বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছড়াছড়ি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
সূত্র জানায়, নতুন কমিটির সভাপতি পদে থাকা মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়কালে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলটির পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমের উপস্থিতিতে একাধিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের সুদৃষ্টিতে থাকায় তাকে সব সময় সমীহ করত ছাত্রলীগের নেতারা।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আব্দুল্লাহ আল ফাহিদও ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে দলবল নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। নির্বাচনের সময় নৌকার লিফলেট বিতরণ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তার সবর উপস্থিতি ছিল।
এছাড়া সাবেক মন্ত্রী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শেবামেক ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ, ফাইয়ান আলম ফাহিম, শোভন দেব দত্ত, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হাকিম আদিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগীব মাহফুজ, শাওন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হক শান্ত, সিয়াম হোসেন, শেখ আসিফ হাসান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এন এম রোহান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক তীর্থ মণ্ডল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিসান হোসেন আল দ্বীনকে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার করেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে শেবামেক শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্সকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, তিনি ক্লাসে রয়েছেন এখন কথা বলতে পারবেন না। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কলেজের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বার বার ফোনের লাইন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সাকিবুল হক রাসেল আমার দেশকে বলেন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো কমিটি দিতে পারেন না। অবশ্যই বরিশাল মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের সাইনিং পাওয়ার থাকা নেতারা নতুন কমিটির বিষয়ে জানেন বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বরিশালে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভাব নেই। ত্যাগী নেতারা কোনো ব্যক্তির হয় না, তারা দলের সম্পদ। এ কারণে ব্যক্তি পছন্দের কাছে বার বার তারা হেরে যান। ব্যক্তি পছন্দের কারণে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে ছাত্রলীগের নেতাদের সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন কমিটিতে। এর দায়ভার বরিশাল মহানগর বিএনপি কিংবা ছাত্রদলের নেতারা এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি আমার দেশকে বলেন, বিগত দিনগুলোতে শেবামেক ছাত্রদল বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের অধীনে ছিল। কমিটি হলেও তা মহানগর নেতারা যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি দিয়েছেন। তবে এবারই প্রথম কেন্দ্র থেকে সরাসরি কমিটি ঘোষণা করেছে। নতুন কমিটিতে যারা এসেছেন তাদের বিষয়ে তিনি অবগত নন। কমিটিতে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করা হলে তার দায়ভার বরিশাল মহানগর কমিটির নেতারা নেবে না।
এদিকে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, শেবামেকের কমিটি পুনর্গঠন বিষয়ে টিম প্রধান ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দীপু পটোয়ারী। তার নেতৃত্বেই ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।





















