ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে রিফাত আব্দুল্লাহ খানের নিয়তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়া: সময়ের সংকীর্ণতায় তাড়াহুড়া করে এই পোস্টটি লিখতে গিয়েও দুইবার কেঁদেছি কারণ আমি রিফাতকে খুব কাছে থেকেই দেখেছি।

ইসলামী আন্দোলন করাই যখন বাবার অপরাধ আর এই অপরাধে সন্তানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার একপর্যায়ে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে যায়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে ধরতে না পেরে তার ছেলে রিফাত আব্দুল্লাহ খানকে ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন করে ডিবির এডিসি শাহজাহান।

এই নির্যাতনে তার চোখের রেটিনা ছিড়ে যায়। বাম চোখের অপারেশন হলেও ডান চোখের অপারেশন করা যাচ্ছিল না।

এখন আবার দেখতে না পারার কারণে আজ নতুন করে তার চোখে সমস্যা হয়েছে তাই মালয়েশিয়ার হাসপাতাল পাকার পুসরাভি কুয়ালালামপুরে ডান চোখের অপারেশন করা হয়।

রিফাত জেল থেকে বের হয়ে দেশের মাটিতে পড়াশোনা করার নিরাপদ কোন জায়গা না পেয়ে মালয়েশিয়াতে ফাউন্ডেশন শেষ করে IIUM এ economics ফ্যাকাল্টি থেকে Undergrade শেষ করে মাস্টার্স করছে।
পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনাটি তার জন্য কষ্টকরও বটে। আমি ভাবছি রিফাত যখন তার বাবার দিকে তাকায় আর তার বাবা যখন তার চোখের দিকে তাকায় আর ভাবে?

সেই সেদিনের ছোট্ট রিফাত আজ সে যুবক, বিদেশ বিভুঁইয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কি বাবা-মার কথাই ভাবছে। আর কোন রিফাতকে যেন এরকম জীবন বরণ করতে না হয়, ভালো থাক পৃথিবীর সব মানুষ।

আমরা যখন রিফাতের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম তখন সে এসি রুমের বাহিরের অনুভূতিকে খুঁজতে গিয়ে তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে একত্রিত করে নির্মল বাতাসে খুঁজে ফিরছিল কিছু একটা । প্রচন্ড মানসিক শক্তির অধিকারী রিফাত যেন আস্থা রাখল তার দায়িত্বশীলদের উপরেই।

চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আনম মাসরুর হোসাইন ভাইয়ের একটা কমেন্ট এখানে যুক্ত করে দিলাম। প্রিয় রিফাত, IIUM এ ভর্তির দিন থেকে ছোট ভাই হিসেবে কষ্টের সব কথা বলতো।

সেমিস্টার শেষে কত ছাত্র ভাইকে এয়ারপোর্টে ড্রপ করতো, কিন্তু কখনো নিজের যাওয়া হতো না। বুকভরা কষ্ট বুকে লুকিয়ে হাসিমুখে সবাইকে হেল্প করা যার নিত্য স্বভাব। মহান আল্লাহ কষ্টের দিনগুলি কবুল করুন। তাকে অনেক সম্মানিত করুন। পিতা-মাতার চক্ষু শীতলকারী হিসেবে কবুল করুন।

আর এখানকার আরো একটু কথা যোগ করি, বছরের পর বছর দেশে যেতে না পারা রিফাত আনন্দ খুঁজে নিতো, কেউ মালয়েশিয়া আসলে তাদেরকে মালয়েশিয়া ঘুরে দেখানোতে। অন‍্যদিকে ঈদের সময় দেশের বাহিরে ঈদগুলো কেমন হয় সবারই তো জানা আছে।

মনে পড়ে গেলো, গোলাপ ভাই, মাসরুর ভাইসহ আমরা যারা আছি সকলেই তাকে ভালোবাসায় আগলে রাখতাম। তবুও ছোট্ট রিফাতের বাবা-মার ভালোবাসা পূরণ হবার না। হাসিমুখে সব বাস্তবতা মেনে নিতো রিফাত।

শ্রদ্ধেয় ডাক্তার আবু আব্দুল্লাহ, সাইফুল্লাহ মানসুর, ড. ইউসুফ তারা অবশ্য ঈদ বা অনুষ্ঠানের একটা ফ্লেভার দেন সবসময়ই। তারা কেউ আজ হয় খোঁজ নিচ্ছে, না হয় ছুটে আসছেন রিফাতের কাছে। ভালোবাসা অবিরাম।

Note: এসব ঘটনাগুলিই ৩৬ জুলাই এর জন্ম দিয়েছে।

– সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে রিফাত আব্দুল্লাহ খানের নিয়তি

