ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে বিপদজনক সংযোগ সড়কে বাধ্য হয়ে চলাচল

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


মারাত্মক বিপদজনক হয়ে পড়েছে শীবনদীর সেই সংযোগ সড়ক, বাধ্য হয়ে দূর্ঘটনা মাথায় নিয়েই চলাচল করছেন জনসাধারণ, যদিও রয়েছে চরম ঝুঁকি, তারপরও নেই কোন উপায়, প্রয়োজন ও জীবন জীবিকা নির্বাহে চলতে হচ্ছে, ধীরেধীরে এমন ভাবেই ভেঙ্গেছে তিন চাকার ভ্যান যাচ্ছে সাবধানতা অবলম্বন করে, কারন একটু এদিক সেদিক হলেই পড়তে হবে গর্তে।

আরেক দিকে হেয়ারিংবন্ড রাস্তার ইট উঠে ভয়ংকর ভয়ংকর গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমা হয়ে পড়েছে, যেন অভিভাবক হীন অবস্থায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে রাজশাহীর তানোর পৌর সদর বিলকুমারী বা শীবনদীর সেই অলৌকিক সংযোগ সড়কটি। দিনের দিন ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। অপর দিকে ব্রীজের পশ্চিম দিকের হেয়ারিংবন্ড সংযোগ সড়কে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানি জমে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে তানোর ও মোহনপুর বাসী চলাচল করছেন।

ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়া সড়ক ও গর্তগুলো মেরামত করে চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি ভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর পৌর সদর গোল্লাপাড়া হাটের জলিল পান স্টোর থেকে শীবনদীর ব্রীজ পর্যন্ত হেয়ারিংবন্ড সংযোগ সড়ক। সড়কটিতে তেমন ভাবে গর্ত ছিল না। কিন্তু ব্রীজের পূর্বদিকের সংযোগ সড়কে বালু ফেলার কারনে ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করা হয়। এই ড্রাম ট্রাকের কারনে অসংখ্য গর্ত হয়ে মাটি বের হয়ে পড়েছে।

সড়কের গর্তে জমে আছে পানি। এসব গর্তে তিন চাকার ভ্যান অটোরিকশা প্রতিনিয়তই পুতে যাচ্ছে। এছাড়াও ব্রীজের পূর্ব দিকে প্রায় ৫০০ ফিট সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। পূর্ব দিক থেকে যে কোন ধরনের গাড়ী আসলে পশ্চিম দিকের গাড়ী পার হতে পারছেনা। বিশেষ করে পূর্ব দিকের ব্রীজের মুখ সংলগ্ন দুপাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারেই সরু হয়ে গেছে।

মোটর সাইকেল পর্যন্ত যেতে পারছেন না। ব্রীজের মুখ থেকে প্রায় ৫০০ ফিট সড়কের উত্তর সাইডে ভয়ংকর অবস্থা হয়ে আছে। আবার দক্ষিণ সাইডও ভাঙ্গছে। পুরো সড়কটি যেন এক বিপদজনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দিন রাতে সমান তালে চলে ভ্যান অটোরিকশা ও মোটর সাইকেল এবং সাইকেল। সড়কের দুপারে বিলের পানি থইথই করছে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে গাড়ী তো দূরে থাক পায়ে হেটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তালন্দ ইউপির লালপুর থেকে শরিফ নামের এক ব্যক্তি আসেন বাঁধে। তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে তুলসী খেত পর্যন্ত সড়কের অবস্থা মারাত্মক ভয়ংকর হয়ে আছে। মোটরসাইকেলে দুজন ছিলাম, দূর্ঘটনার ভয়ে একাই মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে হয়েছে ভাঙ্গনের জায়গাগুলো। দেশের বৃহত্তর প্রকল্পের কাজ শেষ হয় কিন্তু এসড়কের কাজ শেষ হয়না।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রীজের পূর্ব দিকের ২৭৫ ফিট সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে ভেঙে ছিল। গত জুন মাসে বালু ভরাট করা হয় যাতে করে আর না ভাঙ্গে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই এমন ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে কল্পনাতীত। এসড়ক নিয়ে আগস্ট মাসের শুরুর দিকে টিভি ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদর নড়েচড়ে বসেন। এক প্রকার বাধ্য হয়ে ঠিকাদার আব্দুর রশিদ ইট ফেলে লাপাত্তা হয়ে গেছে। আগস্ট মাসে মেরামত করা হলে এত ভাঙ্গন দেখা যেত না। কিন্তু ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারনে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারে সরু হয়ে পড়েছে।

