ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

মন্দিরের ম্যানেজার গোবিন্দ পাল মন্দির পরিচালনার অর্থের অপব্যবহার

রাজশাহী গোদাগাড়ীতে শ্রীপাঠ খেতুরী ধামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, ট্রাস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শ্রীপাঠ খেতুরী ধামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের অভিযোগ, মন্দিরের ম্যানেজার গোবিন্দ পাল মন্দির পরিচালনার অর্থের অপব্যবহারসহ ভক্তদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় প্রায় তিন শতাধিক গ্রামবাসী ও ভক্তদের উপস্থিতিতে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি শান্ত কুমার মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক নয়ন কুমার শীল, এবং গৌরাঙ্গ ট্রাস্ট বোর্ডের ট্রাস্টি সুনন্দন সরকার রতন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ভক্ত ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মন্দিরে ভক্তদের জন্য বরাদ্দ করা প্রসাদ ও চালের একটি বড় অংশ ম্যানেজার গোবিন্দ পাল বিক্রি করেন। বাইরে থেকে আসা ভক্তদের জন্য রান্না করা প্রসাদ ১৫০ টাকা প্লেট হিসেবে বিক্রি করা হয় এবং রাত্রিযাপনের জন্য আলাদা ভাড়া আদায় করা হয়। গরিব ভক্তরা টাকা দিতে না পারলে প্রসাদ না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

ট্রাস্টি সুনন্দন সরকার রতন অভিযোগ করেন, “গোবিন্দ পাল শুধু অর্থ আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত নন, তিনি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এমনকি খামারি প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অতীতেও এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ম্যানেজার গোবিন্দ পাল কোনো শাস্তি পাননি। বরং মন্দির পরিচালনা কমিটির নীরবতায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে, ম্যানেজার গোবিন্দ পাল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

এদিকে ভক্ত ও এলাকাবাসী বর্তমান ট্রাস্ট কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মন্দিরের ম্যানেজার গোবিন্দ পাল মন্দির পরিচালনার অর্থের অপব্যবহার

রাজশাহী গোদাগাড়ীতে শ্রীপাঠ খেতুরী ধামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, ট্রাস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবি।

আপডেট সময় : ০৪:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শ্রীপাঠ খেতুরী ধামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের অভিযোগ, মন্দিরের ম্যানেজার গোবিন্দ পাল মন্দির পরিচালনার অর্থের অপব্যবহারসহ ভক্তদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় প্রায় তিন শতাধিক গ্রামবাসী ও ভক্তদের উপস্থিতিতে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি শান্ত কুমার মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক নয়ন কুমার শীল, এবং গৌরাঙ্গ ট্রাস্ট বোর্ডের ট্রাস্টি সুনন্দন সরকার রতন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ভক্ত ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মন্দিরে ভক্তদের জন্য বরাদ্দ করা প্রসাদ ও চালের একটি বড় অংশ ম্যানেজার গোবিন্দ পাল বিক্রি করেন। বাইরে থেকে আসা ভক্তদের জন্য রান্না করা প্রসাদ ১৫০ টাকা প্লেট হিসেবে বিক্রি করা হয় এবং রাত্রিযাপনের জন্য আলাদা ভাড়া আদায় করা হয়। গরিব ভক্তরা টাকা দিতে না পারলে প্রসাদ না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

ট্রাস্টি সুনন্দন সরকার রতন অভিযোগ করেন, “গোবিন্দ পাল শুধু অর্থ আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত নন, তিনি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এমনকি খামারি প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অতীতেও এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ম্যানেজার গোবিন্দ পাল কোনো শাস্তি পাননি। বরং মন্দির পরিচালনা কমিটির নীরবতায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে, ম্যানেজার গোবিন্দ পাল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

এদিকে ভক্ত ও এলাকাবাসী বর্তমান ট্রাস্ট কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।