ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি ০৭

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: খোলাফায়ে রাশেদীন এর পর উমাইয়া খেলাফত ৭৫০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ৭৫০ সালে উমাইয়াদের পতনের পর আব্বাসীরা খেলাফত এর দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাগদাদের আব্বাসী খিলাফতকে শাসনকালের দিক থেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় , মহান আব্বাসী খলিফা যা মুতাসিম বিল্লাহ এর শাসনকাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অতঃপর দূর্বল আব্বাসীদের শাসনকাল শুরু হয় যা ১২৫৮ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

১২৫৮ সাল পর্যন্ত বাগদাদের আব্বাসীদের পতনের পর, ১৫১৭ সাল পর্যন্ত কায়রোর আব্বাসী খিলাফত কাল বিস্তূত ছিল, ১৫১৭ সাল হতে ১৯২৪সাল পর্যন্ত উসমানীয় খিলাফত। এ গুলো হল মূল ধারার খিলাফত। স্পেনের উমাইয়া খেলাফতকে মূল ধারার খেলাফতের পরিপূরক হিসেবে গন্য করা হয়।

বিচ্ছিন্ন ধারার খেলাফত এর মধ্যে মিসরের ফাতেমী খিলাফত, মুরাবিদ খিলাফত, তিহারতের খারেজী আমিরাত তথা খারেজী খিলাফত আরো বিভিন্ন সময় কতক খিলাফত গড়ে উঠেছিল।

খোলাফায়ে রাশেদীন হতে ৭৫০ সাল পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম ভূমি একই খলিফার অধীনে পরিচালিত হত । ৭৫৪ সালে স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের পত্তন হবার পর থেকে ৯২৭ সাল পর্যন্ত উমাইয়া আমীর গন নিজেদেরকে খলিফা দাবি করেন নি ।

ইতিমধ্যে আফ্রিকায় শিয়ারা ক্ষমতা দখল করলে এবং বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত দূর্বল হবার কারণে ৯২৭ সালে স্পেনের উমাইয়ারা খিলাফত ঘোষণা করেন। এই খিলাফত ১০৩০ সাল পর্যন্ত স্হায়ী ছিল। উল্লেখ্য যে, তখন মালেকী মাযহাবের ফকিহগনের ফতোয়া নিয়ে তারা রাজ্য শাসন করতেন এবং ঐ রাষ্ট্রের একটি শরয়ী স্বীকৃতি ছিল। বাগদাদের খলিফাগন তাদেরকে কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

এবার আসা যাক, আব্বাসী খিলাফত আমলে রাজ্যের শরয়ী বৈধতা। বস্তুত বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত আমলে মিসরের তুলুনী আমীরাতের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত আমিরাত শুরু হয়। অতঃপর সামানী, গজনী , সেলজুক, মিসরের মামলুক , ভারতের মামলুক সহ অন্যান্য মুসলিম রাজ্যের শরয়ী বৈধতা খলিফার স্বীকৃতির উপর নির্ভর করত।

বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত এর পতনের পর কায়রোর আব্বাসী খলিফাগন ও ১৪০২ সাল পর্যন্ত এই গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ১৪০২ সালে উসমানীয় ও তুর্কী বারলাস গোত্রের তৈমুর ল‌‌্য়ের মধ্যকার আ‌‌্কুরার যুদ্ধের পর কায়রোর আব্বাসীদের অনুমোদন এর জুরিসডিকশন সীমিত হয়ে যায়।

তৈমূরীয় সামাজ্য কায়রোর দূর্বল আব্বাসীদের নিকট হতে স্বীকৃতি না নিলেও খলিফাদের অস্বীকার বা অবহেলা করেন নি । আবার ভারতের মোগলরা উসমানীয় খিলাফতের স্বীকৃতি না নিলেও তাদের অবহেলা করেন নি বরং আ‌‌্কুরার যুদ্ধ ব্যতিত উসমানীয় ও তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি । ১৫১৭ সাল হতে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত উসমানীয়রা খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৪ সালে খিলাফতের পতনের পর মুসলমানরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি ০৭

