মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি -৬
- আপডেট সময় : ০১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অংশ হল মুসলিম সালতানাতের সর্ব পূর্বে অবস্থিত। বস্তুতু এই বিশাল মুসলিম সালতানাতের পতন এই বাংলা হতে স্পষ্টভাবে শুরু হয়েছে।
১৭৫৭ সালের পর হতে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পৌনে দুই শত বছর যাবত মুসলিম সালতানাত এবং এলাকাগুলো একের পর এক পরাধীন হতে থাকে, অবশেষে ১৯২৪ সালে উসমানীয় খিলাফতের পতনের পর মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হয়। ১৯২৪ সালে খিলাফতের পতনের পর মুসলমানরা বলতে পারত না যে, মুসলমানদের একটি দেশ আছে ।
পাঠক, এই ভূখণ্ড হতে মুসলমানদের পতন শুরু হয় এবং এই ভূখণ্ডেই আবার মুসলমানদের আজাদীর বীজ বপিত হয় । এই বীজ বপিত হয় মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে। আমি এই ব্যাপারে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করব।।
যা হোক, এবার ভারতীয় মুসলমানদের কথা আসা যাক । মুসলিম হিসেবে সারা পূথিবীর মুসলিমরা একে অপরের ভাই। একজন ভাইয়ের পরিচয় তার বিপদে মিলে। এদিকে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের বেলায় ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে স্বাধীনতা উদ্ধারের জন্য যিনি আমূতূ্্য লড়াই করেছেন তিনি হলেন শেরে মহিশুর হযরত টিপু সুলতান। এই টিপু সুলতান উসমানী খলিফার অনুগত ছিল। টিপু সুলতানের সাথে ঢাকার নিমতলীর নোয়াবে নাজিমের একটি অংশ ১৭৯৭ সালে গোপনে যোগাযোগ করে ইংরেজদের বিতাড়িত করতে চেয়েছিলেন।
পাঠক, মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ কোন বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। মুসলিম জাতিসত্তা হল এমন একটি অনুভূতি যা অমুসলিমদের আগ্রাসন হতে মূল ভূ খন্ড হতে বিচ্ছিন্ন মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষা করে।
খিলাফত এমন একটি ধারণা যেখানে মূসলমানদেরকে এক পতাকাতলে একত্রিত করে। কিন্তু আমরা বিগত কয়েক শতাব্দীর মুসলিম ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই যে, যে সব এলাকা খিলাফতের অধীন ছিল না সেখানে উম্মাহর কনসেপ্ট মুসলমানদেরকে একত্র করেছে, যদিও খিলাফতের অধীনে থাকা আবশ্যক।
খিলাফতের ইতিহাসে দেখা যায় যে , ১২৫৮ সাল পর্যন্ত খলিফাগন মুসলমানদের অস্তিত্বের গ্যারান্টার ছিল এবং তিনিই ছিলেন মূসলমানদের অভিভাবক। বাগদাদের আব্বাসী খিলাফতের পতনের পর কায়রোর আব্বাসী খলিফাগন এই দায়িত্ব কমবেশী পালন করেছেন।
১৫১৭ সালে উসমানীয়দের হাতে খিলাফতের গুরূ দায়িত্ব অর্পিত হয় । উসমানীয় খলিফাগন তাদের এলাকার বাইরে ককেসাসের মুসলমানদের অভিভাবক ছিলেন। তাই দেখা যায় ক্রিমিয়ার খানাতের একটি চুক্তিতে রাশিয়ার জার সম্রাট উসমানীয় সূলতানকে মুসলমানদের খলিফা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ।
ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মুসলমানরা মুসলিম জাতিসত্তার পতাকা তলে স্গ্রাম করেছেন।
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতীয় মুসলমানরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিসত্তার পতাকা তলে সমবেত হয়ে সংগ্রাম করেছে।
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এদেশের মুসলমানদের জন্য খিলাফত, প্যান ইসলামিজম এবং মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদের উপর গুরুত্ব আরোপ করা আবশ্যক।এই পথ হল আমাদের পূর্ববর্তীদের পথ , পূর্ববর্তীদের পথ পরিহার করে পাশ্চাত্যের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের থিওরির উপর চলার কারণে পূথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের অস্তিত্বের স্কট দেখা দিয়েছে যা ভবিষ্যতে আরো প্রকঠ আকার ধারণ করবে।





















