ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উৎসবমুখর আয়োজনে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মোহনপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা, বাবাকে গুরুতর জখমের অভিযোগ দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়া হলেও আলোচনা করছে না সরকার:বিরোধীদলীয় নেতা ‘জঙ্গি’ নাটকের কারিগড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সেই নিলুফার সুলতানা বদলি বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ পিপিএম-সেবা পদক পেলেন আরএমপি কমিশনার কবির ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জামায়াতকে জড়িয়ে রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

‘জঙ্গি’ নাটকের কারিগড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সেই নিলুফার সুলতানা বদলি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ৩ হলের ছাত্রীদের পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছে।বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নিলুফার সুলতানার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তাকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনবার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক পরিষদের নেতা হয়েছেন৷ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য।

তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাতের দুদকের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহার প্রধান সহযোগী ও শিক্ষক পরিষদের নেতা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর কাছে ডা. জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন নিলুফার সুলতানা।

জঙ্গিবাদের অভিযোগে করা ওই মামলা প্রায় এক দশক ধরে চলমান থাকে আদালতে। এ সময় জামিন ও সামাজিক কলঙ্কের ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছে তিন কলেজছাত্রীকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ মে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের খালাস দেন। ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী ও মামলার নথিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তিন জন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্রী, ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কানিজ ফারহানা বাতুল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্রী ও ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা আরজিনা আক্তার চম্পা ও সালমা আক্তার।

নিলুফার সুলতানার বিচার দাবি করে তারা বলেন, ‘নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলমান ছিল। এ সময়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক ‘আজীবন তদন্ত কমিটি’। বর্তমান অধ্যক্ষও আমাদের তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম জানাননি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?’

জঙ্গি নাটকের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল মেসেজে করেও অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে, তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়। অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কি না? এমন প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেননি অধ্যক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই মধ্যরাতে কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হল থেকে তিন ছাত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন তৎকালীন হলের সহকারী প্রভোস্ট নিলুফার সুলতানা। ডা. জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ধর্মীয় বই পড়ার টেবিলে রাখায় তিন ছাত্রীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় দেখানো হয়। এক দশক আইনি লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মে মাসে এ মামলা মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়৷

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘জঙ্গি’ নাটকের কারিগড় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সেই নিলুফার সুলতানা বদলি

আপডেট সময় : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ৩ হলের ছাত্রীদের পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছে।বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নিলুফার সুলতানার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তাকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনবার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক পরিষদের নেতা হয়েছেন৷ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য।

তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাতের দুদকের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহার প্রধান সহযোগী ও শিক্ষক পরিষদের নেতা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর কাছে ডা. জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন নিলুফার সুলতানা।

জঙ্গিবাদের অভিযোগে করা ওই মামলা প্রায় এক দশক ধরে চলমান থাকে আদালতে। এ সময় জামিন ও সামাজিক কলঙ্কের ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছে তিন কলেজছাত্রীকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ মে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের খালাস দেন। ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী ও মামলার নথিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তিন জন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্রী, ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কানিজ ফারহানা বাতুল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্রী ও ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা আরজিনা আক্তার চম্পা ও সালমা আক্তার।

নিলুফার সুলতানার বিচার দাবি করে তারা বলেন, ‘নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলমান ছিল। এ সময়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক ‘আজীবন তদন্ত কমিটি’। বর্তমান অধ্যক্ষও আমাদের তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম জানাননি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?’

জঙ্গি নাটকের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল মেসেজে করেও অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে, তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়। অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কি না? এমন প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেননি অধ্যক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই মধ্যরাতে কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হল থেকে তিন ছাত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন তৎকালীন হলের সহকারী প্রভোস্ট নিলুফার সুলতানা। ডা. জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ধর্মীয় বই পড়ার টেবিলে রাখায় তিন ছাত্রীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় দেখানো হয়। এক দশক আইনি লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মে মাসে এ মামলা মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়৷