নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে শিবিরের সাথী পদ হারায় আম্মার
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
শিবিরের অভ্যন্তরীণ নথি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তার সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
শিবিরের পক্ষ থেকে সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপের পাশাপাশি সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের কিছু কর্মকাণ্ডকে সংগঠন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচনা করেছে। তার কর্মকাণ্ড সাংগঠনিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিবিরের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনটির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের সাথীপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করা হয় এবং তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় একই বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের পক্ষ থেকে দেওয়া আরেকটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি সংগঠনের আলোচনায় আসে বলে ওই নথিতে বলা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার সাথীপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে আম্মারের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। শিবিরের দাবি, তার দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মার রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় ওই প্যানেলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও বিতর্ক ছিল। পরবর্তীতে ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীবকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
তবে সালাহউদ্দিন আম্মার ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। সাথীপদ বাতিলের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










