ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যাঁরা আদালত ন্যায়বিচারের নিরাপদস্থল হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে ইরানকে ফের অনুরোধ আলোচনায় থেকেও বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না যারা বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করায় সরকারকে সাধুবাদ মালিক সমিতির জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৫ মে

সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভয়াবহ ভাঙন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি বসতঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে সবুজ বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় একটি জামে মসজিদসহ আরো শতাধিক বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা।

গত কয়েক দিনে বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন বেড়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

ভুক্তভোগী মজিদ বেপারি জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোনোরকম দিন কাটছিল। কিন্তু সন্ধ্যা নদী এক নিমিষেই সবকিছু শেষ করে দিল আমাদের। ভিটা-মাটিটুকু কেড়ে নিয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দিল। এখন সন্তানদের নিয়ে আমরা কোথায় যাব।

ভুক্তভোগী আজিজ বেপারি জানান, রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে গাছপালা ও ঘরবাড়ি দেবে যাচ্ছিল। সরানোর কোনো সুযোগ আমরা পাইনি। ওই এলাকার নাজমুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ দেখে মনে হলো এখানে ২০০ হাত পানি হয়ে গেছে। তারপর অনেক জায়গা নিয়ে বসে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কোনো জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ দেয়নি। সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হওয়া ভুক্তভোগী চার পরিবারের মজিদ বেপারি, আজিদ বেপারি, সালেক বেপারি ও বারেক বেপারি সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ওই এলাকার দুটি বিদ্যালয়সহ অনেক বসতবাড়ি। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন । ওই এলাকার চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করা হবে ও পানি উন্নয়ন বোডের্র সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁর ভয়াবহ ভাঙন

আপডেট সময় : ০১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
প্রসঙ্গ নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি বসতঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে সবুজ বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় একটি জামে মসজিদসহ আরো শতাধিক বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা।

গত কয়েক দিনে বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন বেড়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

ভুক্তভোগী মজিদ বেপারি জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোনোরকম দিন কাটছিল। কিন্তু সন্ধ্যা নদী এক নিমিষেই সবকিছু শেষ করে দিল আমাদের। ভিটা-মাটিটুকু কেড়ে নিয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দিল। এখন সন্তানদের নিয়ে আমরা কোথায় যাব।

ভুক্তভোগী আজিজ বেপারি জানান, রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে গাছপালা ও ঘরবাড়ি দেবে যাচ্ছিল। সরানোর কোনো সুযোগ আমরা পাইনি। ওই এলাকার নাজমুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ দেখে মনে হলো এখানে ২০০ হাত পানি হয়ে গেছে। তারপর অনেক জায়গা নিয়ে বসে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কোনো জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ দেয়নি। সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হওয়া ভুক্তভোগী চার পরিবারের মজিদ বেপারি, আজিদ বেপারি, সালেক বেপারি ও বারেক বেপারি সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ওই এলাকার দুটি বিদ্যালয়সহ অনেক বসতবাড়ি। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন । ওই এলাকার চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করা হবে ও পানি উন্নয়ন বোডের্র সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।