ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকা: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল: অভিযোগ অস্বীকার গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

শর্তসাপেক্ষে ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

শনিবার (২১ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. জুলফিকার রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের আপিল আবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটিতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ ছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। এর পরিবর্তে তাদের ‘সাসপেন্ডেড এক্সপালশন (শর্তসাপেক্ষ বহিষ্কার)’ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

‘ফলে তারা বর্তমান স্প্রিং ২০২৫ সেমিস্টার থেকে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার (স্প্রিং ২০২৫ ও সামার ২০২৫) পর্যন্ত বহিষ্কৃত রাখা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী ফল ২০২৫ সেমিস্টার থেকে পুনরায় ক্লাসে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেও ‘সাসপেন্ডেড এক্সপালশন’ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল উপাচার্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে তা তদন্ত করে কর্তৃপক্ষ।

তদন্তের পর গত ২ জুন ৪১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ১৬ জনকে অস্থায়ী বহিষ্কার এবং একজনকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের এভাবে বহিষ্কার করাকে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগীরা। তাতে তারা নিঃশর্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। ইউজিসি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তবে মন্ত্রণালয় কোনো এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সরকারের এমন নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাজধানীর নতুনবাজারে সড়ক ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশ লাঠিপেটা করলেও শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরাতে পারেনি। পরে বিকেলে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল। সেখানে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শর্তসাপেক্ষে ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

শনিবার (২১ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. জুলফিকার রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের আপিল আবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটিতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ ছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। এর পরিবর্তে তাদের ‘সাসপেন্ডেড এক্সপালশন (শর্তসাপেক্ষ বহিষ্কার)’ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

‘ফলে তারা বর্তমান স্প্রিং ২০২৫ সেমিস্টার থেকে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার (স্প্রিং ২০২৫ ও সামার ২০২৫) পর্যন্ত বহিষ্কৃত রাখা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী ফল ২০২৫ সেমিস্টার থেকে পুনরায় ক্লাসে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেও ‘সাসপেন্ডেড এক্সপালশন’ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল উপাচার্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে তা তদন্ত করে কর্তৃপক্ষ।

তদন্তের পর গত ২ জুন ৪১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ১৬ জনকে অস্থায়ী বহিষ্কার এবং একজনকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের এভাবে বহিষ্কার করাকে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগীরা। তাতে তারা নিঃশর্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। ইউজিসি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তবে মন্ত্রণালয় কোনো এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সরকারের এমন নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাজধানীর নতুনবাজারে সড়ক ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশ লাঠিপেটা করলেও শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরাতে পারেনি। পরে বিকেলে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল। সেখানে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।