ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

ভারতীয় বামপন্থী প্রগতিশীল ও বাংলাদেশের নব্য ফোগতিশীল দিং

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

মো: রহমত উল্লাহ: ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ঘাটলে আমরা সচারচর যা দেখতে পাই তা হলো, এই উপমহাদেশে বাম প্রগতিশীল দল গুলো একটি নীতি এবং মানদন্ডের উপর তাদের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতো। যেটির অন্যতম উদাহরণ ব্রিটিশ বিরোধি আন্দোলন। উপমহাদেশের বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন, বিভিন্ন গুপ্ত ও প্রকাশ্য সমিতি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংগঠন এই কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন কংগ্রেসের ভিতরের এই সব গোষ্ঠীর একটাই লক্ষ্য ছিল- ব্রিটিশ শাসনের অবসান। মানবতার আজাদী।

কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বাম প্রগতিশীলদের দিকে তাকালে আমরা যা দেখতে পাই..? বাম প্রগতিশীল মানেই আলাদা ধরনের কিছু একটা..এই কিছু একটার মধ্যেই রয়েছে ধর্ম বিশ্বাসের পরিবর্তে নাস্তিক্যবাদ, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের বিরোধিতা, চেতনা ব্যবসার নামে দেশের জনগোষ্ঠির বড় একটা অংশকে এক ঘরে করে দেয়া, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তৈরীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে এক ধর্মকে অন্য ধর্মে মুখোমুখি দাড় করিয়ে সংঘাত তৈরি করা। পূর্বে যেখানে বামপন্থীরা ক্ষমতাসীন ব্রিটিশ শাসনের বিরোধীতা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের মানুষের আজাদী এনে দিতে কাজ করেছে।

এই সময়ে বাংলাদেশের বামপন্থিরা তৎকালীন শৈরাচারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে দেশের সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতেও দ্বিধাবোধ করেননা। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দূর্নীতির মহোৎসবে যোগ দিয়ে বামপন্থী নেতারা নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন।

দেশে যারা প্র্যাকটিসিং মুসলিম রয়েছে, হকপন্থী আলেম ওলামাদেরকে ইসলামী মৌলবাদী, জঙ্গী নাটক সাজিয়ে নির্বিচারে হত্যার আঞ্জাম দিয়েছে। এবং এই নাকীয় হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিতে তাদের মনোনীত গনমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে সংবাদ প্রচার করেছে। শুধু তাই নয় পশ্চিমাদের কাছে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গী এবং তালেবান রাষ্ট্র হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দিতে সর্বদা সচেষ্ট থেকেছে।

পক্ষান্তরে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের বাম দল গুলোর দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই..? ভারত নামক দেশটি যেখানে দখলদার ইজরাইলকে ফিলিস্তনের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করে আসছে। সেখানে ভারতের বামদলগুলো ফিলিস্তিনের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাড়িয়ে সরকারের চোখে আঙ্গুল তুলে কথা বলছে।

ফিলিস্তিনিদের উপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবী জানিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কলকাতার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে ভারত সরকারকে বার্তা দিচ্ছে। মানবতার জন্য তারা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে-বাম সংগঠন গুলোর এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনাও করেছে কট্রোর হিন্দুত্ববাদীরা। তারা বাম দলগুলোর এ উদ্যোগকে ভারত বিরোধীতা বলে মন্তব্য করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল, সুশিল-শুনিল আর পোদের আলো, দিল্লিস্টারের অনবরত: দেশ বিরোধী চক্রান্ত, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট ও ক্ষমতাসিনদের অংশিদার হয়ে দুধের মালাই খাওয়াকে দেশের মানুষ কিভাবে দেখছেন.? সেই সাথে ভারতে স্বাধীন ফিলিস্তিনে পক্ষে বাম দলগুলোর অবস্থান কট্রোর হিন্দুত্ববাদীদের অন্তরে কুঠার আঘাত করেছে এতে কোন সন্দেহ নাই।

অতীতে যেমন দেশের বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন, সমিতি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংগঠন এক কাতারে দাড়িয়ে আওয়াজ তুলেছিল বর্তমান সময়ে আবারো আওয়াজ তুলবে এবং ছদ্মবেশী বাঙ্গু ফোগতিশীলদের চেতনা ব্যবসায় লাল বাত্তি জ্বালাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় বামপন্থী প্রগতিশীল ও বাংলাদেশের নব্য ফোগতিশীল দিং