সংযোগ সড়কে ভ্যানে করে চটপটি, ফুচকা ও পেয়ারা আমড়া বিক্রেতারা বলেন, আমরা ভয়ে ব্রীজের পূর্ব দিকের সংযোগ সড়কে যায় না। কারন ভাঙ্গনের জায়গায় ভ্যানের চাকা চলে গেলে সব মালামাল পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকে ভারি মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। একারনে ভাঙ্গন হতেই আছে। আর দু তিন দিন বৃষ্টি হলে সড়ক ভেঙ্গে এমন সরু হবে পায়ে হাটা ছাড়া উপায় থাকবে না।

জানা গেছে, দুউপজেলার সেতু বন্ধনের জন্য বিগত বিএনপি সরকারের সময় শীবনদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হয়। প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার শুরু থেকে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকে নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে প্রতি মাসে ভাঙ্গতেই থাকে। এপার ভাঙ্গন রোদ হলে ওপার ভাঙ্গন শুরু হয়।প্রায় দেড় যুগ ধরে সংযোগ সড়কের কাজ চলমান থাকলেও রহস্য জনক কারনে কোনভাবেই ভাঙ্গন রোদ হচ্ছেনা।

বিশেষ করে ব্রীজ থেকে পূর্ব দিকে ২৭৫ ফিট রাস্তা ও ব্লকের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সড়কটির শুরুতেই বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও পানি এবং রোলার না মারার কারনে কাজ চলা অবস্থায় ভাঙ্গন শুরু হলে ঠিকাদার রশিদ পালিয়ে যান। সড়কটিতে দফায় দফায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তারপরও ভাঙ্গন দূর হচ্ছেনা। যে পরিমান সড়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাতে করে সড়ক চকচকে হওয়ার কথা।

ঠিকাদার আব্দুর রশিদ বলেন, আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সে ভাবেই করেছি।তারপরও ভাঙ্গন রোদ হয়নি। পূর্ব দিকের সড়কটিতে যে পরিমান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে লোকসান গুনতে হয়েছে। আমি বলেছিলাম পূর্ব দিকে আর একটি ব্রীজ করলে ভাঙ্গন হবেনা। কিন্তু জেলা প্রকৌশলীরা আমার কথায় কর্নপাত করেননি। এখন বীল ভর্তি পানি কোনভাবেই কাজ করা যাবেনা। আর করলেও টিকবে না।

স্থানীয় ঠিকাদারেরা জানান, নদীর মধ্যে রাস্তা ব্রীজ সেতু, সড়ক টিকসই হচ্ছে, আর এসড়ক কেন হবেনা। আসলে সব কিছুতে এত অনিয়ম দূর্নীতি করলে তো ভাঙ্গন দূর হওয়ার পরিবর্তে আরো বিলিন হবে। বীলে যে পরিমান পানি আছে জোরে ঢেউ হলে বিলিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, যাতায়াতের মত অবস্থা না থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে এবং বিলের পানি কমলে পরিক্ষা নীরিক্ষা করে কাজ করা হবে যাতে করে আর ভাঙ্গন না হয়। মজবুত টিকসই করার জন্য যা যা করনীয় সেটাই করা হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে বিপদজনক সংযোগ সড়কে বাধ্য হয়ে চলাচল

