কোটা ভিত্তিক নারী প্রতিনিধি প্রাকৃতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া: পাঠক, আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সূদ, ঘুষ, মিথ্যা ও জুলুমের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে স্হানীয় সরকার ও সংসদ ব্যবস্থায় মহিলাদের কোঠার মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় যা প্রাকৃতিক নিয়মের বহির্ভূত।
এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম না কি জায়েয এটি ফতোয়া দেয়ার অধিকার হল উলামায়ে কেরাম গনের। আমি বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করব না। আমি এই প্রক্রিয়া কিভাবে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরোধী এবং তা ন্যায়ানুগ নয় , সেই সম্পর্কে আলোচনা করব।
প্রথমে আসা যাক প্রাকৃতিক নিয়ম কি ? প্রাকৃতিক নিয়ম হল যে কোন বিষয় অথবা বস্তুর সূষ্টিগত বৈশিষ্ট্য। সূষ্টিগত বৈশিষ্ট্য ব্যতিত ও প্রকূতির নিজস্ব প্রভাব কোন বস্তু বা প্রানীর উপর বিস্তার করে। উদাহরণ স্বরূপ, পরিবার ব্যাবস্থা একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। আবার হাস অথবা মুরগির ডিমের উপর হাতির গোবর ছিটিয়ে দিয়ে তা দিলে তূলনা মূলক বড় বাচ্চা হয় ।
সাধারণত প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয় কোন একটি জনগোষ্ঠীর নেতূত্ব দেয়ার জন্য। তাহলে নারী কোটা কি নারীদের নেতূত্ব দেয়ার জন্য করা হয়েছে। তাহলে পুরুষদের নেতূত্বের জন্য পুরুষ প্রতিনিধি আবশ্যক। যদি প্রতিনিধি ব্যাবস্থায় নারীদের নেতূত্ব নারী দিয়ে এবং পুরুষদের নেতূত্ব পুরুষ দিয়ে তাহলে নেতূত্বের সার্বজনীনতা হারিয়ে ফেলে।
এই কোটা পদ্ধতির নেতূত্ব নেতূত্বের মৌলিক চাহিদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কারণ নেতূত্বের কোন ফোরামে কোন বিশেষ শ্রেণী বা জনগোষ্ঠীর নেতূত্ব অপর জনগোষ্ঠীর নেতূত্ব দিতে পারে না। এই বিষয়টি যুক্তি ও বুদ্ধি সমর্থন করে না। যদি কোন মহিলা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয় , তাহলে এই ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই। মহিলাদের কোটার মাধ্যমে নির্বাচিত করার অর্থ হলো অযোগ্য মানুষকে যোগ্য মানুষের মর্যাদা দেয়া যা প্রকূতি বিরোধী। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী নেতূত্ব হবে উম্মুক্ত এবং উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবে, এর ব্যতিক্রম হলে নেতূত্বে বিশূ্খলা দেখা দিবে।
প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ের একটি নির্দিষ্ট পরিধি রয়েছে। এই পরিধির বাইরে গেলে সমাজ, পরিবারে বিশূ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। পরিবার প্রথা প্রাকৃতিক একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। আজকে পাশ্চাত্যের নারীরা প্রকূতির গন্ডি ল্ঘন করার কারণে সেখানে পরিবার প্রথা ভেঙে গেছে।
ইসলাম বিরোধী শক্তির মুসলমানদেরকে দূর্বল ও পদানত করার অন্যতম দুটি হাতিয়ার হল সূদ এবং নারী। নারীদেরকে বেপরদা করার একটি মিশন হল এই নারীদের কোটা ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা। ইসলামী সভ্যতা বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র দুটি বিষয়ে আবদ্ব হয়ে পড়েছে। একটি হল ওয়াকফ সম্পত্তি ভিত্তিক মসজিদ ও মাদ্রাসা এবং অপরটি হলো মুসলমানদের পারিবারিক ব্যাবস্থা। এই পারিবারিক ব্যাবস্থা ভে্গে দেয়ার জন্য অমুসলিম শক্তির প্রজেক্ট হল এই কোটা ভিত্তিক নারী সদস্য নির্বাচিত করা।
আজ থেকে একশত বছর আগে ও ইউরোপে অনেকটা পারিবারিক ব্যাবস্থা ছিল । কিন্তু মহিলারা ঘর হতে বের হওয়ার জন্য আজকে সেখানে পারিবারিক ব্যাবস্থা ভে্গে গেছে। এই পারিবারিক ব্যাবস্থা ভে্গে যাওয়ার কারণে সেখানে ছোট ছোট শিশুরা মাতা পিতার আদর স্নেহ হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং একটি ব্যাভিচারী সমাজে রুপান্তরিত হয়েছে।
আমাদের দেশের এই কোটা ভিত্তিক নারী সদস্য নির্বাচিত করা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের পারিবারিক ব্যাবস্থা ভে্গে দিবে এবং ইসলামী সভ্যতা বরবাদ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের এই ব্যাবস্থাটি এখন এমন খারাপ অবস্থায় উপনীত হয়েছে যে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ও এই ব্যাবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলতেছে। এমতাবস্থায় এই ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে মুসলমানদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং বাতিলের জন্য আন্দোলন শুরু করা উচিত।





