আপডেট সময় : ০২:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: খোলাফায়ে রাশেদীন এর পর উমাইয়া খেলাফত ৭৫০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ৭৫০ সালে উমাইয়াদের পতনের পর আব্বাসীরা খেলাফত এর দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাগদাদের আব্বাসী খিলাফতকে শাসনকালের দিক থেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় , মহান আব্বাসী খলিফা যা মুতাসিম বিল্লাহ এর শাসনকাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অতঃপর দূর্বল আব্বাসীদের শাসনকাল শুরু হয় যা ১২৫৮ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

১২৫৮ সাল পর্যন্ত বাগদাদের আব্বাসীদের পতনের পর, ১৫১৭ সাল পর্যন্ত কায়রোর আব্বাসী খিলাফত কাল বিস্তূত ছিল, ১৫১৭ সাল হতে ১৯২৪সাল পর্যন্ত উসমানীয় খিলাফত। এ গুলো হল মূল ধারার খিলাফত। স্পেনের উমাইয়া খেলাফতকে মূল ধারার খেলাফতের পরিপূরক হিসেবে গন্য করা হয়।

বিচ্ছিন্ন ধারার খেলাফত এর মধ্যে মিসরের ফাতেমী খিলাফত, মুরাবিদ খিলাফত, তিহারতের খারেজী আমিরাত তথা খারেজী খিলাফত আরো বিভিন্ন সময় কতক খিলাফত গড়ে উঠেছিল।

খোলাফায়ে রাশেদীন হতে ৭৫০ সাল পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম ভূমি একই খলিফার অধীনে পরিচালিত হত । ৭৫৪ সালে স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের পত্তন হবার পর থেকে ৯২৭ সাল পর্যন্ত উমাইয়া আমীর গন নিজেদেরকে খলিফা দাবি করেন নি ।

ইতিমধ্যে আফ্রিকায় শিয়ারা ক্ষমতা দখল করলে এবং বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত দূর্বল হবার কারণে ৯২৭ সালে স্পেনের উমাইয়ারা খিলাফত ঘোষণা করেন। এই খিলাফত ১০৩০ সাল পর্যন্ত স্হায়ী ছিল। উল্লেখ্য যে, তখন মালেকী মাযহাবের ফকিহগনের ফতোয়া নিয়ে তারা রাজ্য শাসন করতেন এবং ঐ রাষ্ট্রের একটি শরয়ী স্বীকৃতি ছিল। বাগদাদের খলিফাগন তাদেরকে কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

এবার আসা যাক, আব্বাসী খিলাফত আমলে রাজ্যের শরয়ী বৈধতা। বস্তুত বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত আমলে মিসরের তুলুনী আমীরাতের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত আমিরাত শুরু হয়। অতঃপর সামানী, গজনী , সেলজুক, মিসরের মামলুক , ভারতের মামলুক সহ অন্যান্য মুসলিম রাজ্যের শরয়ী বৈধতা খলিফার স্বীকৃতির উপর নির্ভর করত।

বাগদাদের আব্বাসী খিলাফত এর পতনের পর কায়রোর আব্বাসী খলিফাগন ও ১৪০২ সাল পর্যন্ত এই গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ১৪০২ সালে উসমানীয় ও তুর্কী বারলাস গোত্রের তৈমুর ল‌‌্য়ের মধ্যকার আ‌‌্কুরার যুদ্ধের পর কায়রোর আব্বাসীদের অনুমোদন এর জুরিসডিকশন সীমিত হয়ে যায়।

তৈমূরীয় সামাজ্য কায়রোর দূর্বল আব্বাসীদের নিকট হতে স্বীকৃতি না নিলেও খলিফাদের অস্বীকার বা অবহেলা করেন নি । আবার ভারতের মোগলরা উসমানীয় খিলাফতের স্বীকৃতি না নিলেও তাদের অবহেলা করেন নি বরং আ‌‌্কুরার যুদ্ধ ব্যতিত উসমানীয় ও তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি । ১৫১৭ সাল হতে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত উসমানীয়রা খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৪ সালে খিলাফতের পতনের পর মুসলমানরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।