ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

“আম জনতার দল” থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আম জনতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

মো: রহমত উল্লাহ: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে শৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন, নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা গনঅধিকার পরিষদের এক অংশ নাম পরিবর্তন করে ”আম জনতার দল” নামে আত্ম প্রকাশ করে। এর পর থেকে নানা সময় এই দলটি আলোচনা সমালোচনার সম্মুখিন হয়ে আসছে। দলের অনেক শীর্ষ নেতাই দল ত্যাগ করে ভিপি নূরের নেতৃত্বাধিন গণঅধিকার পরিষদে যোগদান করেছেন। আবার অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন।

শুধু তাই নয় প্রবাসী অনলাই এ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচারজের ডাকে এই দলটির অন্যতম সংগঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দেশে ভারতীয় পন্য বয়কটের সূচনা হয়। এই প্রচারণা দিন দিন বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে মানুষ ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনে যুক্ত হন। দেশের অজপাড়া গায়েও এই বয়কট আন্দোলনের দাওয়াত পৌছাতে থাকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি জাদুর মতো কাজ করে।

বাংলাদেশের আবেগপ্রবন এই তরুণ মেধাবীরা ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনে যুক্ত হয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। সেই সাথে নিজের অজান্তেই এক অন্ধকার ফাঁদে পাঁ দিয়ে ফেলে। সেটি হলো বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিযুক্ত ভারতীয় র-এর এজেন্টদের ফাঁদ। এই আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিরা র-এর টার্গেটের শিকার হতে থাকেন। বিভিন্ন সময় তাদেরকে তুলে নিয়ে নানা ভাবে নির্যাতন করা হয়। এই প্রচারণায় অংশ নেয়ায় শিক্ষানবীশ আইনজীবী ও সাংবাদিককেও ধরে নিয়ে নির্যাতন করে ভারতীয় র-এর দালাল পুলিশের একটি অংশ।

৫ আগষ্টের পর দেশের চেহারা পাল্টানোর পাশাপাশি ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনের গতি পথ পরিবর্তন হতে থাকে। এই আন্দোলনে যুক্ত সদস্যদের নিয়ে শুরু হয় কমিটি গঠনের নাটক। অতীতে এই সংগঠনটি একটি ভলান্টিয়ারী আন্দোলন হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমানে তা রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেয়া  হয় কমিটি। সেই সাথে পদ পদবীর ভাগাভাগী নিয়ে কঠিন সমিকরণ তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলায় যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে অচেনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই রেশ ধরে দলের মধ্যে সক্রিয় সদস্যর প্রায় ৮০ শতাংশই বঞ্চিত অথবা নিষ্ক্রিয়।

তাই প্রতিদিনই নতুন নতুন সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে দলটি:  এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন (মঙ্গলবার) আমজনতার দল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি তার পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন:

পদত্যাগপত্র

তারিখ: ১৭/০৬/২০২৫ ইংরেজী।

বরাবর,

সভাপতি

আমজনতার দল

৩৭/২,লিফটের-৫, প্রীতম জামান টাওয়ার, কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

বিষয়: আম জনতার দল হতে পদত্যাগ প্রসংগে।

আমি, ফয়সাল আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল—এই মর্মে জানাচ্ছি যে, ব্যক্তিগত কারণবশত আমি আমজনতার দলের সাধারণ সদস্য পদ সহ কেন্দ্রীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। এই দলের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।

বি.দ্র.: আমজনতার দলের যেকোনো তদন্ত বা প্রক্রিয়ায় যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি যথাসাধ্য আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করব।

ধন্যবাদান্তে,

সাদর,

ফয়সাল আহম্মেদ

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল

সাবেক গণঅধিকার পরিষদের একাংশ “আমজনতার দল “ এর কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের পদত্যাগের মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে যে, ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলন ছিলো সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছানোর দাবার চাল। এতে জনসাধারণের কিছুটা ক্ষতি হলেও সংগঠকদের লাভ ঘরে এসেছে শতভাগ। এর অন্যতম উদাহরণ হলো দেশের বিভিন্ন জেলায় এই সংগঠনের পদ বাণিজ্য। এই দলের উপর মহলের একটি বিষয় স্পষ্ট করে জেনে রাখা উচিৎ একদিন যে মানুষের ডাকে বাঙ্গালীরা স্বাধীতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল, এখন সেই মানুষকেই কৃতকর্মের জন্য ঘৃনাভরে স্মরণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

