ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য পাকিস্তানের অপরিহার্যতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, কি জন্য আমাদের পূর্ব পূরষগন নিজেদের জান মাল বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ইতিহাস জানা আবশ্যক। পাকিস্তান সূষ্টির অপরিহার্যতা সম্পর্কে আপনি না জানলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির আগ্রাসনের সম্মুখীন হতে বাধ্য। কারণ যারা নিজেদের পূর্ব পূরুষদের ইতিহাস না জানে, তাদের ললাটে গোলামীর টিকা থাকবে । পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এক হওয়া সম্ভব নয়। এক হওয়ার কল্পনা করাও ভূল এবং কল্পনা বিলাস মাত্র। কিন্তু পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হত না, এই বিষয়টি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। কাজেই এদেশের অস্তিত্বের জন্য পাকিস্তানের অপরিহার্যতা সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

পাঠক, ভারতে মুসলিম শাসন অবসানের পর হিন্দুত্ববাদী শক্তির উখান মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে দেয় । ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ হিন্দুত্ববাদী শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত , কারণ ভারতের দুই তূতীয়া‌‌্শের বেশি জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। স্বাভাবিক ভাবেই মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার কোন সম্ভাবনা ছিল না। স‌‌্খ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হিন্দুত্ববাদী শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে কোন আইন পাশ করে মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিত।
যেমনিভাবে ২০১৯ সালে হিন্দুত্ববাদী শক্তি কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কেড়ে নেয়। এন আর সি এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে।

আবার রাষ্ট্রীয় মদদে মুসলমানদের নিধন কর্মসূচি অব্যাহত থাকত । যেমনটি এখন ভারতে চলছে। মুসলমানদের নাগরিক স্বাধীনতা সেখানে থাকত না। হিন্দুত্ববাদী শক্তি ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বকে সহ্য করতে পারত না। তারা মুসলমানদেরকে ভারত ছেড়ে আরবের খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলত । আমার নিকট কয়েক জন প্রবীণ মুসলিম স্থানীয় নেতা বর্ননা করেছেন যে, হিন্দুত্ববাদী শক্তি মুসলমানদেরকে আরবের খেজুর তলায় পাঠাবে মর্মে হুমকি দিত ।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির অত্যাচার এবং মুসলমানদের প্রতি তাদের ঘূন্য মনোভাব দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অখন্ড ভারতে মুসলমানরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হত, ফলে মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। অখন্ড ভারতে সব সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগেই থাকত, হিন্দুরা স‌‌্খ্যাগরিষ্ট হবার কারণে মুসলমানরা সব সময় মার খেত। অখন্ড ভারতে হিন্দুরা স‌‌্খ্যা গরিষ্ঠ হবার কারণে মুসলমানদের অস্তিত্ব সব সময় তাদের দয়ার উপর নির্ভর করত। স‌‌্খ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে কোন আইন পাশ করে মুসলমানদেরকে বিপদে ফেলে দিত । যেমনটি ১৯৪৭ সালের পর থেকে পরিলক্ষিত হয়। অথাৎ মুসলমানদের অস্তিত্ব, মুসলমানদের স্বার্থ অখন্ড ভারতে নিরাপদ ছিল না। মুসলমানরা অখন্ড ভারতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে হত , যেমনটি এখন ভারতে দেখা যায়।

হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের অসহায়ত্বের মুখে মুসলমানরা একটি মুসলিম রিয়াসাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে । লাহোর প্রস্তাব এর একটি জলন্ত উদাহরণ। পাকিস্তান না হলে মুসলমানরা স‌‌্খ্যালঘু হিসেবে সব সময় হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হত ।

ভারতের মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হবার আশঙ্কা শুধু মুসলমানদের ছিল না। হিন্দুত্ববাদী শক্তি দ্বারা নির্যাতিত দলিতদের নেতা ও ভারতীয় স‌‌্ বিধানের প্রবক্তা আম্বেদকর নিজে এই আশ‌‌্কা ব্যাক্ত করে পাকিস্তানের অপরিহার্যতা সম্পর্কে বলিষ্ঠ কন্ঠে বক্তব্য রাখতেন।

মুসলমানদের মৌলিক অধিকার বলতে কিছুই থাকত না। এমতাবস্থায় ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য একটি আলাদা মুসলিম রিয়াসাত প্রতিষ্ঠা আবশ্যক ছিল। পাকিস্তান সেই আবশ্যকতাকে অনেকটা পূরন করেছে। কাজেই মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য , মুসলমানদের স্বার্থের জন্য এক বা একাধিক মুসলিম রিয়াসাতের প্রয়োজনীয়তা ছিল যা পাকিস্তানের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে । বর্তমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পাকিস্তান আন্দোলনের ফসল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য পাকিস্তানের অপরিহার্যতা