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

মো: রহমত উল্লাহ: ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ঘাটলে আমরা সচারচর যা দেখতে পাই তা হলো, এই উপমহাদেশে বাম প্রগতিশীল দল গুলো একটি নীতি এবং মানদন্ডের উপর তাদের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতো। যেটির অন্যতম উদাহরণ ব্রিটিশ বিরোধি আন্দোলন। উপমহাদেশের বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন, বিভিন্ন গুপ্ত ও প্রকাশ্য সমিতি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংগঠন এই কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন কংগ্রেসের ভিতরের এই সব গোষ্ঠীর একটাই লক্ষ্য ছিল- ব্রিটিশ শাসনের অবসান। মানবতার আজাদী।

কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বাম প্রগতিশীলদের দিকে তাকালে আমরা যা দেখতে পাই..? বাম প্রগতিশীল মানেই আলাদা ধরনের কিছু একটা..এই কিছু একটার মধ্যেই রয়েছে ধর্ম বিশ্বাসের পরিবর্তে নাস্তিক্যবাদ, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের বিরোধিতা, চেতনা ব্যবসার নামে দেশের জনগোষ্ঠির বড় একটা অংশকে এক ঘরে করে দেয়া, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তৈরীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে এক ধর্মকে অন্য ধর্মে মুখোমুখি দাড় করিয়ে সংঘাত তৈরি করা। পূর্বে যেখানে বামপন্থীরা ক্ষমতাসীন ব্রিটিশ শাসনের বিরোধীতা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের মানুষের আজাদী এনে দিতে কাজ করেছে।

এই সময়ে বাংলাদেশের বামপন্থিরা তৎকালীন শৈরাচারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে দেশের সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতেও দ্বিধাবোধ করেননা। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দূর্নীতির মহোৎসবে যোগ দিয়ে বামপন্থী নেতারা নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন।

দেশে যারা প্র্যাকটিসিং মুসলিম রয়েছে, হকপন্থী আলেম ওলামাদেরকে ইসলামী মৌলবাদী, জঙ্গী নাটক সাজিয়ে নির্বিচারে হত্যার আঞ্জাম দিয়েছে। এবং এই নাকীয় হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিতে তাদের মনোনীত গনমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে সংবাদ প্রচার করেছে। শুধু তাই নয় পশ্চিমাদের কাছে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গী এবং তালেবান রাষ্ট্র হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দিতে সর্বদা সচেষ্ট থেকেছে।

পক্ষান্তরে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের বাম দল গুলোর দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই..? ভারত নামক দেশটি যেখানে দখলদার ইজরাইলকে ফিলিস্তনের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করে আসছে। সেখানে ভারতের বামদলগুলো ফিলিস্তিনের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাড়িয়ে সরকারের চোখে আঙ্গুল তুলে কথা বলছে।

ফিলিস্তিনিদের উপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবী জানিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কলকাতার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে ভারত সরকারকে বার্তা দিচ্ছে। মানবতার জন্য তারা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে-বাম সংগঠন গুলোর এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনাও করেছে কট্রোর হিন্দুত্ববাদীরা। তারা বাম দলগুলোর এ উদ্যোগকে ভারত বিরোধীতা বলে মন্তব্য করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল, সুশিল-শুনিল আর পোদের আলো, দিল্লিস্টারের অনবরত: দেশ বিরোধী চক্রান্ত, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট ও ক্ষমতাসিনদের অংশিদার হয়ে দুধের মালাই খাওয়াকে দেশের মানুষ কিভাবে দেখছেন.? সেই সাথে ভারতে স্বাধীন ফিলিস্তিনে পক্ষে বাম দলগুলোর অবস্থান কট্রোর হিন্দুত্ববাদীদের অন্তরে কুঠার আঘাত করেছে এতে কোন সন্দেহ নাই।

অতীতে যেমন দেশের বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন, সমিতি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংগঠন এক কাতারে দাড়িয়ে আওয়াজ তুলেছিল বর্তমান সময়ে আবারো আওয়াজ তুলবে এবং ছদ্মবেশী বাঙ্গু ফোগতিশীলদের চেতনা ব্যবসায় লাল বাত্তি জ্বালাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।