মুসলিম জাতিসত্তার ঐতিহাসিক পটভূমি-৩
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
পাঠক, বিগত পর্বে আমি উম্মাহ এবং মুসলিম জাতিসত্তা এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এই পর্বে আমি উম্মাহর কনসেপ্ট কিভাবে মুসলমানদের অস্তিত্বের সহায়ক তা নিয়ে আলোচনা করব।
পাঠক, উম্মাহর কনসেপ্ট মুসলমানদের সার্বিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। আমি বিগত পর্বে আলোচনা করেছি যে, মুসলিম জাতিসত্তা তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ মূল মুসলিম ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত ভূখণ্ডের জন্য প্রযোজ্য। এই ভূখণ্ড গুলোকে রক্ষার জন্য মুসলিম জাতী সত্তা ও উম্মাহর কনসেপ্ট আবশ্যক। মুসলিম জাতিসত্তা আভ্যন্তরীণ সংহতির জন্য অপরিহার্য এবং উম্মাহর কনসেপ্ট আভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য মুসলিমদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আবশ্যক। এই উম্মাহর ভিত্তিতে এক দেশের মুসলিমরা অন্য ভূখণ্ডের মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে ।
আমি উম্মাহ এর কনসেপ্ট কিভাবে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার সহায়ক তা নিয়ে আলোচনা করবো। ওমা তাওফিকি ইল্লাহ বিল্লাহ।
পাঠক, ইসলামের ইতিহাস পাঠ করলে দেখতে পাবেন যে , কোন ভূখণ্ডের মুসলমানরা যখন অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হয়েছে তখন উম্মাহ এগিয়ে এসেছে ।
খোলাফায়ে রাশেদীন হতে ১০৯৯ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ব পরাজয় অনুভব করেনি। ইসলামী শক্তি ১০৯৯ সাল পর্যন্ত অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে চলেছিল। ১০৯৯ সালে ক্রুসেড এর মাধ্যমে ইসলামী শক্তি প্রথম পরাজয় অনুভব করে ।
১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম সহ সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে নিয়ে পাঁচটি রাজ্য স্থাপন করে। ক্রুসেডারদের বর্বরতার প্রতিরোধ করার জন্য বাগদাদের খলিফা সেলজূক সুলতানদের নির্দেশ প্রদান করেন, ফলে পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত সেলজুক সুলতানগন ক্রসেডারদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করে । ইতিহাসে আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে মুসলমানদের অস্তিত্বের বিষয়টি খোদ খলিফার অবদান ছিল। এবার আসা যাক খলিফা ব্যতিত অন্যরা কিভাবে উম্মাহর কনসেপ্ট এর ভিত্তিতে এগিয়ে এসেছে।
১০৩০ সালে স্পেনে উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর সেখানে মুলকুত তাওয়ায়িফ অথাৎ ক্ষুদ্র রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে। এই ক্ষুদ্র রাজ্যগুলো ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের আগ্রাসনের মুখে পড়লে উত্তর আফ্রিকার মুয়াহিদ ও মুরাবিত শাসকগোষ্ঠী স্পেনে পদার্পণ করে মুসলমানদেরকে খ্রিস্টানদের আগ্রাসন হতে রক্ষা করা উম্মাহ কনসেপ্ট এর একটি উদাহরণ।
কায়রোর দূর্বল আব্বাসী খিলাফতের আমলে ইউরোপীয় শক্তি ইন্দোনেশিয়ার একাংশ গ্রাস করে নিলে উসমানীয় সূলতান সেলিম এক শক্তিশালী মুসলিম নৌ বাহিনী প্রেরণ করে মুসলমানদেরকে রক্ষা করে। এটি ছিল উম্মাহর কনসেপ্ট এর একটি প্রকূষ্ট উদাহরণ।
আবার ১৭০৭ সালে বাদশাহ আলমগীর এর ইন্তেকাল এর পর হিন্দুত্ববাদী শক্তির ঊখান ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়, এমতাবস্থায় গাজী আহমদ শাহ আবদালী আফগানিস্তান হতে ভারতে এসে মোগল ১৭৬৩ সালে পানি পথের যুদ্ধে হিন্দু শক্তিকে পরাস্ত করে মুসলমানদেরকে উদ্ধার করা উম্মাহ কনসেপ্ট এর উদাহরণ।
১৯৬৭ সালে আরব ইসরাইল যুদ্বে পাকিস্তানের বৈমানিক গন আরব মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ করা উম্মাহ কনসেপ্ট এর একটি উদাহরণ।
পূথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা অমুসলিমদের দ্বারা মজলুম হলে বায়তুল মোকাররমে মুসলমানদের যে মিছিল হয় এটি উম্মাহ কনসেপ্ট এর ফসল।
পাঠক, মুসলিম জাতিসত্তার কনসেপ্ট শুধুমাত্র মূল মুসলিম ভূখন্ড হতে বিচ্ছিন্ন ভূমি এবং অমুসলিম আগ্রাসন হতে মুসলিম ভূমির লাগোয়া কোন ভূখণ্ড বা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।





