আপডেট সময় : ০৭:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, কি জন্য আমাদের পূর্ব পূরষগন নিজেদের জান মাল বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ইতিহাস জানা আবশ্যক। পাকিস্তান সূষ্টির অপরিহার্যতা সম্পর্কে আপনি না জানলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির আগ্রাসনের সম্মুখীন হতে বাধ্য। কারণ যারা নিজেদের পূর্ব পূরুষদের ইতিহাস না জানে, তাদের ললাটে গোলামীর টিকা থাকবে । পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এক হওয়া সম্ভব নয়। এক হওয়ার কল্পনা করাও ভূল এবং কল্পনা বিলাস মাত্র। কিন্তু পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হত না, এই বিষয়টি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। কাজেই এদেশের অস্তিত্বের জন্য পাকিস্তানের অপরিহার্যতা সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

পাঠক, ভারতে মুসলিম শাসন অবসানের পর হিন্দুত্ববাদী শক্তির উখান মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে দেয় । ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ হিন্দুত্ববাদী শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত , কারণ ভারতের দুই তূতীয়া‌‌্শের বেশি জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। স্বাভাবিক ভাবেই মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার কোন সম্ভাবনা ছিল না। স‌‌্খ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হিন্দুত্ববাদী শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে কোন আইন পাশ করে মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিত।
যেমনিভাবে ২০১৯ সালে হিন্দুত্ববাদী শক্তি কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কেড়ে নেয়। এন আর সি এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে।

আবার রাষ্ট্রীয় মদদে মুসলমানদের নিধন কর্মসূচি অব্যাহত থাকত । যেমনটি এখন ভারতে চলছে। মুসলমানদের নাগরিক স্বাধীনতা সেখানে থাকত না। হিন্দুত্ববাদী শক্তি ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বকে সহ্য করতে পারত না। তারা মুসলমানদেরকে ভারত ছেড়ে আরবের খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলত । আমার নিকট কয়েক জন প্রবীণ মুসলিম স্থানীয় নেতা বর্ননা করেছেন যে, হিন্দুত্ববাদী শক্তি মুসলমানদেরকে আরবের খেজুর তলায় পাঠাবে মর্মে হুমকি দিত ।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির অত্যাচার এবং মুসলমানদের প্রতি তাদের ঘূন্য মনোভাব দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অখন্ড ভারতে মুসলমানরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হত, ফলে মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। অখন্ড ভারতে সব সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগেই থাকত, হিন্দুরা স‌‌্খ্যাগরিষ্ট হবার কারণে মুসলমানরা সব সময় মার খেত। অখন্ড ভারতে হিন্দুরা স‌‌্খ্যা গরিষ্ঠ হবার কারণে মুসলমানদের অস্তিত্ব সব সময় তাদের দয়ার উপর নির্ভর করত। স‌‌্খ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে কোন আইন পাশ করে মুসলমানদেরকে বিপদে ফেলে দিত । যেমনটি ১৯৪৭ সালের পর থেকে পরিলক্ষিত হয়। অথাৎ মুসলমানদের অস্তিত্ব, মুসলমানদের স্বার্থ অখন্ড ভারতে নিরাপদ ছিল না। মুসলমানরা অখন্ড ভারতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে হত , যেমনটি এখন ভারতে দেখা যায়।

হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের অসহায়ত্বের মুখে মুসলমানরা একটি মুসলিম রিয়াসাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে । লাহোর প্রস্তাব এর একটি জলন্ত উদাহরণ। পাকিস্তান না হলে মুসলমানরা স‌‌্খ্যালঘু হিসেবে সব সময় হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হত ।

ভারতের মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হবার আশঙ্কা শুধু মুসলমানদের ছিল না। হিন্দুত্ববাদী শক্তি দ্বারা নির্যাতিত দলিতদের নেতা ও ভারতীয় স‌‌্ বিধানের প্রবক্তা আম্বেদকর নিজে এই আশ‌‌্কা ব্যাক্ত করে পাকিস্তানের অপরিহার্যতা সম্পর্কে বলিষ্ঠ কন্ঠে বক্তব্য রাখতেন।

মুসলমানদের মৌলিক অধিকার বলতে কিছুই থাকত না। এমতাবস্থায় ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য একটি আলাদা মুসলিম রিয়াসাত প্রতিষ্ঠা আবশ্যক ছিল। পাকিস্তান সেই আবশ্যকতাকে অনেকটা পূরন করেছে। কাজেই মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য , মুসলমানদের স্বার্থের জন্য এক বা একাধিক মুসলিম রিয়াসাতের প্রয়োজনীয়তা ছিল যা পাকিস্তানের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে । বর্তমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পাকিস্তান আন্দোলনের ফসল।