আপডেট সময় : ০২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়া: সময়ের সংকীর্ণতায় তাড়াহুড়া করে এই পোস্টটি লিখতে গিয়েও দুইবার কেঁদেছি কারণ আমি রিফাতকে খুব কাছে থেকেই দেখেছি।

ইসলামী আন্দোলন করাই যখন বাবার অপরাধ আর এই অপরাধে সন্তানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার একপর্যায়ে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে যায়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে ধরতে না পেরে তার ছেলে রিফাত আব্দুল্লাহ খানকে ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন করে ডিবির এডিসি শাহজাহান।

এই নির্যাতনে তার চোখের রেটিনা ছিড়ে যায়। বাম চোখের অপারেশন হলেও ডান চোখের অপারেশন করা যাচ্ছিল না।

এখন আবার দেখতে না পারার কারণে আজ নতুন করে তার চোখে সমস্যা হয়েছে তাই মালয়েশিয়ার হাসপাতাল পাকার পুসরাভি কুয়ালালামপুরে ডান চোখের অপারেশন করা হয়।

রিফাত জেল থেকে বের হয়ে দেশের মাটিতে পড়াশোনা করার নিরাপদ কোন জায়গা না পেয়ে মালয়েশিয়াতে ফাউন্ডেশন শেষ করে IIUM এ economics ফ্যাকাল্টি থেকে Undergrade শেষ করে মাস্টার্স করছে।
পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনাটি তার জন্য কষ্টকরও বটে। আমি ভাবছি রিফাত যখন তার বাবার দিকে তাকায় আর তার বাবা যখন তার চোখের দিকে তাকায় আর ভাবে?

সেই সেদিনের ছোট্ট রিফাত আজ সে যুবক, বিদেশ বিভুঁইয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কি বাবা-মার কথাই ভাবছে। আর কোন রিফাতকে যেন এরকম জীবন বরণ করতে না হয়, ভালো থাক পৃথিবীর সব মানুষ।

আমরা যখন রিফাতের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম তখন সে এসি রুমের বাহিরের অনুভূতিকে খুঁজতে গিয়ে তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে একত্রিত করে নির্মল বাতাসে খুঁজে ফিরছিল কিছু একটা । প্রচন্ড মানসিক শক্তির অধিকারী রিফাত যেন আস্থা রাখল তার দায়িত্বশীলদের উপরেই।

চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আনম মাসরুর হোসাইন ভাইয়ের একটা কমেন্ট এখানে যুক্ত করে দিলাম। প্রিয় রিফাত, IIUM এ ভর্তির দিন থেকে ছোট ভাই হিসেবে কষ্টের সব কথা বলতো।

সেমিস্টার শেষে কত ছাত্র ভাইকে এয়ারপোর্টে ড্রপ করতো, কিন্তু কখনো নিজের যাওয়া হতো না। বুকভরা কষ্ট বুকে লুকিয়ে হাসিমুখে সবাইকে হেল্প করা যার নিত্য স্বভাব। মহান আল্লাহ কষ্টের দিনগুলি কবুল করুন। তাকে অনেক সম্মানিত করুন। পিতা-মাতার চক্ষু শীতলকারী হিসেবে কবুল করুন।

আর এখানকার আরো একটু কথা যোগ করি, বছরের পর বছর দেশে যেতে না পারা রিফাত আনন্দ খুঁজে নিতো, কেউ মালয়েশিয়া আসলে তাদেরকে মালয়েশিয়া ঘুরে দেখানোতে। অন‍্যদিকে ঈদের সময় দেশের বাহিরে ঈদগুলো কেমন হয় সবারই তো জানা আছে।

মনে পড়ে গেলো, গোলাপ ভাই, মাসরুর ভাইসহ আমরা যারা আছি সকলেই তাকে ভালোবাসায় আগলে রাখতাম। তবুও ছোট্ট রিফাতের বাবা-মার ভালোবাসা পূরণ হবার না। হাসিমুখে সব বাস্তবতা মেনে নিতো রিফাত।

শ্রদ্ধেয় ডাক্তার আবু আব্দুল্লাহ, সাইফুল্লাহ মানসুর, ড. ইউসুফ তারা অবশ্য ঈদ বা অনুষ্ঠানের একটা ফ্লেভার দেন সবসময়ই। তারা কেউ আজ হয় খোঁজ নিচ্ছে, না হয় ছুটে আসছেন রিফাতের কাছে। ভালোবাসা অবিরাম।

Note: এসব ঘটনাগুলিই ৩৬ জুলাই এর জন্ম দিয়েছে।

– সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়