ঝালমুড়িতেই সংসার চলে রায়গঞ্জের আব্দুল হালিমের
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
মো: সুমন আহমেদ: সতের বছর বয়সে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে মামার সাথে ঢাকায় যান মো. আব্দুল হালিম। মামার বাসায় থেকে কিছু দিন ঘোড়াঘুরি শেষে ঢাকার একটি নিটিং এন্ড ডাইং গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন তিনি। বেশ কয়েক বছর চাকরি করার পরে তার মনে হলো কি করছেন! বাবা-মা, ভাই-বোনদেরকেও ঠিকমতো দেখভাল করতে পারছেন না- নিজেরও স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকছে না।
তখনই ভাবলেন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে চলবে না, নিজের কিছু করতে হবে। মধ্যবয়সে এসে সেই আব্দুল হালিম এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। একহাতে সামাল দেন নিজের ফুচকা-ঝালমুড়ি ব্যবসা। সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্রি করেন ফুচকা-ঝালমুড়ি, বিকেলে বিক্রি করেন রায়গঞ্জের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায়।
দিনে গড়ে দের হাজার টাকার মত বেচাকেনা হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। দূরদূরান্ত থেকে মো. আব্দুল হালিমের ফুচকা-ঝালমুড়ি খেতে আসেন ছোট-বড় অনেকে।
মো. আব্দুল হালিমের জন্ম রায়গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় হলেও কর্মজীবনের সূচনা রাজধানী ঢাকায়। গ্রামেই স্থানীয় কওমী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন তিনি। এরপর নানা কারণে আর লেখাপড়া হয়নি। শুরু করেন চাকরি। সে সময় একজন পরামর্শ দিলেন রাজধানী ঢাকার যে এলাকায় আব্দুল হালিমের বসবাস সেখানে কেউ মধু বিক্রি করে না। সে চাইলে চাকুরির পাশাপাশি সেখানে মধু বিক্রি করতে পারে।
ফুচকা-ঝালমুড়ির কিছুটা অভিজ্ঞতা থাকলেও মধু আব্দুল হালিমের জন্য নতুন বিষয়। কোথায় মধু পাবেন, কিভাবে আনবেন? ওই পরামর্শ দাতাই তখন বললেন “শুরু করলে একটা ব্যবস্থা হবেই”। তখন তিনি রাজধানী ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে খাঁটি মধু এনে ব্যবসা শুরু করেন।
প্রচুর চাহিদা থাকায় ব্যবসা করতে গিয়ে তার মনে হলো মধু ব্যবসায় বেশি সময় দিতে পারলে চাকুরির চেয়ে বেশি আয় করা যাবে। এজন্য একসময় চাকুরি ছেরে পুরোপুরিভাবে মধু ব্যবসায় আত্বনিয়োগ করেন তিনি। তিন বছর স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করলেও মধু ব্যবসাতেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি আব্দুল হালিম।
এর পরই ফিরে আসেন নিজ জন্মস্থান রায়গঞ্জে এবং ছোট একটি রেডিমেট ফুডকার্ট ভ্যানগাড়ি ক্রয় করে শুরু করেন ফুচকা-ঝালমুড়ির ব্যবসা। নাম দেন “আল্লাহ ভরসা ঝালমুড়ি”। অনেক যত্ন নিয়ে তিনি নিজ হাতে তৈরী করেন ঝালমুড়ি মসলা। এজন্যই ক্রেতারা তার ঝালমুড়ি অনেক পছন্দ করেন বলে জানান আব্দুল হালিম। সবকিছু তৈরীতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা অগ্রাধিকার দেন তিনি এবং এসব বিষয়ে পূর্ণ সহযোগীতা করেন তার স্ত্রী।
বর্তমানে স্ত্রী, তিন সন্তান আর মা-বাবাকে নিয়ে আব্দুল হালিমের সংসার। ফুচকা-ঝালমুড়ির ব্যবসা করেই স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে সবকিছু । এখন আর অভাব নেই, মা-বাবাকে দেখাশোনা করতে না পারার আক্ষেপ নেই। নিজ গ্রামেই থাকেন। এখন আব্দুল হালিমের স্বপ্ন তিন সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করা।
আব্দুল হালিম বলেন, কেউ যদি ফুচকা-ঝালমুড়ির ব্যবসা করে উন্নতি করতে চায়, তাহলে তাকে সৎ এবং বিনয়ী হতে হবে। ক্রেতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে।
ভালো ব্যবহার এবং হাসিমুখে কথা বললে ক্রেতা ঝালমুড়ি খেতে দ্বিতীয়বার দোকানে আসবেন, অন্যকেও সঙ্গে নিয়ে আসবেন। এভাবেই ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।





















