ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল হিসেবে আছাবিয়্যাত, ইসলামী সভ্যতা ও মুসলিম জাতিসত্তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ৫১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, আমি ইতিপূর্বে আছাবিয়্যাত সম্পর্কে আলোচনা করেছি যে , আছাবিয়্যাত হল একই রক্তধারা হতে উৎসারিত এমন একটি চেতনা যার ফলে নিজেদের আত্মরক্ষা সহ রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে থাকে। এটি হল আছাবিয়্যাত এর প্রাচীন রূপ । এই আছাবিয়্যাত এর ভিত্তিতে মানব ইতিহাসের অধিকাংশ রাজ্য গঠিত হয়েছে।

এই রক্তধারার সাথে বর্তমান যুগে ভাষা ও কোন কোন ক্ষেত্রে এলাকা ভিত্তিক আছাবিয়্যাত যুক্ত হয়েছে । অথাৎ বর্তমান যুগে ভাষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠিত হয়ে থাকে। আবার কদাচিৎ ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে কোন কোন রাষ্ট্র গঠিত হয়। আবার এসব রাষ্ট্রের মধ্যে প্রাচীন আছাবিয়্যাত লক্ষ্য করা যায়। আফ্রিকায় প্রাচীন আছাবিয়্যাত এর প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। সেখানে এখনো জাতিগত দাঙ্গায় হাজার হাজার নিরীহ লোক মারা যায়।

মানব সভ্যতার ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে, আছাবিয়্যাত হল রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান। আপনি এক কথায় বর্তমান কালে জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারেন। আগে রাষ্ট্র গঠনের জন্য যে আছাবিয়্যাত ছিল, সেটি ছিল ব্যাক্তি কেন্দ্রীক বা পরিবার কেন্দ্রিক। বর্তমানে রাজতান্ত্রিক দেশে এই পরিবার কেন্দ্রিক আছাবিয়্যাত দেখতে পাবেন, যেমন সৌদি আরবে আলে সৌদ আছাবিয়্যাত হল সৌদি আরব গঠনের মূল উপাদান।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে যতটুকু জানা যায়, মদীনা নামক রাষ্ট্রটি প্রথম রাষ্ট্র যা আছাবিয়্যাত এর ভিত্তিতে হয় নি । মদীনা রাষ্ট্রের লিগ্যাসি বহন কারী খিলাফত রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল ইসলাম। কারণ ইসলাম জাহেলী যুগের আছাবিয়্যাতকে সমর্থন করে না। ইসলাম রক্তধারা, ভাষা ও এলাকাভিত্তিক আছাবিয়্যাতকে সমর্থন করে না।

ইসলাম আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্রকে উৎসাহিত করে। মুসলিম জাতিসত্তা যেহেতু ইসলাম হতে উদ্ভুত একটি আদর্শিক চেতনা, তাই মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে কোন রাষ্ট্র গঠিত হলে ঐ রাষ্ট্রকে আছাবিয়্যাত রাষ্ট্র বলার কোন সুযোগ নেই। তবে আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র যদি আছাবিয়্যাত এর কারনে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে তা গোলামীর দিকে ধাবিত হয়।

আবার ইসলামী সভ্যতার ধারক বাহকগন যদি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাষ্ট্র গঠনের দিকে অগ্রসর হয় , তাহলে তা শরীয়ত সম্মত। যেমন বসনিয়া , তুর্কি সাইপ্রাস।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল হিসেবে আছাবিয়্যাত, ইসলামী সভ্যতা ও মুসলিম জাতিসত্তা

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, আমি ইতিপূর্বে আছাবিয়্যাত সম্পর্কে আলোচনা করেছি যে , আছাবিয়্যাত হল একই রক্তধারা হতে উৎসারিত এমন একটি চেতনা যার ফলে নিজেদের আত্মরক্ষা সহ রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে থাকে। এটি হল আছাবিয়্যাত এর প্রাচীন রূপ । এই আছাবিয়্যাত এর ভিত্তিতে মানব ইতিহাসের অধিকাংশ রাজ্য গঠিত হয়েছে।

এই রক্তধারার সাথে বর্তমান যুগে ভাষা ও কোন কোন ক্ষেত্রে এলাকা ভিত্তিক আছাবিয়্যাত যুক্ত হয়েছে । অথাৎ বর্তমান যুগে ভাষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠিত হয়ে থাকে। আবার কদাচিৎ ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে কোন কোন রাষ্ট্র গঠিত হয়। আবার এসব রাষ্ট্রের মধ্যে প্রাচীন আছাবিয়্যাত লক্ষ্য করা যায়। আফ্রিকায় প্রাচীন আছাবিয়্যাত এর প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। সেখানে এখনো জাতিগত দাঙ্গায় হাজার হাজার নিরীহ লোক মারা যায়।

মানব সভ্যতার ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে, আছাবিয়্যাত হল রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান। আপনি এক কথায় বর্তমান কালে জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারেন। আগে রাষ্ট্র গঠনের জন্য যে আছাবিয়্যাত ছিল, সেটি ছিল ব্যাক্তি কেন্দ্রীক বা পরিবার কেন্দ্রিক। বর্তমানে রাজতান্ত্রিক দেশে এই পরিবার কেন্দ্রিক আছাবিয়্যাত দেখতে পাবেন, যেমন সৌদি আরবে আলে সৌদ আছাবিয়্যাত হল সৌদি আরব গঠনের মূল উপাদান।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে যতটুকু জানা যায়, মদীনা নামক রাষ্ট্রটি প্রথম রাষ্ট্র যা আছাবিয়্যাত এর ভিত্তিতে হয় নি । মদীনা রাষ্ট্রের লিগ্যাসি বহন কারী খিলাফত রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল ইসলাম। কারণ ইসলাম জাহেলী যুগের আছাবিয়্যাতকে সমর্থন করে না। ইসলাম রক্তধারা, ভাষা ও এলাকাভিত্তিক আছাবিয়্যাতকে সমর্থন করে না।

ইসলাম আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্রকে উৎসাহিত করে। মুসলিম জাতিসত্তা যেহেতু ইসলাম হতে উদ্ভুত একটি আদর্শিক চেতনা, তাই মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে কোন রাষ্ট্র গঠিত হলে ঐ রাষ্ট্রকে আছাবিয়্যাত রাষ্ট্র বলার কোন সুযোগ নেই। তবে আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র যদি আছাবিয়্যাত এর কারনে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে তা গোলামীর দিকে ধাবিত হয়।

আবার ইসলামী সভ্যতার ধারক বাহকগন যদি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাষ্ট্র গঠনের দিকে অগ্রসর হয় , তাহলে তা শরীয়ত সম্মত। যেমন বসনিয়া , তুর্কি সাইপ্রাস।