প্রজেক্টর দিতে না চাওয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষককে পেটালেন বিএনপিকর্মী
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টর দিতে না চাওয়ার কারণে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের জামতলা মোড়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম মেরাজুল ইসলাম। তিনি খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার আরবী বিভাগের সহকারী শিক্ষক। আর অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আজাদ।
তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী। এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) সকালে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা আছে। মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য আজাদ কয়েক দিন আগে তার কাছে মাদ্রাসার প্রজেক্টর চান।
তিনি তাকে বলেন যে প্রজেক্টর নষ্ট। তারপরও আজাদের এ কথা বিশ্বাস হয়নি। তিনি প্রজেক্টর নেবেনই। তখন তিনি প্রজেক্টর দিয়ে দিতে বলেন। পরে দেখা হলে আজাদ তাকে বলেন, প্রজেক্টর নিতে গেলে শিক্ষক মেরাজুল ইসলাম তাকে অপমান করেছেন। এ জন্য তিনি তাকে মারবেন। তখনই তিনি এই কথার প্রতিবাদ করেন। তিনি তাকে মাদ্রাসায় ডাকেন এবং তখন শিক্ষকের সামনাসামনি কথা বলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এরই মধ্যে পরে তিনি শুনতে পেয়েছেন যে রাস্তায় ধরে শিক্ষককে আজাদ মেরেছেন। সুপার জানান, বিষয়টি তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতাদের জানিয়েছেন। তারা শনিবার সালিশ বৈঠকে বসতে চেয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগী শিক্ষক মেরাজুল ইসলাম জানান, প্রজেক্টর নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শুধু বলেছিলেন এটা শিক্ষার্থীদের ক্লাসের জন্য সরকার দিয়েছে। খেলা দেখার জন্য তো দেয়নি। নষ্ট হলে মেরামত করা কঠিন।
এই কথার কারণে আজাদ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চতুর্থ শ্রেণি পড়া ছেলেকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে তিনি মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। জামতলা মোড়ে আজাদ তার মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়ান। এ সময় তিনি তাকে সালাম দেন। তিনি সালামের উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘ইট-বালু নিয়েছিস, টাকা দে।’
মেরাজুল ইসলাম জানতে চান, কীসের টাকা? তখনই ‘কীসের টাকা মানে’ বলে তিন-চার থাপ্পড় মারেন। তখনও তিনি মোটরসাইকেলের ওপর বসে ছিলেন। থাপ্পড়ে তার চশমা খুলে পড়ে যায়। পরে তিনি মোটরসাইকেল থেকে নেমে চশমা তোলেন। চড়-থাপ্পড়ের কারণে তিনি এখন কানে কম শুনছেন। চিকিৎসা করা হচ্ছেন। শিক্ষকের দাবি, আজাদ তার কাছে কোনো টাকা পাবেন না।
রাস্তায় এই অযুহাত দেখিয়ে তিনি তাকে মেরেছেন। যোগাযোগ করা হলে বিএনপিকর্মী মো. আজাদ ওই শিক্ষককে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, মাদ্রাসায় তিনি ইট-বালু দিয়েছেন। সেই টাকা পাননি। টাকা চাওয়ায় মেরাজুল ইসলাম তাকে মেরেছেন। তাই তিনিও তাকে মারধর করেছেন। রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য ফরিদুল ইসলাম সাহেবের বাড়ি ওই এলাকায়।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই বিএনপির পরিচয় দেয়। আজাদও সে রকম। সে দলের কোনো পদ-পদবীতে নেই। সাধারণ সমর্থক। সে যে কাজটা করেছে তা অন্যায়। কাজটা ঠিক হয়নি। শনিবার এটা নিয়ে বসার কথা আছে। মনের মতো বিচার হবে। চিন্তার কোনো কারণ নাই।’
দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সবকিছু শুনে এসেছে। প্রজেক্টর না দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনা। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি। শনিবার তারা মীমাংসা করে নেবেন।’





















