বিপ্লব বার্ষিকীর আগেই রোহিঙ্গা শহীদের স্বীকৃতি চায় সহযোদ্ধারা
- আপডেট সময় : ০৫:২৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
প্রাপ্ত তথ্য মতে,শহীদ নুরুল মোস্তফার পিতা-মাতা নব্বইয়ের দশকে মায়ানমারের আরাকান থেকে এ দেশে আসে। রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে তাদের এ দেশীয় জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। যার কারণে জুলাই বিপ্লবে নুরুল মুস্তফা শহীদ হওয়ার পরও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় সরকারি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারেননি পরিবার। যে কারণে দেশ এবং জনগণের জন্য জীবন দেয়ার পরও অন্য হাজারো শহীদদের মত শহীদ নুরুল মোস্তফার পরিবারের ভাগ্যে বিগত এগারো মাসেও কোনো সরকারি সহায়তা জোটেনি। বেসরকারি উল্লেখযোগ্য সহায়তা বলতে বাংলাদেশ জামায়াত আমির ডক্টর শফিকুর রহমান প্রদত্ত এক লাখ টাকা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রদত্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা পেয়েছেন জানান শহীদের পিতা শফি উল্লাহ।
ইতিপূর্বে জুলাই নতুন প্ল্যাটফর্মের ফায়াজ শাহেদসহ একটি দলও স্বীকৃতি বঞ্চিত শহীদ নুরুল মোস্তফার কবর জেয়ারত করে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং স্বীকৃতির বিষয়ে সর্বোচ্চ মহলে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি যেসব নাগরিকদের বিভিন্ন উপায়ে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার কারণে সম্মান সূচক দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন শহীদ নুরুল মুস্তাফার ক্ষেত্রেও সে বিষয়টি হতে পারে বলে দাবি করেন।
সর্বশেষ গত ঈদুল আজহার কোরবানি ঈদের নতুন চাঁদ উদয়ের দিন ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নগদ অর্থ সহায়তা দেন। কোরবানির দিন রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিছু মাংস এবং পরের দিন জুলাই বিপ্লব নতুন প্লাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস পার্টি প্রতিনিধিরাও পরিবারের হাতে কিছু ঈদ উপহার তুলে দেন এবং শহীদ নুরুল আমিনের কবর জেয়ারত করেন।
শহীদের পিতা আরো বলেন,অপরের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করে তাকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের সংসার টানতে হচ্ছে। তাকে সাহায্য করার মত পরিবারে কেউ নেই।
বিপ্লবের ফসল অন্তবর্তীকালীন সরকার বিপ্লব পরবর্তী এগারো মাস অতিবাহিত হয়ে আগামী জুলাই মাসে প্রথম বিপ্লব বার্ষিকী ও জুলাই সনদ জারির উদ্যোগ নিলেও বিপ্লবে যারা রক্ত আর জীবন দিয়ে এ জাতিকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে শহীদ নুরুল মোস্তফার মত সাহসীরা ।তারা এখনো বিশেষ আদেশে শহীদের সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়া এ জাতির জন্য দূর্ভাগ্য বলে মনে করেন ঈদগাঁও উপজেলার জুলাই যুদ্ধারা।তারা বিপ্লব বার্ষিকীর আগেই শহীদ নুরুল মোস্তফার স্বীকৃতি দাবি করেন।
এদিকে শহীদ নুরুল মোস্তফার পিতা হত দরিদ্র শফিউল্লাহও জাতীয় পরিচয় পত্র জটিলতার কারণে আবেদন করতে পারেননি বলে কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, অনেকে এসে সান্তনা দেন কিন্তু তার শিশু ছেলে শহীদ হ ওয়ার পর প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও সরকার তাকে তালিকাভুক্ত করতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট পুলিশের উপুর্যপরী গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী নুরুল মোস্তফা।পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শহীদ নুরুল মোস্তফা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া গ্রামের হত দরিদ্র শফিউল্লাহর সন্তান।





















