আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কথা বলতে না পেরে রাজশাহীতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।
রাজশাহীতে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে না পেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কথা বলতে না পেরে রাজশাহীতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত দুইঘণ্টা তারা রাজশাহী পিটিআইয়ের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন।
পরে শিক্ষার্থীদের পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন। ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ক এক কর্মশালায় যোগ দিতে সোমবার সকালে রাজশাহী পিটিআই মিলনায়তনে আসেন আইন উপদেষ্টা।
এছাড়া আসেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এই কর্মশালায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কথা বলতে আসেন নগরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী। কিন্তু তারা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। দুপুর ১২টার দিকে উপদেষ্টাকে নিয়ে গাড়ি পিটিআই থেকে বেরিয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের সামনে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে লেখা কিছু ফেস্টুন ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলতে থাকেন, ‘আমরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়েছি। তাই আসিফ নজরুল উপদেষ্টা হয়েছেন। কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেননি। যতক্ষণ তিনি এখানে এসে কথা না বলবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।’
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী নিসাত তাসনীম দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষকেরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। গতরাতেও রাজশাহী কলেজের সামনে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করা হয়েছে। এসব নিয়ে আমরা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলাম। পুলিশ অপেক্ষা করতে বলেছিল। পুলিশ আমাদের কথা বলিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের কথা না বলিয়ে উপদেষ্টাকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের এমন বিক্ষোভ চলার সময়ও মিলনায়তনের ভেতরে কর্মশালা চলছিল। সেখানে ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। প্রায় দুই ঘণ্টা এমন বিক্ষোভের পর পুলিশের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল ভেতরে যান। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন।
তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন, দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে মাঠে থাকা এই শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন সব ঘটনার সাক্ষী দেয়। তাহলে অপরাধীদের শাস্তি হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা পিটিআইয়ের ফটক থেকে উঠে যান। এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা তারা পিটিআইয়ের ফটক দিয়ে কাউকে বের হতে দিচ্ছিলেন না। কেউ ঢুকতেও পারছিলেন না। তাদের সমাবেশে শিক্ষার্থী রাজ সরকার, লতিফুর রহমানসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। দুই ঘণ্টা ধরে তারা ফটকে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগানও দিচ্ছিলেন।
























