ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ: রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ৫০ বার পড়া হয়েছে

মুজাহিদুল ইসলাম: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিসের দিকে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন “সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”, “শিক্ষার্থীদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “ভিসির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন” এসব শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী কলেজ চত্বর। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ সরকার বলেন, “যেভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফি বাড়িয়েছে, সেভাবে শিক্ষার মান বাড়েনি। শুধু ফি বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রক্ত চোষার মতো আচরণ করা হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে এটি আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং ‘জাতীয় বাণিজ্য বিশ্ববিদ্যালয়’ হয়ে গেছে।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এই হিসাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা, অথচ কলেজগুলোকে প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ কোটি টাকা।

রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম বলেন, “বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ে। অথচ শিক্ষার্থীর পেছনে মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৭৯৫ টাকা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর সরকারকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি ভ্যাট প্রদান করে। এত কম বরাদ্দে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। সংস্কারের নামে আমাদের ওপর বাড়তি ফি চাপানো হয়েছে। তারা আরও জানান, ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের গড় মাসিক আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। এই আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান ফি কাঠামো একেবারেই অযৌক্তিক ও অসম্ভব বোঝা।

এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় রাজশাহী অঞ্চলের অধিভুক্ত সব কলেজের শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সংখ্যা বর্তমানে ২২০০–এর বেশি। এসব কলেজে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশের উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে বড় এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সেশনজট ও আর্থিক জটিলতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষা নয়, এখন চলছে আর্থিক শোষণের এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ: রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মুজাহিদুল ইসলাম: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী কলেজে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিসের দিকে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন “সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”, “শিক্ষার্থীদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “ভিসির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন” এসব শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী কলেজ চত্বর। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ সরকার বলেন, “যেভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফি বাড়িয়েছে, সেভাবে শিক্ষার মান বাড়েনি। শুধু ফি বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রক্ত চোষার মতো আচরণ করা হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে এটি আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং ‘জাতীয় বাণিজ্য বিশ্ববিদ্যালয়’ হয়ে গেছে।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এই হিসাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা, অথচ কলেজগুলোকে প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ কোটি টাকা।

রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম বলেন, “বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ে। অথচ শিক্ষার্থীর পেছনে মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৭৯৫ টাকা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর সরকারকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি ভ্যাট প্রদান করে। এত কম বরাদ্দে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। সংস্কারের নামে আমাদের ওপর বাড়তি ফি চাপানো হয়েছে। তারা আরও জানান, ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের গড় মাসিক আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। এই আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান ফি কাঠামো একেবারেই অযৌক্তিক ও অসম্ভব বোঝা।

এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় রাজশাহী অঞ্চলের অধিভুক্ত সব কলেজের শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সংখ্যা বর্তমানে ২২০০–এর বেশি। এসব কলেজে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশের উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে বড় এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সেশনজট ও আর্থিক জটিলতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষা নয়, এখন চলছে আর্থিক শোষণের এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।