“আম জনতার দল” থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আম জনতা

আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

মো: রহমত উল্লাহ: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে শৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন, নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা গনঅধিকার পরিষদের এক অংশ নাম পরিবর্তন করে ”আম জনতার দল” নামে আত্ম প্রকাশ করে। এর পর থেকে নানা সময় এই দলটি আলোচনা সমালোচনার সম্মুখিন হয়ে আসছে। দলের অনেক শীর্ষ নেতাই দল ত্যাগ করে ভিপি নূরের নেতৃত্বাধিন গণঅধিকার পরিষদে যোগদান করেছেন। আবার অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন।

শুধু তাই নয় প্রবাসী অনলাই এ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচারজের ডাকে এই দলটির অন্যতম সংগঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দেশে ভারতীয় পন্য বয়কটের সূচনা হয়। এই প্রচারণা দিন দিন বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে মানুষ ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনে যুক্ত হন। দেশের অজপাড়া গায়েও এই বয়কট আন্দোলনের দাওয়াত পৌছাতে থাকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি জাদুর মতো কাজ করে।

বাংলাদেশের আবেগপ্রবন এই তরুণ মেধাবীরা ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনে যুক্ত হয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। সেই সাথে নিজের অজান্তেই এক অন্ধকার ফাঁদে পাঁ দিয়ে ফেলে। সেটি হলো বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিযুক্ত ভারতীয় র-এর এজেন্টদের ফাঁদ। এই আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিরা র-এর টার্গেটের শিকার হতে থাকেন। বিভিন্ন সময় তাদেরকে তুলে নিয়ে নানা ভাবে নির্যাতন করা হয়। এই প্রচারণায় অংশ নেয়ায় শিক্ষানবীশ আইনজীবী ও সাংবাদিককেও ধরে নিয়ে নির্যাতন করে ভারতীয় র-এর দালাল পুলিশের একটি অংশ।

৫ আগষ্টের পর দেশের চেহারা পাল্টানোর পাশাপাশি ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনের গতি পথ পরিবর্তন হতে থাকে। এই আন্দোলনে যুক্ত সদস্যদের নিয়ে শুরু হয় কমিটি গঠনের নাটক। অতীতে এই সংগঠনটি একটি ভলান্টিয়ারী আন্দোলন হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমানে তা রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেয়া  হয় কমিটি। সেই সাথে পদ পদবীর ভাগাভাগী নিয়ে কঠিন সমিকরণ তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলায় যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে অচেনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই রেশ ধরে দলের মধ্যে সক্রিয় সদস্যর প্রায় ৮০ শতাংশই বঞ্চিত অথবা নিষ্ক্রিয়।

তাই প্রতিদিনই নতুন নতুন সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে দলটি:  এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন (মঙ্গলবার) আমজনতার দল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি তার পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন:

পদত্যাগপত্র

তারিখ: ১৭/০৬/২০২৫ ইংরেজী।

বরাবর,

সভাপতি

আমজনতার দল

৩৭/২,লিফটের-৫, প্রীতম জামান টাওয়ার, কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

বিষয়: আম জনতার দল হতে পদত্যাগ প্রসংগে।

আমি, ফয়সাল আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল—এই মর্মে জানাচ্ছি যে, ব্যক্তিগত কারণবশত আমি আমজনতার দলের সাধারণ সদস্য পদ সহ কেন্দ্রীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। এই দলের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।

বি.দ্র.: আমজনতার দলের যেকোনো তদন্ত বা প্রক্রিয়ায় যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি যথাসাধ্য আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করব।

ধন্যবাদান্তে,

সাদর,

ফয়সাল আহম্মেদ

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল

সাবেক গণঅধিকার পরিষদের একাংশ “আমজনতার দল “ এর কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের পদত্যাগের মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে যে, ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলন ছিলো সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছানোর দাবার চাল। এতে জনসাধারণের কিছুটা ক্ষতি হলেও সংগঠকদের লাভ ঘরে এসেছে শতভাগ। এর অন্যতম উদাহরণ হলো দেশের বিভিন্ন জেলায় এই সংগঠনের পদ বাণিজ্য। এই দলের উপর মহলের একটি বিষয় স্পষ্ট করে জেনে রাখা উচিৎ একদিন যে মানুষের ডাকে বাঙ্গালীরা স্বাধীতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল, এখন সেই মানুষকেই কৃতকর্মের জন্য ঘৃনাভরে স্মরণ করে।