আপডেট সময় : ০৫:১৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


মারাত্মক বিপদজনক হয়ে পড়েছে শীবনদীর সেই সংযোগ সড়ক, বাধ্য হয়ে দূর্ঘটনা মাথায় নিয়েই চলাচল করছেন জনসাধারণ, যদিও রয়েছে চরম ঝুঁকি, তারপরও নেই কোন উপায়, প্রয়োজন ও জীবন জীবিকা নির্বাহে চলতে হচ্ছে, ধীরেধীরে এমন ভাবেই ভেঙ্গেছে তিন চাকার ভ্যান যাচ্ছে সাবধানতা অবলম্বন করে, কারন একটু এদিক সেদিক হলেই পড়তে হবে গর্তে।

আরেক দিকে হেয়ারিংবন্ড রাস্তার ইট উঠে ভয়ংকর ভয়ংকর গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমা হয়ে পড়েছে, যেন অভিভাবক হীন অবস্থায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে রাজশাহীর তানোর পৌর সদর বিলকুমারী বা শীবনদীর সেই অলৌকিক সংযোগ সড়কটি। দিনের দিন ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। অপর দিকে ব্রীজের পশ্চিম দিকের হেয়ারিংবন্ড সংযোগ সড়কে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানি জমে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে তানোর ও মোহনপুর বাসী চলাচল করছেন।

ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়া সড়ক ও গর্তগুলো মেরামত করে চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি ভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর পৌর সদর গোল্লাপাড়া হাটের জলিল পান স্টোর থেকে শীবনদীর ব্রীজ পর্যন্ত হেয়ারিংবন্ড সংযোগ সড়ক। সড়কটিতে তেমন ভাবে গর্ত ছিল না। কিন্তু ব্রীজের পূর্বদিকের সংযোগ সড়কে বালু ফেলার কারনে ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করা হয়। এই ড্রাম ট্রাকের কারনে অসংখ্য গর্ত হয়ে মাটি বের হয়ে পড়েছে।

সড়কের গর্তে জমে আছে পানি। এসব গর্তে তিন চাকার ভ্যান অটোরিকশা প্রতিনিয়তই পুতে যাচ্ছে। এছাড়াও ব্রীজের পূর্ব দিকে প্রায় ৫০০ ফিট সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। পূর্ব দিক থেকে যে কোন ধরনের গাড়ী আসলে পশ্চিম দিকের গাড়ী পার হতে পারছেনা। বিশেষ করে পূর্ব দিকের ব্রীজের মুখ সংলগ্ন দুপাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারেই সরু হয়ে গেছে।

মোটর সাইকেল পর্যন্ত যেতে পারছেন না। ব্রীজের মুখ থেকে প্রায় ৫০০ ফিট সড়কের উত্তর সাইডে ভয়ংকর অবস্থা হয়ে আছে। আবার দক্ষিণ সাইডও ভাঙ্গছে। পুরো সড়কটি যেন এক বিপদজনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দিন রাতে সমান তালে চলে ভ্যান অটোরিকশা ও মোটর সাইকেল এবং সাইকেল। সড়কের দুপারে বিলের পানি থইথই করছে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে গাড়ী তো দূরে থাক পায়ে হেটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তালন্দ ইউপির লালপুর থেকে শরিফ নামের এক ব্যক্তি আসেন বাঁধে। তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে তুলসী খেত পর্যন্ত সড়কের অবস্থা মারাত্মক ভয়ংকর হয়ে আছে। মোটরসাইকেলে দুজন ছিলাম, দূর্ঘটনার ভয়ে একাই মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে হয়েছে ভাঙ্গনের জায়গাগুলো। দেশের বৃহত্তর প্রকল্পের কাজ শেষ হয় কিন্তু এসড়কের কাজ শেষ হয়না।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রীজের পূর্ব দিকের ২৭৫ ফিট সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে ভেঙে ছিল। গত জুন মাসে বালু ভরাট করা হয় যাতে করে আর না ভাঙ্গে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই এমন ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে কল্পনাতীত। এসড়ক নিয়ে আগস্ট মাসের শুরুর দিকে টিভি ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদর নড়েচড়ে বসেন। এক প্রকার বাধ্য হয়ে ঠিকাদার আব্দুর রশিদ ইট ফেলে লাপাত্তা হয়ে গেছে। আগস্ট মাসে মেরামত করা হলে এত ভাঙ্গন দেখা যেত না। কিন্তু ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারনে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারে সরু হয়ে পড়েছে।

