ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে চাল চুরির ঘটনা ধাঁমাচাপার চেষ্টা,তদন্ত নিয়ে সচিবের অপপ্রচার

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুলাই ২০২৩ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির ঘটনায় কোনো প্রমান পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবিদা সিফাত বলে জানান ইউপি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। অথচ তদন্তকারি কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবিদা সিফাত জানান, তদন্ত শেষ হয়নি পুনরায় তদন্ত করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো যেখানে তদন্তকারি কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, তদন্ত শেষ হয়নি আরো তদন্ত করতে হবে, সেখানে সচিব মোস্তাফিজুর রহমান কিসের ভিত্তিতে অতিউৎসাহী হয়ে টাকা-পয়সা খরচ করে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছেন। ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা কি কোনো লিখিত দিয়েছেন সচিব মোস্তাফিজুর রহমানকে। যদি না দেন তাহলে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেনো টাকা-পয়সা খরচ করে সচিবের এমন অপপ্রচার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল চুরির অভিযোগ এনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৫ জুন রোববার দিবাগত রাতে কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন থেকে এসব চাল বের করে পাচারের সময় সচিবকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসি। এসময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। এদিকে এখবর প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি আদিবা সিফাত ঘটনা তদন্ত করেন। এবং আরো তদন্ত করতে হবে বলে জানান। অথচ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না হতেই সচিব মোস্তাফিজুর রহমান প্রচারণা শুরু করেন তদন্তে তার বিরুদ্ধে চাল চুরি অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তদন্তই শেষ হলোনা,আর তিনি বুঝে গেলেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

স্থানীয়রা জানান, সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মানুষ যদি তাকে ফাঁসাতেই চাই তাহলে এতোদিন পর কেনো, আরো অনেক আগেই তাকে ফাঁসাতে পারতেন তাই নয় কি। আসলে ধরা পড়ার পর সচিব ঘটনা ধাঁমাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। কারণ সে ধরা পড়েছে তদন্তে আরো অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম বেরিয়ে আসতে পারে।

দরগাডাঙা বাজারের ব্যবসায়ী দ্বিতীয় চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। উপকারভোগীরা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব চালের মান ভাল ছিলো না, সেই জন্য চালগুলো পাল্টানোর জন্য বের করা হচ্ছিল।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে চাল চুরির ঘটনা ধাঁমাচাপার চেষ্টা,তদন্ত নিয়ে সচিবের অপপ্রচার

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুলাই ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির ঘটনায় কোনো প্রমান পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবিদা সিফাত বলে জানান ইউপি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। অথচ তদন্তকারি কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবিদা সিফাত জানান, তদন্ত শেষ হয়নি পুনরায় তদন্ত করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো যেখানে তদন্তকারি কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, তদন্ত শেষ হয়নি আরো তদন্ত করতে হবে, সেখানে সচিব মোস্তাফিজুর রহমান কিসের ভিত্তিতে অতিউৎসাহী হয়ে টাকা-পয়সা খরচ করে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছেন। ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা কি কোনো লিখিত দিয়েছেন সচিব মোস্তাফিজুর রহমানকে। যদি না দেন তাহলে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেনো টাকা-পয়সা খরচ করে সচিবের এমন অপপ্রচার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল চুরির অভিযোগ এনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৫ জুন রোববার দিবাগত রাতে কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন থেকে এসব চাল বের করে পাচারের সময় সচিবকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসি। এসময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। এদিকে এখবর প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি আদিবা সিফাত ঘটনা তদন্ত করেন। এবং আরো তদন্ত করতে হবে বলে জানান। অথচ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না হতেই সচিব মোস্তাফিজুর রহমান প্রচারণা শুরু করেন তদন্তে তার বিরুদ্ধে চাল চুরি অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তদন্তই শেষ হলোনা,আর তিনি বুঝে গেলেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

স্থানীয়রা জানান, সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মানুষ যদি তাকে ফাঁসাতেই চাই তাহলে এতোদিন পর কেনো, আরো অনেক আগেই তাকে ফাঁসাতে পারতেন তাই নয় কি। আসলে ধরা পড়ার পর সচিব ঘটনা ধাঁমাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। কারণ সে ধরা পড়েছে তদন্তে আরো অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম বেরিয়ে আসতে পারে।

দরগাডাঙা বাজারের ব্যবসায়ী দ্বিতীয় চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। উপকারভোগীরা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব চালের মান ভাল ছিলো না, সেই জন্য চালগুলো পাল্টানোর জন্য বের করা হচ্ছিল।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি