ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর প্রথম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো: রেজবুন হক (প্লাবন)-এর বাবা মো: আজাদুল ইসলাম। অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. রেজাউল করিম এবং জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য সংগঠনের জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদা জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, আমৃত্যু তার ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদেরকে আকৃষ্ট করে, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের বিজয়কে রোধ করতে পারবে না।’ উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করেন।

কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধানের আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগঠনের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা কার্যকরী পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।’

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়। বিজ্ঞপ্তি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর প্রথম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো: রেজবুন হক (প্লাবন)-এর বাবা মো: আজাদুল ইসলাম। অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. রেজাউল করিম এবং জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য সংগঠনের জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদা জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, আমৃত্যু তার ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদেরকে আকৃষ্ট করে, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের বিজয়কে রোধ করতে পারবে না।’ উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করেন।

কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধানের আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগঠনের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা কার্যকরী পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।’

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়। বিজ্ঞপ্তি