাহেলা রিমি ডান্স গ্রুপ ও একাডেমির শিল্পীরা নিজেদের গান, নাচ, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেন। উদ্বোধনের পর সাঁওতাল, ওরাও, মাহলী, মুণ্ডা, খাসি ও হাজং সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

 রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি  ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম (কনক)একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, নির্বাহী সদস্য মোসা. মনোয়ারা পারভীন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডি,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি বিরিশিরির পরিচালক পরাগ রিছিল,বিরিশিরি একাডেমির নির্বাহী সদস্য যুগল কিশোর কোচ, বিরিশিরির ভারপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মালা মার্থা আরেং, সাংস্কৃতিক কর্মী পল্ব চক্রবর্তী ও সরোজ মোস্তফা।

একাডেমির  পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্যে গঠিত। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। এই বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন ও  আরও গভীর হবে।

একাডেমির নির্বাহী সদস্য আকবারুল হাসান মিল্লাত বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাদের ঐতিহ্য রক্ষায় গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা জরুরি।ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি বিরিশিরির পরিচালক পরাগ রিছিল বলেন,দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আলাদা হলেও, তাদের মধ্যে রয়েছে ঐক্যের এক অদৃশ্য বন্ধন। রাজশাহী ও বিরিশিরির শিল্পীদের এই সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক  বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন,বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল শেকড় গ্রামীণ জীবন ও লোকজ ঐতিহ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচার বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক। জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আবশ্যক। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে মিলছে রাজশাহী ও বিরিশিরির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা

আপডেট সময় : ০২:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার বিভাগীয় পর্যায়ের ‘সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি’। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনের এই কর্মসূচি  ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার শেষ হবে। রাজশা

হী ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর,  বিরিশিরি এলাকার ক্ষুদ্র  নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। রাজশাহীর আদিবাসী কাড়সা ফোক ব্যান্ড, রাহেলা রিমি ডান্স গ্রুপ ও একাডেমির শিল্পীরা নিজেদের গান, নাচ, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেন। উদ্বোধনের পর সাঁওতাল, ওরাও, মাহলী, মুণ্ডা, খাসি ও হাজং সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

 রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি  ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম (কনক)একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, নির্বাহী সদস্য মোসা. মনোয়ারা পারভীন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডি,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি বিরিশিরির পরিচালক পরাগ রিছিল,বিরিশিরি একাডেমির নির্বাহী সদস্য যুগল কিশোর কোচ, বিরিশিরির ভারপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মালা মার্থা আরেং, সাংস্কৃতিক কর্মী পল্ব চক্রবর্তী ও সরোজ মোস্তফা।

একাডেমির  পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্যে গঠিত। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। এই বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন ও  আরও গভীর হবে।

একাডেমির নির্বাহী সদস্য আকবারুল হাসান মিল্লাত বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাদের ঐতিহ্য রক্ষায় গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা জরুরি।ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি বিরিশিরির পরিচালক পরাগ রিছিল বলেন,দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আলাদা হলেও, তাদের মধ্যে রয়েছে ঐক্যের এক অদৃশ্য বন্ধন। রাজশাহী ও বিরিশিরির শিল্পীদের এই সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক  বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন,বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল শেকড় গ্রামীণ জীবন ও লোকজ ঐতিহ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচার বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক। জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আবশ্যক।