রাজশাহীতে মাল পাহাড়িয়া মাতৃভাষা বর্ণমালার কি-বোর্ড ‘‘অতিথির’’ উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাল পাহাড়িয়া মাতৃভাষা বর্ণমালার কি-বোর্ড ‘‘অতিথির’’ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৯৫তম কি বোর্ডের ভাষা হলো ‘মালত সাবা’। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম জাতি মাল পাহাড়িয়ারা তাদের ভাষায় কথা বলতে সংকোচ বোধ করে আবার অনেকে নিজস্ব ভাষা বলতে পারে না। কিন্তু ‘‘অতিথি’’ কি-বোর্ডের ফলে সর্বস্তরের মানুষ নিজস্ব মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে পারবে ও যে কেউ একটু পড়াশোনা জানলে তা বলতেও পারবে। এর ফলে তাদের ভাষা রক্ষায় একটি মাইল ফলক হয়ে থাকলো ‘‘অতিথি’’ কি-বোর্ড।
মাল পাহাড়িয়াদের মাতৃভাষায় ’‘অতিথি’’ কি-বোর্ডের হরফ তৈরি করেছেন মাল পাহাড়িয়া ভাষা গবেষক অভিলাষ বিশ্বাস পাহাড়িয়া। তিনি ২০১২ সালে এই কি-বোর্ড তৈরি করা শুরু করেন। তার সঙ্গে নানা সময়ে পাহাড়িয়া ছাত্র পরিষদ, বিভিন্ন গ্রামের মড়ল সহ অনেকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহীর লিলিহল মোড় এলাকার রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কি-বোর্ডের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ও পাহাড়িয়া পরিষদের যৌথ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও একাডেমির নির্বাহী সভাপতি ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
তিনি পাহাড়িয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা চর্চার প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে পাহাড়িয়া মাতৃভাষার কি-বোর্ড ‘‘অতিথির’’ উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির উপ-পরিচালক বেঞ্জামিন টুডু।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির ইন্সট্রাক্টর মানুয়েল সরেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে কালচারাল একাডেমির পক্ষ থেকে পাহাড়িয়া জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার কি-বোর্ডের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন, একাডেমির নির্বাহী সদস্য ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।
সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মিসেস শেলী প্রিসিল্লা বিশ্বাস, আদিবাসী ভাষা প্রযুক্তিবিদ সমর মাইকেল সরেন ও পাহাড়িয়া আদিবাসী গবেষণা উন্নয় স্যোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অভিলাষ বিশ্বাস। এছাড়াও আরও বক্তব্য দেন, আদিবাসী ভাষা বিশেষজ্ঞ মৃদুল সাংমা।
‘‘অতিথি’’ কি-বোর্ড তৈরিতে সহযোাগিতা করা শিলা বিশ্বাস বলেন, ‘’অতিথি’’ কি-বোর্ড তৈরি করা হয়েছে এটি আমাদের আনন্দের বিষয়। এর মাধ্যমে আমাদের ভাষা সারা বিশ্ব জানবে। আগে আমরা মূলত এই ভাষাটা মুখে বলতাম। কিন্তু এখন আমরা বিভিন্ন জায়গায় লিখতে পারবো।
পাহাড়িয়া গবেষক ও ‘অতিথি’ কি-বোর্ডের হরফ তৈরিকারক অভিলাষ বিশ্বাস পাহাড়িয়া বলেন, ২০১২ সাল থেকে এই কি-বোর্ড তৈরি কাজ শুরু করি। দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করা হয়েছে কি-বোর্ডটি তৈরির লক্ষ্যে। আর আমার বড় মেয়ে অতিথি আমার অনুপ্রেরণা ছিল। তার অনুপ্রেরণায় আমি লিখালিখির কাজ করতাম। কিন্তু আমার বড় মেয়ে আমাদের ছেড়ে ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে। তার অনেক ইচ্ছে ছিল জাতির জন্য কাজ করার। আমি বাবা হয়ে তার কোন ইচ্ছে পুরণ করতে পারিনি । আর আজকে এই আনন্দের দিনে আমার মেয়ে নেই। তার স্মরণে আমার এই নিবেদন আর সকলের ইচ্ছায় আমার মেয়ের নামে এই কি-বোর্ডের নাম রাখা হয় ‘‘অতিথি’’।যার মাধ্যমে সারা জীবন সে সকলের মাঝে বেঁচে থাকবে বলে আমি মনে করি। এটাই আমার পরিশ্রমের ও তার অনুপ্রেরণার স্বার্থকতা।
প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

