সংযোগ সড়কে ভ্যানে করে চটপটি, ফুচকা ও পেয়ারা আমড়া বিক্রেতারা বলেন, আমরা ভয়ে ব্রীজের পূর্ব দিকের সংযোগ সড়কে যায় না। কারন ভাঙ্গনের জায়গায় ভ্যানের চাকা চলে গেলে সব মালামাল পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকে ভারি মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। একারনে ভাঙ্গন হতেই আছে। আর দু তিন দিন বৃষ্টি হলে সড়ক ভেঙ্গে এমন সরু হবে পায়ে হাটা ছাড়া উপায় থাকবে না।

জানা গেছে, দুউপজেলার সেতু বন্ধনের জন্য বিগত বিএনপি সরকারের সময় শীবনদীর উপর ব্রীজ নির্মিত হয়। প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার শুরু থেকে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকে নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে প্রতি মাসে ভাঙ্গতেই থাকে। এপার ভাঙ্গন রোদ হলে ওপার ভাঙ্গন শুরু হয়।প্রায় দেড় যুগ ধরে সংযোগ সড়কের কাজ চলমান থাকলেও রহস্য জনক কারনে কোনভাবেই ভাঙ্গন রোদ হচ্ছেনা।

বিশেষ করে ব্রীজ থেকে পূর্ব দিকে ২৭৫ ফিট রাস্তা ও ব্লকের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সড়কটির শুরুতেই বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও পানি এবং রোলার না মারার কারনে কাজ চলা অবস্থায় ভাঙ্গন শুরু হলে ঠিকাদার রশিদ পালিয়ে যান। সড়কটিতে দফায় দফায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তারপরও ভাঙ্গন দূর হচ্ছেনা। যে পরিমান সড়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাতে করে সড়ক চকচকে হওয়ার কথা।

ঠিকাদার আব্দুর রশিদ বলেন, আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সে ভাবেই করেছি।তারপরও ভাঙ্গন রোদ হয়নি। পূর্ব দিকের সড়কটিতে যে পরিমান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে লোকসান গুনতে হয়েছে। আমি বলেছিলাম পূর্ব দিকে আর একটি ব্রীজ করলে ভাঙ্গন হবেনা। কিন্তু জেলা প্রকৌশলীরা আমার কথায় কর্নপাত করেননি। এখন বীল ভর্তি পানি কোনভাবেই কাজ করা যাবেনা। আর করলেও টিকবে না।

স্থানীয় ঠিকাদারেরা জানান, নদীর মধ্যে রাস্তা ব্রীজ সেতু, সড়ক টিকসই হচ্ছে, আর এসড়ক কেন হবেনা। আসলে সব কিছুতে এত অনিয়ম দূর্নীতি করলে তো ভাঙ্গন দূর হওয়ার পরিবর্তে আরো বিলিন হবে। বীলে যে পরিমান পানি আছে জোরে ঢেউ হলে বিলিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, যাতায়াতের মত অবস্থা না থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে এবং বিলের পানি কমলে পরিক্ষা নীরিক্ষা করে কাজ করা হবে যাতে করে আর ভাঙ্গন না হয়। মজবুত টিকসই করার জন্য যা যা করনীয় সেটাই করা হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি