মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব শূন্যতা পূরণের জন্য পাকিস্তানের অপরিহার্যতা
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত আবুবকর রা. হতে খিলাফতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব আবর্তিত হয়েছে। খিলাফত তথা মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব ছিল মুসলমানদের অভিভাবক। মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্বের ভূমিকার উপর মুসলমানদের অস্তিত্ব নির্ভর করে। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আপনি দেখতে পাবেন যে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব দারুল খিলাফত যখন শক্তিশালী ছিল, তখন মুসলমানরা অমুসলিম আগ্রাসনের শিকার হয় নি। কেন্দ্রীয় নেতূত্বের দূর্বলতার ফলে মুসলমানদের বহু খেসারত দিতে হয়েছে। তাই মুসলমানদের ঐক্য, মুসলমানদের অস্তিত্ব ও মুসলমানদের স্বার্থের জন্য কেন্দ্রীয় নেতূত্ব তথা দারুল খিলাফত এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পাঠক, মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব ডি জুর ও ডি ফেক্টো ভাবে হল খিলাফত ব্যবস্থা তথা দারুল খিলাফত । আইনত ও কার্যত উভয় দিক থেকে খলিফাই হলেন মুসলমানদের নেতা এবং খিলাফত হল মুসলমানদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯২৪ সালে উসমানীয় খিলাফতের পতনের পর মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব ডি জুর ও ডি ফেক্টো অথাৎ আইনত ও কার্যত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।
পাঠক, ১৯২৪ সালে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্বের পতনের পর মুসলমানগণ কেন্দ্রীয় নেতূত্বের মারাত্মক অভাব বোধ করতেছিল । মুসলমানদের অস্তিত্ব, স্বার্থ ও অধিকারের পক্ষে বলার কোন রাষ্ট্র পূথিবীতে ছিল না। খিলাফত পতনের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সগর্বে এক খ্রিস্টান স্সদ সদস্য বলেছেন “‘ খিলাফত ব্যবস্থার বিলুপ্তির মাধ্যমে আমরা মুসলমানদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছি , তারা আর দাঁড়াতে পারবে না ” । এতেই অনুমেয় যে, খিলাফত ব্যবস্থা মুসলমানদের জন্য কতটা আবশ্যক।
বস্তুত উসমানীয় খেলাফতের পতনের পর মুসলমানদের মধ্যে নেমে আসে ভয়াবহ হতাশা। খলিফা শূন্য পূথিবীতে মুসলমানরা ছিল দিকভ্রান্ত। এমন হতাশা ইতিপূর্বে ইসলামের ইতিহাসে আসেনি।খিলাফত শূন্য পূথিবীতে যে দুই জন মহামানব সবচেয়ে বেশি বিচলিত ছিলেন তিনি হলেন আল্লামা ইকবাল ও মাওলানা মুহাম্মদ আলী গাওহার।
১৯২৪ সালে খিলাফত পতনের পর মুসলমানরা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হইল। আমাবশ্যা রজনীতে মহাসাগরে দিশেহারা জাহাজের ন্যায় গন্তব্যহীন, নেতূত্বহীন , রাজ্য হীন মুসলমানরা বলতে পারত না যে , পূথিবীতে মুসলমানদের একটি দেশ রয়েছে, মুসলমানদের আশ্রয়ের স্হান রয়েছে। অতঃপর ১৯২৮ সালে আল্লামা ইকবাল আওয়াজ তুললেন যে, মুসলমানদের একটি দেশ আবশ্যক। হতাশাগ্রস্থ মুসলমানদের মনে আশা সঞ্চার হল যে, মুসলমানদেরকে নেতূত্ব দেয়ার জন্য আরেকটি রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে।
অবশেষে মহাকবি ইকবাল এর স্বপ্ন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর সুযোগ্য নেতূত্বে ১৯৪৭ সালে মুসলমানদের রিয়াসাত হিসেবে পাকিস্তান বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয়। পাকিস্তান জন্মের পর যে কয়েক বছর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রেখেছে , ততদিন মুসলমানদের ডিফেক্টো কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিগণিত ছিল। পাকিস্তান যেই নিজের স্বাতন্ত্র্যবোধ বিসর্জন দিয়ে আমেরিকার ব্লকে চলে যায়, তখন পাকিস্তান মুসলমানদের ডি ফেক্টোর নেতার মর্যাদা হারিয়ে একটি সাধারণ রাষ্ট্র হিসাবে পথ চলা শুরু করে।
পাকিস্তান মুসলমানদের ডি জুর কেন্দ্রীয় নেতূত্ব না হলেও ডি ফ্যাক্টো মুসলমানদের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব গন্য করা যেতে পারে। কারণ ডি জুর কেন্দ্রীয় নেতূত্বের জন্য খিলাফত প্রতিষ্ঠা আবশ্যক। পূথিবীর মুসলমানদের ডি ফেক্টো কেন্দ্রীয় নেতূত্বের জন্য পাকিস্তান তৈরি করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক ছিল এবং তখনকার মুসলিমরা এই বিষয়টি অনুধাবন করেই পাকিস্তান সূষ্টি করেছিল।
মুসলমানদের ডি ফেক্টো নেতূত্বের জন্য পাকিস্তান তৈরীতে সব মুসলিম অ্শগ্রহন করে, যদিও তারা জানত যে তাদের ভূখণ্ড পাকিস্তানের অংশ হবে না।
তাই মুসলমানদের কার্যত নেতূত্বের জন্য পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের গঠন অপরিহার্য ছিল।





















